রাশিয়ান ফেডারেশনের বিচার মন্ত্রণালয় গত ২০২৫ সালের ২৮শে নভেম্বর আমেরিকান মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW)-কে 'অবাঞ্ছিত সংস্থাগুলির' তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই সিদ্ধান্তটি মূলত ২০১৫ সালের ফেডারেল আইনের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। এর ফলস্বরূপ, রাশিয়ার ভূখণ্ডে এইচআরডব্লিউ-এর যেকোনো ধরনের কার্যকলাপ এখন ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই পদক্ষেপটি দেশের অভ্যন্তরে নাগরিক সমাজ এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের ওপর মস্কোর ক্রমবর্ধমান নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রক্রিয়ার একটি নতুন সংযোজন মাত্র।
১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বিশ্বজুড়ে ৭০টিরও বেশি দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নথিভুক্ত করার কাজ করে আসছে। সংস্থাটি ১৯৯২ সাল থেকে রাশিয়ায় সক্রিয় ছিল। তবে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সংঘাত শুরু হওয়ার পর, তারা মস্কোতে একটি কার্যালয় খুলে রাশিয়ান সেনাবাহিনীর কার্যকলাপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও লিপিবদ্ধ করার ওপর জোর দেয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সরকারিভাবে নিষিদ্ধ হওয়ার মাত্র কিছুদিন আগে, গত ২০২৫ সালের ১০ই নভেম্বর, এইচআরডব্লিউ নিজেরাই রাশিয়ায় তাদের কার্যক্রম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
যে সকল রাশিয়ান নাগরিক এইচআরডব্লিউ-এর সাথে সহযোগিতা করেন, তাদের জন্য এই নিষেধাজ্ঞার পরিণতি অত্যন্ত গুরুতর। আইন অনুযায়ী, এই ধরনের সংস্থার সাথে যুক্ত থাকার জন্য প্রথমে প্রশাসনিক শাস্তি হতে পারে, কিন্তু যদি কেউ পুনরাবৃত্তি করে বা আর্থিক সহায়তা প্রদান করে, তবে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রুজু হতে পারে। বিশেষত, 'অবাঞ্ছিত সংস্থা'-র কার্যকলাপ সংগঠিত করার দায়ে ছয় বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। বর্তমানে, রাশিয়ার 'অবাঞ্ছিত' সংস্থার তালিকায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল এবং ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড (WWF)-এর মতো প্রতিষ্ঠানসহ মোট ২৭৫টিরও বেশি সংস্থার নাম রয়েছে।
এইচআরডব্লিউ-এর এশিয়ার কার্যনির্বাহী পরিচালক ফিলিপ ব্যালৌ এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন যে এই নিষেধাজ্ঞা প্রমাণ করে যে রাশিয়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড গ্রহণ করতে প্রস্তুত নয়। তাঁর মতে, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো যুদ্ধাপরাধ নথিভুক্ত করা বন্ধ করা এবং ভিন্নমতকে দমন করা। এর আগেও, ২০২২ সালে, রাশিয়ার প্রসিকিউটর জেনারেলের অনুরোধে রোসকমনাডজর ইউক্রেনে বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের তথ্য প্রচারের অভিযোগে সংস্থাটির ওয়েবসাইট ব্লক করে দিয়েছিল।
২০১৫ সালে গৃহীত আইনি কাঠামোটি এমন বিদেশী ও আন্তর্জাতিক এনজিওগুলিকে 'অবাঞ্ছিত' ঘোষণা করার অনুমতি দেয়, যা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামো, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বা নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে বলে মনে করা হয়। এই আইনের অধীনে পূর্বে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো সংগঠনগুলির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। রাশিয়ার নাগরিকদের জন্য আইনি জটিলতাগুলির মধ্যে রয়েছে 'অবাঞ্ছিত সংস্থা'-র প্রচারমূলক সামগ্রী সংরক্ষণ করা এবং যদি তা নিষিদ্ধ কাঠামোর জন্য আর্থিক পরিষেবা হিসেবে বিবেচিত হয়, তবে ব্যাংকিং লেনদেনে বাধা সৃষ্টি হওয়া।



