শীতকালে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও দেহের উষ্ণতা রক্ষায় পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস
সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova
পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা শীতকালে প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করার জন্য উষ্ণ ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। এই সময়ে শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ার কারণে সর্দি-কাশি, ফ্লু এবং অন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এই প্রতিকূলতা মোকাবিলার জন্য খাদ্যাভ্যাসে সুনির্দিষ্ট পরিবর্তন আনা অপরিহার্য, যেখানে কেবল উষ্ণতাই নয়, বরং প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ পদার্থের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখাও জরুরি।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য উপাদানগুলির মধ্যে ভিটামিন সি অন্যতম, যা শরীর নিজে তৈরি করতে পারে না, তাই খাদ্যের ওপর নির্ভর করতে হয়। কমলা, লেবু, পেয়ারা এবং আমলকীর মতো সাইট্রাস ফল এই ভিটামিনের চমৎকার উৎস, যা শরীরের কোষের ক্ষতি রোধ করে এবং রোগদমন তন্ত্রকে উন্নত করে। গবেষণায় দেখা গেছে, একটি মাঝারি আকারের কমলা প্রায় ৭০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি সরবরাহ করে, যা প্রাপ্তবয়স্ক নারীর দৈনিক চাহিদার (৭৫ মিলিগ্রাম) কাছাকাছি। এছাড়াও, টমেটো, ক্যাপসিকাম এবং স্ট্রবেরির মতো উজ্জ্বল রঙের ফল ও সবজিতে থাকা ফাইটোক্যামিকেলস, বিশেষত শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ক্ষতিকর কোষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তা করে।
শীতকালে সূর্যের আলো কম পাওয়ায় ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি একটি সাধারণ সমস্যা, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভিটামিন ডি হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষা করে এবং সংক্রমণ ও অটোইমিউন রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এই গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির উৎসগুলির মধ্যে রয়েছে স্যামন, ম্যাকেরেল এবং সার্ডিনের মতো চর্বিযুক্ত মাছ, যা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডও সরবরাহ করে। ডিমের কুসুম এবং কড লিভার অয়েলও ভিটামিন ডি-এর ভালো উৎস; একটি টেবিল চামচ কড লিভার অয়েল দৈনিক প্রস্তাবিত পরিমাণের চেয়ে বেশি ভিটামিন ডি সরবরাহ করতে পারে।
দেহের অভ্যন্তরীণ উষ্ণতা বজায় রাখার জন্য কিছু নির্দিষ্ট মশলা অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। আদা, দারুচিনি এবং মরিচের মতো মশলা থার্মোজেনিক উপাদান ধারণ করে, যা শরীরের রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে স্বাভাবিকভাবে তাপ উৎপন্ন করে। উদাহরণস্বরূপ, এক কাপ আদা চা পান করলে তাৎক্ষণিক উষ্ণতার অনুভূতি পাওয়া যায়। এছাড়াও, রসুন সর্দি-কাশি ও গলা ব্যথা উপশমে সহায়ক এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। খাসি ও গরুর মাংস শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, তবে পুষ্টিবিদরা অতিরিক্ত পরিমাণে রেডমিট গ্রহণের বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
পরিপাকতন্ত্রের স্বাস্থ্য শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ভিত্তি, তাই গাঁজন করা খাবার যেমন সাউরক্রাউট এবং দইয়ের মতো প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ অপরিহার্য। এই খাবারগুলি হজমক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং পুষ্টির শোষণ প্রক্রিয়াকে উন্নত করে। আঁশ বা ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার, যেমন ওটস, আপেল এবং বাদাম, ওজন ও কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক এবং ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, বিশেষ করে বয়স্কদের জন্য। গোটা শস্য, যেমন ওটস, রাগি, জোয়ার বা বাজরা ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করে, যা শরীরকে দীর্ঘ সময় ধরে উষ্ণ রাখতে সাহায্য করে।
ঠান্ডা এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্য সীমিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে; এর পরিবর্তে উষ্ণ পানীয় এবং পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা উচিত। মিষ্টি আলুর মতো কন্দজাত সবজি, যা ফাইবার, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম এবং আয়রন সমৃদ্ধ, হজম শক্তি বৃদ্ধি করে এবং শরীরকে ভেতর থেকে উষ্ণ রাখে। গুড় চিনির একটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প, কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন রয়েছে, যা রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সহায়ক এবং এটি ফুসফুস পরিষ্কারক হিসেবেও কাজ করে। সামগ্রিকভাবে, শীতকালে কেবল একটি নির্দিষ্ট খাবারের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন খাদ্যগোষ্ঠী থেকে বৈচিত্র্যময় ও ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস গ্রহণ করা উচিত, যা শরীরকে উষ্ণ রাখবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করবে।
13 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Plus jeden deň
Plus JEDEN DEŇ
Slovenská akadémia vied
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
