৫০ বছরেরও বেশি সময় পর চাঁদে প্রথম মানববাহী অভিযান: ২০২৬ সালের ৬ মার্চ শুরু হচ্ছে আর্টেমিস ২ মিশন
লেখক: Tatyana Hurynovich
ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NASA) আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালের ৬ মার্চকে আর্টেমিস ২ (Artemis II) মিশনের সম্ভাব্য উৎক্ষেপণের তারিখ হিসেবে ঘোষণা করেছে। গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটিই হতে যাচ্ছে চাঁদের কক্ষপথে প্রথম মানববাহী মহাকাশযান পরিক্রমা। ২০২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার কেনেডি স্পেস সেন্টারে দ্বিতীয় দফার 'ওয়েট ড্রেস রিহার্সাল' (WDR) সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করা হয়।
এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাটি ছিল মূলত একটি পূর্ণাঙ্গ মহড়া, যেখানে প্রকৃত উৎক্ষেপণ ছাড়াই রকেটে জ্বালানি ভরা থেকে শুরু করে প্রাক-উৎক্ষেপণ প্রস্তুতির প্রতিটি ধাপ যাচাই করা হয়। এই পরীক্ষার সফল সমাপ্তি চন্দ্রাভিযানে মানুষের পুনরায় ফিরে যাওয়ার পথে একটি বড় মাইলফলক। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুতে প্রথম দফার পরীক্ষায় তরল হাইড্রোজেনের ছিদ্রজনিত যে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছিল, প্রকৌশলীরা এই দ্বিতীয় দফায় তা সফলভাবে কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছেন। গ্রাউন্ড সাপোর্ট ইকুইপমেন্টের দুটি সিল এবং ফিল্টার পরিবর্তনের মাধ্যমে ত্রুটি সারিয়ে স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (SLS) রকেটে ৭,০০,০০০ গ্যালনেরও বেশি তরল প্রপেল্যান্ট বা জ্বালানি সফলভাবে পূর্ণ করা হয়েছে।
এবারের কাউন্টডাউন বা চূড়ান্ত গণনা টি-২৯ (T-29) সেকেন্ড পর্যন্ত পৌঁছেছিল এবং হাইড্রোজেনের ঘনত্বও সম্পূর্ণ নিরাপদ সীমার মধ্যে ছিল, যা মেরামত কাজের নিখুঁত কার্যকারিতা প্রমাণ করে। নাসার ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি অ্যাডমিনিস্ট্রেটর লরি গ্লেজ জানিয়েছেন যে, আগামী সপ্তাহে রিহার্সালের ফলাফল বিস্তারিত বিশ্লেষণের পর সংস্থাটি মার্চ মাসে উৎক্ষেপণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেবে। নাসার অ্যাডমিনিস্ট্রেটর জ্যারেড আইজ্যাকম্যান এই অগ্রগতিকে চন্দ্রাভিযানে আমেরিকার প্রত্যাবর্তনের পথে একটি বিশাল পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আর্টেমিস ২ মিশনটি মূলত আর্টেমিস প্রোগ্রামের দ্বিতীয় পর্যায়, যার লক্ষ্য হলো চাঁদের চারপাশে ১০ দিনের একটি পরিকল্পিত ভ্রমণের মাধ্যমে গভীর মহাকাশে ওরিয়ন (Orion) মহাকাশযানের জীবন রক্ষাকারী ব্যবস্থার সক্ষমতা পরীক্ষা করা। এই মিশনটি আর্টেমিস ৩-এর জন্য একটি মহড়া হিসেবে কাজ করবে, যেখানে নভোচারীদের সরাসরি চাঁদের মাটিতে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এই অভিযানে অংশ নিচ্ছেন নাসার কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার এবং মিশন স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা কোচ। এছাড়াও কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সি (CSA) থেকে মিশন স্পেশালিস্ট হিসেবে জেরেমি হ্যানসেনের অন্তর্ভুক্তি এই অভিযানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্বকে তুলে ধরে।
২০২৬ সালের ৬ মার্চের এই তারিখটি নির্ধারণের ফলে মিশনের ক্রু এবং গ্রাউন্ড কন্ট্রোল টিমের জন্য কাজের একটি স্বচ্ছ সময়সীমা তৈরি হয়েছে। তবে নাসা একটি বিকল্প পরিকল্পনাও হাতে রেখেছে; যদি কোনো কারণে মার্চের সুযোগটি কাজে লাগানো না যায়, তবে ২০২৬ সালের এপ্রিলে পরবর্তী উৎক্ষেপণের সম্ভাব্য সময় রাখা হয়েছে। মিশনের ক্রু সদস্যরা ২০২৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে তাদের দুই সপ্তাহের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইন শুরু করবেন। এই অভিযানে তারা পৃথিবী থেকে এতটাই দূরে পাড়ি দেবেন, যা আগে কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব হয়নি। ২০১৭ সালে সূচিত আর্টেমিস প্রোগ্রামের মূল লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানববাহী মিশনের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করা।
4 দৃশ্য
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
