ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের প্রধান মাউসার ল্যারি দ্য ক্যাটের ১৫ বছরের গৌরবময় সেবা

সম্পাদনা করেছেন: Katerina S.

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের অত্যন্ত পরিচিত মুখ ল্যারি দ্য ক্যাট তার কর্মজীবনের এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে। ২০২৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি এই বিড়ালটি 'চিফ মাউসার টু দ্য ক্যাবিনেট অফিস' হিসেবে তার সেবার ১৫ বছর পূর্ণ করবে। ২০১১ সালে ডেভিড ক্যামেরন এবং নিক ক্লেগের নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন সরকারের সময় ল্যারি প্রথম এই ঐতিহাসিক বাসভবনে পা রেখেছিল। তার আগমন ছিল ব্রিটিশ রাজনীতির এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা, যা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

দীর্ঘ দেড় দশকের এই যাত্রায় ল্যারি মোট সাতজন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর শাসনকাল প্রত্যক্ষ করেছে। এই তালিকায় রয়েছেন ডেভিড ক্যামেরন, থেরেসা মে, বরিস জনসন, লিজ ট্রাস, ঋষি সুনাক এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে জন্ম নেওয়া ল্যারির বর্তমান বয়স ১৯ বছর, যা তাকে ডাউনিং স্ট্রিটের যেকোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী করে তুলেছে। মজার ব্যাপার হলো, ল্যারি কোনো ব্যক্তিগত পোষা প্রাণী নয়, বরং একজন সরকারি কর্মচারী বা সিভিল সার্ভেন্ট হিসেবে স্বীকৃত। ডেভিড ক্যামেরনের মতে, এই বিশেষ মর্যাদাই নিশ্চিত করে যে রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তন হলেও ল্যারি তার বাসভবনেই অবস্থান করবে।

ল্যারির রাজকীয় জীবনের শুরু হয়েছিল 'ব্যাটারসি ডগস অ্যান্ড ক্যাটস হোম' নামক একটি প্রাণী আশ্রয়কেন্দ্র থেকে। মূলত ওয়েস্টমিনিস্টারের ঐতিহাসিক ভবনে ইঁদুরের উপদ্রব কমানোর কঠিন দায়িত্ব দিয়ে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে সময়ের সাথে সাথে তার কাজের পরিধি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ইঁদুর ধরার প্রাথমিক কাজের পাশাপাশি অতিথিদের অভ্যর্থনা জানানো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করা এবং প্রাচীন আসবাবপত্র ঘুমানোর জন্য কতটা আরামদায়ক তা পরীক্ষা করাও তার দাপ্তরিক দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত বলে ক্যাবিনেট অফিসের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে।

ল্যারির জনপ্রিয়তা কেবল ডাউনিং স্ট্রিটের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা সামাজিক ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ২০১২ সালে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে ব্যাটারসি আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বিড়াল দত্তক নেওয়ার হার প্রায় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, ল্যারি কেবল একটি বিড়াল নয়, বরং প্রাণী কল্যাণের ক্ষেত্রে এক অনানুষ্ঠানিক শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করছে। তার উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রাণীদের প্রতি মমত্ববোধ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

ল্যারি তার শান্ত স্বভাব এবং সক্রিয় শিকারের চেয়ে দীর্ঘক্ষণ ঘুমকে বেশি প্রাধান্য দেওয়ার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছে। ব্রিটিশ রাজনীতির অস্থির সময়ে, যখন একের পর এক নেতা পরিবর্তিত হয়েছেন, তখন ল্যারি ওয়েস্টমিনিস্টারের স্থিতিশীলতা এবং ধারাবাহিকতার এক অনন্য প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্রেক্সিটের মতো বড় রাজনৈতিক ঘটনা এবং একাধিক প্রধানমন্ত্রীর নাটকীয় বিদায়ের মাঝেও ল্যারি তার অবস্থানে অটল থেকেছে, যা তাকে ব্রিটিশ জনগণের কাছে এক বিশ্বস্ত চরিত্রে পরিণত করেছে।

২০২৫ সালের জুলাই মাসে এক রাষ্ট্রীয় সফরের সময় ল্যারির জনপ্রিয়তা আবারও বিশ্ববাসীর সামনে প্রমাণিত হয়। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের উপস্থিতিতে চ্যান্সেলর অফ দ্য এক্সচেকার র‍্যাচেল রিভস ল্যারিকে 'ডাউনিং স্ট্রিটের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব' হিসেবে অভিহিত করেন। এই মন্তব্যটি ল্যারির প্রতি সাধারণ মানুষ এবং উচ্চপদস্থ রাজনীতিবিদদের গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধারই বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।

ঐতিহাসিকভাবে ১৬শ শতাব্দী থেকেই ব্রিটিশ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে বিড়াল রাখার প্রচলন ছিল, তবে ল্যারিই প্রথম বিড়াল যাকে ২০১১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে 'চিফ মাউসার' উপাধি প্রদান করা হয়। মানুষের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার যেখানে অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী, সেখানে ল্যারির দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতি এক চমৎকার বৈপরীত্য তৈরি করেছে। ডাউনিং স্ট্রিটের কর্মীরা নিশ্চিত করেছেন যে, ল্যারি এখনো সুস্বাস্থ্যের অধিকারী এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঝোড়ো হাওয়ার মাঝেও সে এক প্রশান্তির নোঙর হিসেবে তার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

8 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • SiOL

  • Larry (cat) - Wikipedia

  • YouTube

  • The Express Tribune

  • Reddit

  • AP News

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।