২০২৬ সালের ৬ই জানুয়ারি মঙ্গলবার, প্যারিসে ‘ইচ্ছুক জোট’-এর প্রায় ৩৫টি রাষ্ট্র এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চূড়ান্ত করতে একত্রিত হয়েছিলেন। এই নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতিগুলি রাশিয়ার সাথে ভবিষ্যতে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের উপর স্পষ্টভাবে নির্ভরশীল। এই শীর্ষ সম্মেলনটি পূর্ববর্তী সপ্তাহান্তে কিয়েভে অনুষ্ঠিত জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের প্রস্তুতিমূলক বৈঠকের পরে অনুষ্ঠিত হয়।
ইউক্রেনীয় রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি, ফরাসি রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার যুদ্ধোত্তর সময়ে বহুজাতিক বাহিনী মোতায়েন সংক্রান্ত একটি ত্রিদেশীয় ‘উদ্দেশ্য ঘোষণা’য় স্বাক্ষর করেন। রাষ্ট্রপতি ম্যাক্রোঁ ঘোষণা করেন যে ‘প্যারিস ঘোষণা’ নিশ্চিত করে যে শান্তি ইউক্রেনের আত্মসমর্পণ বা রাশিয়া থেকে নতুন হুমকির সমতুল্য হবে না। এই ঘোষণাপত্রে জোটের সদস্য, ইউক্রেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শক্তিশালী নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতিগুলি সম্পর্কে একটি ‘কার্যকরী অভিসৃতি’ (operational convergence) স্বীকৃত হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি প্রধান কাজা কাল্লাস স্বাক্ষরের পরে জোর দেন যে রাশিয়াকে নতুন আগ্রাসন থেকে বিরত রাখার জন্য যুদ্ধের পরে ইউক্রেনের ব্যাপক নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্রয়োজন।
মার্কিন প্রতিনিধি, যার মধ্যে বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, নতুন নিরাপত্তা প্রোটোকলগুলির জন্য দৃঢ় মার্কিন সমর্থন নিশ্চিত করেছেন। এই চুক্তিগুলি মিত্রদের দীর্ঘমেয়াদী সামরিক সহায়তা, অস্ত্র সরবরাহ এবং যুদ্ধবিরতির পরে সেনাবাহিনীর পুনর্গঠন ও দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরোধে সহায়তার জন্য একটি ‘ইউক্রেনের জন্য বহুজাতিক বাহিনী’ (Multinational Force for Ukraine) প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেয়। এই বাহিনী সক্রিয় যুদ্ধে অংশ নেবে না, বরং যুদ্ধবিরতির পরে শান্তি বজায় রাখার জন্য একটি ‘আশ্বস্তকারী বাহিনী’ (reassurance force) হিসাবে বিবেচিত হবে। রাষ্ট্রপতি ম্যাক্রোঁ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ফরাসি সৈন্যরা হাজার হাজার সংখ্যায় এই বাহিনীর অংশ হতে পারে, যা সুরক্ষিত সরঞ্জাম সংরক্ষণের জন্য সামরিক ‘হাব’ স্থাপনের সম্ভাবনা তৈরি করে। যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্স যুদ্ধোত্তর সময়ে সুরক্ষিত অস্ত্রাগার এবং সামরিক পুনর্জন্মের জন্য ইউক্রেন জুড়ে ‘সামরিক হাব’ স্থাপনের পরিকল্পনা করছে।
প্রতিশ্রুতিগুলির মধ্যে সামরিক সক্ষমতা, গোয়েন্দা তথ্য, লজিস্টিক সহায়তা এবং লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে রাশিয়ার উপর আরও নিষেধাজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। চুক্তিগুলিতে প্রশিক্ষণ এবং যৌথ শিল্প উৎপাদন সহ দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গভীর করার রূপরেখা রয়েছে। মিত্ররা সম্মত হয়েছে যে ভবিষ্যতে যেকোনো যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণের প্রক্রিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্ব দেবে। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জ পরামর্শ দিয়েছেন যে জার্মানি বাহিনীতে অবদান রাখতে পারে, তবে তা ইউক্রেনের বাইরে ন্যাটো-সংলগ্ন এলাকায় মোতায়েন থাকবে। স্পেন, রাষ্ট্রপতি পেদ্রো সানচেজের প্রতিনিধিত্বে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে শান্তি মিশনে অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
মার্কিন প্রতিনিধিদলের ৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে ইউক্রেনের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল, যার লক্ষ্য ছিল আরও গতি তৈরি করা। এই কাঠামো ১৯৯৪ সালের বুদাপেস্ট মেমোরেন্ডামের অপর্যাপ্ত আশ্বাস থেকে ভিন্ন, যা ইউক্রেন পুনরায় আক্রান্ত হলে বাধ্যতামূলক প্রতিশ্রুতি প্রদান করে। মার্কিন প্রতিশ্রুতিতে পূর্ণ ন্যাটো-শৈলীর প্রতিরক্ষা ধারার সদস্যপদ অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে আক্রান্ত হলে বাধ্যতামূলক সমর্থন রয়েছে। এই নিশ্চয়তাগুলি ইউক্রেনের আত্মরক্ষার সক্ষমতা নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জোটের সদস্যরা মনে করেন, যা ইউক্রেন এবং ইউরো-আটলান্টিক সম্মিলিত নিরাপত্তার ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য।




