প্রথমবারের মতো মহাকাশে ভেসে থাকা গ্রহের ভর নির্ভুলভাবে পরিমাপ করলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা, গাইয়া মিশনের সমন্বিত পর্যবেক্ষণ সহায়ক

সম্পাদনা করেছেন: Uliana S.

𝗜𝗡𝗧𝗘𝗥𝗘𝗦𝗧𝗜𝗡𝗚: 𝗡𝗲𝘄 𝗥𝗼𝗴𝘂𝗲 𝗣𝗹𝗮𝗻𝗲𝘁 𝗗𝗶𝘀𝗰𝗼𝘃𝗲𝗿𝗲𝗱 Astronomers have uncovered a fascinating rogue planet wandering the galaxy without a host star, using gravitational microlensing—a method where the planet's gravity bends light from a distant star. This

Image
11
Reply

বিজ্ঞানীরা অবাক করা ভ্রমণকারী গ্রহ আবিষ্কার করেছেন, যার কোনো হোস্ট তারা নেই, মহাকর্ষীয় মাইক্রোলেন্সিং ব্যবহার করে — একটি পদ্ধতি যেখানে গ্রহটির মহাকর্ষ দূরের একটি তারা থেকে আলোকে বাঁকা করে।

আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের একটি দল প্রথমবারের মতো এমন একটি গ্রহের ভর সরাসরি এবং নির্ভুলভাবে পরিমাপ করতে সক্ষম হয়েছে, যা কোনো নির্দিষ্ট নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করে না, বরং মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই যুগান্তকারী সাফল্য, যার বিস্তারিত তথ্য ২০২৬ সালের জানুয়ারির শুরুতে 'সায়েন্স' জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে, এক্সোপ্ল্যানেট গবেষণার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল। এর ফলে এতদিন কেবল পরিসংখ্যানগত অনুমানের ওপর নির্ভরশীল গবেষণা এখন সরাসরি পরিমাপের দিকে মোড় নিচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণটি ঘটেছিল ২০২৪ সালের মে মাসে, এবং এটি দুটি ভিন্ন গ্রাউন্ড-বেসড সার্ভে দ্বারা KMT-2024-BLG-0792/OGLE-2024-BLG-0516 নামে চিহ্নিত হয়েছিল, যা প্রমাণ করে একাধিক জরিপ এটিকে শনাক্ত করেছিল।

এই মহাজাগতিক বস্তুটির অবস্থান আমাদের পৃথিবী থেকে প্রায় ১০,০০০ আলোকবর্ষ দূরে, ছায়াপথের কেন্দ্রের কাছাকাছি অঞ্চলে। বিজ্ঞানীরা যে প্রধান বাধা অতিক্রম করতে পেরেছেন, তা হলো তথাকথিত 'ভর-দূরত্ব অবক্ষয়' (mass-distance degeneracy) দূর করা। এই সমস্যাটি পূর্বে শনাক্ত হওয়া ভাসমান গ্রহ প্রার্থীদের সঠিক বৈশিষ্ট্য নির্ধারণে বাধা সৃষ্টি করত। বেইজিং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুবো ডং-এর নেতৃত্বে বিজ্ঞানীরা এক অভূতপূর্ব সুযোগ কাজে লাগান। তারা ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার (ESA) মহাকাশ টেলিস্কোপ গাইয়া (Gaia) এবং পৃথিবীর দুটি স্থলভিত্তিক টেলিস্কোপ KMTNet ও OGLE-এর সমন্বিত পর্যবেক্ষণ ব্যবহার করেন। এই ত্রিমুখী সমন্বয় মাইক্রোলেনসিং প্যারাল্যাক্স পরিমাপ করা সম্ভব করে তোলে, যা পৃথিবী এবং গাইয়া কক্ষপথের পর্যবেক্ষকদের অবস্থানের পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছিল।

এই 'গ্রহ-অনাথ'-এর সরাসরি পরিমাপ করা ভর শনির ভরের সঙ্গে তুলনীয়, যা বৃহস্পতির ভরের প্রায় ২২ শতাংশ বা পৃথিবীর প্রায় ৭০ গুণ। এই পরিমাণ ভর দৃঢ়ভাবে ইঙ্গিত দেয় যে বস্তুটি কোনো নক্ষত্রের চারপাশে প্রোটোপ্ল্যানেটারি ডিস্কে গঠিত হয়েছিল, এবং এটি কোনো বিশাল বাদামী বামন নক্ষত্রের মতো নিজে থেকে ধসে পড়েনি। অধ্যাপক সুবো ডং জোর দিয়ে বলেন যে এই ফলাফল তাত্ত্বিক মডেলগুলিকে সমর্থন করে, যা অনুসারে গ্যালাক্সিতে মহাকর্ষীয় মিথস্ক্রিয়ার ফলে তার নিজ নিজ ব্যবস্থা থেকে বিতাড়িত 'অরফান' এক্সোপ্ল্যানেটে পরিপূর্ণ।

ঐতিহাসিকভাবে, বিগত দশকে প্রায় এক ডজন ভাসমান গ্রহ প্রার্থী শনাক্ত করা হয়েছিল, কিন্তু তাদের সঠিক দূরত্ব নির্ণয় করা সম্ভব না হওয়ায় তাদের বৈশিষ্ট্যগুলি অনুমাননির্ভর ছিল। এই নতুন আবিষ্কার সেই অনিশ্চয়তাকে দূর করেছে, যা পূর্বে এই বস্তুগুলিকে এমন একটি ভর পরিসরে ফেলে রেখেছিল যেখানে তারা গ্রহ নাকি স্বল্প-ভরের বাদামী বামন—তা নিয়ে সংশয় ছিল। পৃথিবীর চেয়ে বেশি ভরের একটি বস্তুর গ্রহ হিসেবে নিশ্চিতকরণ এই ধারণাকে আরও শক্তিশালী করে যে মিল্কিওয়েতে নক্ষত্রের চেয়েও বেশি সংখ্যক ভাসমান গ্রহ থাকতে পারে।

এই জ্যোতির্বিজ্ঞানের শাখার ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল বলে মনে হচ্ছে, কারণ এই গবেষণায় সফলভাবে প্রয়োগ করা পদ্ধতিটি ভবিষ্যতের মিশনের জন্য স্কেল করা হবে। নাসা-র ন্যান্সি গ্রেস রোমান মহাকাশ টেলিস্কোপ, যা ২০২৬ সালের শেষ থেকে ২০২৭ সালের মে মাসের মধ্যে উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে, তার মাধ্যমে শত শত অনুরূপ গ্রহ আবিষ্কৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও, গণপ্রজাতন্ত্রী চীন 'আর্থ ২.০' নামে একটি মিশন তৈরি করছে, যা ২০২৮ সালে উৎক্ষেপণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোচ্ছে। এই মিশনেও মাইক্রোলেনসিং ব্যবহার করে ভাসমান গ্রহ অনুসন্ধান করা হবে তাদের অন্যতম প্রধান বৈজ্ঞানিক লক্ষ্য হিসেবে।

10 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • PLAYTECH.ro

  • R7 Notícias

  • Inside The Star-Studded World

  • Discover Magazine

  • Sci.News

  • Astronomy Magazine

  • Xinhua

  • Space Daily

  • Science

  • NASA

  • Universe Today

  • Tek Sapo

  • SWI swissinfo.ch

  • Wikipedia

  • ScienceDaily

  • Sci.News

  • Astronomy Magazine

  • Space Daily

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।