ইউক্রেনের অধিকৃত অঞ্চলে মানবাধিকার লঙ্ঘন: জাতিসংঘে রেজোলিউশন গৃহীত, চীনের ভোট বিপক্ষে
সম্পাদনা করেছেন: gaya ❤️ one
২০২৫ সালের ১৮ই ডিসেম্বর, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে (UN General Assembly) রাশিয়ার দ্বারা ইউক্রেনের সাময়িকভাবে দখলকৃত অঞ্চলসমূহে মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করে একটি বার্ষিক রেজোলিউশন গৃহীত হয়েছে। এই প্রস্তাবে ৭৯টি সদস্য রাষ্ট্র পক্ষে ভোট দেয়, যেখানে ১৬টি দেশ বিপক্ষে এবং ৭৩টি রাষ্ট্র ভোটদানে বিরত থাকে। এই রেজোলিউশনটি ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানার মধ্যে এর আঞ্চলিক অখণ্ডতা পুনর্ব্যক্ত করে এবং রাশিয়ার সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করে সমস্ত সৈন্য প্রত্যাহারের দাবি জানায়।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা (Andriy Sybiha) এই নথিটিকে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের মাত্রা বৃদ্ধি করার এবং অপরাধীদের জবাবদিহিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরার একটি মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এই বছর গৃহীত নথিতে জোরপূর্বক গুম এবং নির্যাতনের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ওপর বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের অনুসন্ধানের ভিত্তিতে নিশ্চিত হয়েছে। রেজোলিউশনটিতে দখলদার কর্তৃপক্ষের দ্বারা স্থানীয় জনগণের ওপর পদ্ধতিগত নির্যাতনের উপর আলোকপাত করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সামরিকীকরণ, দখলকৃত অঞ্চলে স্থানীয় বাসিন্দাদের রুশ সশস্ত্র বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের ওপর নিপীড়ন এবং বিশেষত ক্রিমিয়াতে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধ্বংসসাধন।
এই নথিটি আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের অনুসন্ধানের ওপর নির্ভর করে, যা কেবল অধিকৃত অঞ্চলেই নয়, রাশিয়ার অভ্যন্তরেও জোরপূর্বক গুম এবং নির্যাতনের ঘটনা নিশ্চিত করেছে। উপরন্তু, আটককৃত ইউক্রেনীয়দের ভাগ্য সম্পর্কে তথ্য প্রদানে রাশিয়ার ধারাবাহিক অস্বীকৃতির নিন্দা করা হয়েছে এবং অবিলম্বে সেই তথ্য প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে। ইউক্রেন ২০১৬ সাল থেকে বার্ষিকভাবে এই রেজোলিউশনটি উত্থাপন করে আসছে, যা আন্তর্জাতিক চাপ বজায় রাখা এবং সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের নথিভুক্তির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়।
চীন এই গুরুত্বপূর্ণ ভোটাভুটিতে বিপক্ষে ভোট দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে ছিল, যা পূর্ববর্তী বছরগুলোর অবস্থানের সঙ্গে তুলনীয়। বিপক্ষে ভোট দেওয়া দেশগুলোর তালিকায় রাশিয়া, বেলারুশ, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান, কিউবা এবং নিকারাগুয়াসহ অন্যান্যরা ছিল। পূর্ববর্তী বছরগুলোতে, যেমন ২০২২ সালের প্রস্তাবে ১৪১টি দেশ পক্ষে ভোট দিয়েছিল, সেখানে বিপক্ষে ছিল মাত্র পাঁচটি। এই বছরের ভোটের পরিসংখ্যান—৭৯ পক্ষে, ১৬ বিপক্ষে এবং ৭৩ বিরত—একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য রাষ্ট্রের নিরপেক্ষ অবস্থান বা ভোটদানে বিরত থাকার প্রবণতা নির্দেশ করে, যা বৈশ্বিক মঞ্চে এই নির্দিষ্ট নথির বিষয়ে ঐকমত্যের অভাবকে প্রতিফলিত করে।
যদিও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত রেজোলিউশনগুলোর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই, এগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে মনোভাবের অভিব্যক্তি হিসেবে কাজ করে। এই রেজোলিউশনটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পথে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
53 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Deutsche Welle
Ukrainian National News (UNN)
Ukrinform
UN Meetings Coverage and Press Releases
Andrii Sybiha - Wikipedia
Kyiv Post
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
