জাপানে ছারপোকা দমনে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত কুকুরের ব্যবহার বৃদ্ধি
সম্পাদনা করেছেন: Katerina S.
জাপানের আতিথেয়তা খাতে বর্তমানে এক বিশেষ ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারীর দীর্ঘ স্থবিরতা কাটিয়ে যখন আন্তর্জাতিক পর্যটন পুনরায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে, ঠিক তখনই দেশটিতে ছারপোকার উপদ্রব এক নতুন সংকটের জন্ম দিয়েছে। হোটেলগুলোতে এই পোকামাকড়ের উপস্থিতি কেবল পর্যটকদের অস্বস্তির কারণ হচ্ছে না, বরং এটি আবাসিক এলাকাগুলোতেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এই ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ নিরসনে জাপানি বিশেষজ্ঞরা এখন বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত কুকুরের ঘ্রাণশক্তিকে কাজে লাগাচ্ছেন, যা এই ক্ষুদ্র শত্রু দমনে এক বৈপ্লবিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই কুকুরগুলোর কার্যকারিতা এতটাই নিখুঁত যে তারা প্রায় ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে নির্ভুলভাবে ছারপোকার উপস্থিতি শনাক্ত করতে পারে। একটি হোটেলের কক্ষের প্রতিটি কোণ, বিশেষ করে তোষকের ভাঁজ, আসবাবপত্রের সূক্ষ্ম ছিদ্র বা কাঠের খাঁজগুলো মানুষের পক্ষে পরীক্ষা করা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ। যেখানে একজন পরিদর্শককে একটি কক্ষ পরীক্ষা করতে দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হয়, সেখানে এই প্রশিক্ষিত কুকুরগুলো মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুরো কাজ শেষ করে ফেলে। উদাহরণস্বরূপ, একটি ৯০ কক্ষের বিশাল হোটেল যদি হাতে-কলমে পরীক্ষা করতে হয়, তবে প্রতিটি আসবাবপত্র সরাতে এবং পরীক্ষা করতে কয়েক দিন লেগে যেতে পারে। কিন্তু একটি কুকুর মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে নির্দিষ্ট আক্রান্ত স্থানটি চিহ্নিত করে দিতে পারে, যা হোটেল মালিকদের জন্য অত্যন্ত সাশ্রয়ী এবং কার্যকর।
জাপান পেস্ট কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশন তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে ছারপোকা সংক্রান্ত অভিযোগের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক যাতায়াত বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে এই সমস্যাটি আরও প্রকট হয়েছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে আরেকটি বৈজ্ঞানিক চ্যালেঞ্জ; ২০০০ সালের পর থেকে দেখা গেছে যে ছারপোকাগুলো প্রচলিত ‘পাইরেথ্রয়েড’ (pyrethroid) জাতীয় কীটনাশকের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করেছে। ফলে সাধারণ রাসায়নিক প্রয়োগে এদের নির্মূল করা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা নতুন ও আধুনিক শনাক্তকরণ পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
পর্যটকদের লাগেজের মাধ্যমে এই ছারপোকাগুলো এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে অনায়াসেই পাড়ি জমাচ্ছে, যা বিশ্বব্যাপী একটি সাধারণ সমস্যায় পরিণত হয়েছে। জাপানের মতো একই ধরনের পরিস্থিতি সম্প্রতি যুক্তরাজ্যেও লক্ষ্য করা গেছে। এই জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় এবং দ্রুত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে টোকিও ভিত্তিক বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ‘আসান্তে ইনকর্পোরেটেড’ (Asante Inc.) তাদের কিউবাইন বা কুকুর বাহিনীকে সম্প্রসারিত করছে। তারা নতুন নতুন কুকুর এবং তাদের প্রশিক্ষকদের কঠোর প্রশিক্ষণের আওতায় আনছে, যাতে তারা যেকোনো বড় আকারের হোটেল বা বাণিজ্যিক ভবনে দ্রুত তল্লাশি চালিয়ে ছারপোকার উৎস খুঁজে বের করতে পারে।
ছারপোকার মতো ক্ষতিকারক পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে কুকুরের মাধ্যমে শনাক্তকরণের এই পদ্ধতিটি জাপানের পর্যটন শিল্পের জন্য একটি রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করছে। এটি কেবল একটি কার্যকর প্রযুক্তিগত সমাধানই নয়, বরং আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে জাপানের পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তার সুনাম বজায় রাখার একটি অন্যতম মাধ্যম। এই ধরনের উদ্ভাবনী এবং নির্ভুল পদ্ধতির প্রয়োগ নিশ্চিত করছে যে, জাপান তার পর্যটন খাতকে যেকোনো ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে মুক্ত রাখতে এবং একটি নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
1 দৃশ্য
উৎসসমূহ
The Independent
Yahoo News Singapore
Reddit
JTB Tourism Research & Consulting Co.
UN Tourism
Canon MJ
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
