
Board of Peace - দাভোসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগ
শেয়ার করুন
লেখক: Aleksandr Lytviak

Board of Peace - দাভোসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগ
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (WEF) বার্ষিক সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প 'বোর্ড অফ পিস' (Board of Peace) নামক একটি নতুন আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। এই সংস্থাটির প্রধান লক্ষ্য হলো বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখা। মূলত ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে গাজা উপত্যকার সংকট নিরসনে ট্রাম্প যে ২০-দফা পরিকল্পনা পেশ করেছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় এই পরিষদের জন্ম। উল্লেখ্য যে, ট্রাম্পের সেই পরিকল্পনাটি ২০২৫ সালের নভেম্বরে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর রেজোলিউশনের মাধ্যমে স্বীকৃতি লাভ করেছিল। এই পরিকল্পনার আওতায় গাজাকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ, হামাসকে বিলুপ্ত করা এবং জিম্মিদের দেহাবশেষ ফিরিয়ে আনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ট্রাম্পের লক্ষ্য হলো গাজাকে একটি আধুনিক পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর করা, যা দুবাই বা আবুধাবির মতো সমৃদ্ধ হবে। ট্রাম্প এই পরিষদকে জাতিসংঘের একটি বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, কারণ তার মতে জাতিসংঘ তার মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়েছে।
২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি এই পরিষদের সনদ স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে এই সনদে প্রথম স্বাক্ষর করেন এবং তার সাথে বিশ্বের ২০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিরা এই নতুন সংস্থায় যোগ দেন। স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে আর্জেন্টিনা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহরাইন, বুলগেরিয়া, হাঙ্গেরি, জর্ডান, কাজাখস্তান, কাতার, কসোভো, ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, মঙ্গোলিয়া, পাকিস্তান, প্যারাগুয়ে, সৌদি আরব, তুরস্ক, উজবেকিস্তান, মিশর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ঐতিহ্যবাহী মিত্র যেমন যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, নরওয়ে এবং সুইডেন এই উদ্যোগ থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার এই পরিষদের অস্পষ্ট ম্যান্ডেট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, ফ্রান্স এই সংস্থাকে জাতিসংঘের সমান্তরাল একটি ব্যবস্থা হিসেবে মনে করায় ট্রাম্প ফরাসি ওয়াইনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দেন, যদিও তা শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। কানাডা এই উদ্যোগকে সমর্থন করলেও স্থায়ী সদস্যপদের জন্য নির্ধারিত ১ বিলিয়ন ডলারের ফি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। প্রায় ৬০টি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, যার মধ্যে রাশিয়াও ছিল, যা পশ্চিমা নেতাদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করে।
বোর্ড অফ পিস-এর সনদটি ১৩টি অধ্যায় এবং একটি প্রস্তাবনার সমন্বয়ে গঠিত, যা 'দ্য টাইমস অফ ইসরায়েল'-এ বিস্তারিতভাবে প্রকাশিত হয়েছে। এই সনদে সংস্থাকে একটি 'নমনীয় এবং কার্যকর' শান্তি বিনির্মাণ কাঠামো হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এটি মূলত সংঘাতপূর্ণ এলাকায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং শাসন ব্যবস্থা পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে। সনদের প্রধান দিকগুলো নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:
সমালোচকরা এই নতুন সংস্থাকে ট্রাম্পের একটি 'পেইড ক্লাব' বা অর্থের বিনিময়ে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম হিসেবে বর্ণনা করেছেন, কারণ এখানে ক্ষমতার ব্যাপক কেন্দ্রীকরণ এবং বিশাল আর্থিক শর্তাবলী রয়েছে। যদিও জাতিসংঘ ২০২৭ সাল পর্যন্ত গাজায় এই পরিষদের কার্যক্রমকে অনুমোদন দিয়েছে, তবে তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে এটি জাতিসংঘের কোনো আনুষ্ঠানিক অঙ্গ নয়। বোর্ড অফ পিস-এর সাফল্য শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে এর তহবিল সংগ্রহের সক্ষমতা এবং গাজার বাইরে অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংকটে এর কার্যকারিতা প্রমাণের ওপর। তবে পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে বিদ্যমান সংশয় এবং অনীহা এই সংস্থার বৈশ্বিক প্রভাবকে সীমিত করতে পারে বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন।
nbcnews
Reuters