বর্তমান Shikhore front(insert)??
হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের বিখ্যাত কিলৌয়েয়া আগ্নেয়গিরির চূড়ায় দীর্ঘ এক বছর ধরে চলা ধারাবাহিক পর্বিক অগ্ন্যুৎপাত পর্বের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে। এই পর্বের শেষ বা ৩৯তম ঘটনাটি সমাপ্ত হয় ২০২৫ সালের ২৪শে ডিসেম্বর, যা ঘটেছিল হালেমাউমাউ জ্বালামুখের অভ্যন্তরে। হাওয়াইয়ান ভলকানো অবজারভেটরি (HVO) নিশ্চিত করেছে যে এই শেষ নথিভুক্ত পর্বটি শুরু হয়েছিল ২৩শে ডিসেম্বর, ২০২৫-এর শেষভাগে এবং তা প্রায় ৫.৯ ঘণ্টা স্থায়ী হওয়ার পর ২৪ তারিখ ভোর ২টা ১৩ মিনিটে (HST) কার্যকলাপ বন্ধ হয়ে যায়।
এই অগ্ন্যুৎপাতের সমাপ্তি স্পষ্ট হয়েছিল যখন উত্তর দিকের মুখটি প্রায় রাত ২টার দিকে কার্যকলাপ বন্ধ করে দেয়, এবং তার কিছুক্ষণ পরেই দক্ষিণ দিকের মুখটিও নিস্তব্ধ হয়ে যায়। এই সময়ে ভূমিকম্পজনিত কম্পন তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায় এবং চূড়ার ভূমি অবনমন (deflation) দ্রুতভাবে স্ফীতিতে (inflation) পরিবর্তিত হয়। যে ধারাবাহিক পর্বটি শুরু হয়েছিল ঠিক এক বছর আগে, অর্থাৎ ২০২৩ সালের ২৩শে ডিসেম্বর, তার বৈশিষ্ট্য ছিল বারবার তীব্র লাভা উদগীরণ, যার মাঝে বিরতি ছিল এক থেকে তিন সপ্তাহের। কিলৌয়েয়ার ক্ষেত্রে এই ধরনের কার্যকলাপ বিশেষভাবে বিরল; প্রায় ৪০ বছর ধরে এমন দৃশ্য দেখা যায়নি। এর পূর্বে মাত্র তিনটি এমন দৃষ্টান্ত নথিভুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ১৯৫৯ সালের কিলৌয়েয়া ইকি ঘটনা।
৩৯তম এই পর্বে দক্ষিণ দিকের মুখ থেকে উৎক্ষিপ্ত লাভা ফোয়ারা সর্বোচ্চ ১,৪০০ ফুট (৪২০ মিটার) উচ্চতায় পৌঁছেছিল। অন্যদিকে, উত্তর দিকের মুখ থেকে নির্গত ফোয়ারাগুলি ২৩শে ডিসেম্বর রাত ৯টা ৩০ মিনিটের দিকে প্রায় ১,০০০ ফুটের (২৮০ মিটার) নিচে ছিল। এই ঊনচল্লিশতম ফাউন্টিং ইভেন্টটি আনুমানিক ১৩ মিলিয়ন ঘন গজ, যা প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘন মিটারের সমতুল্য গলিত পদার্থ উৎপন্ন করেছিল। এই সময়ের গড় সম্মিলিত অগ্ন্যুৎপাতের হার প্রতি সেকেন্ডে ২৫০ ঘন ইয়ার্ড ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এর ফলে সৃষ্ট লাভা প্রবাহ কিলৌয়েয়া ক্যালডেরার অভ্যন্তরে অবস্থিত কালুয়াপেলের হালেমাউমাউ জ্বালামুখের তলদেশের প্রায় ৬০% থেকে ৭০% অংশকে আচ্ছাদিত করে ফেলেছিল।
এই পুরো এক বছরব্যাপী সময়কালে, ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (USGS) আগ্নেয়গিরির সতর্কীকরণ স্তর 'ওয়াচ' (WATCH) বজায় রেখেছিল এবং বিমান চলাচল সংক্রান্ত কোড ধারাবাহিকভাবে 'কমলা' (ORANGE) রাখা হয়েছিল। এর কারণ ছিল সমস্ত কার্যকলাপ হাওয়াই ভলকানোস ন্যাশনাল পার্কের অভ্যন্তরে চূড়া ক্যালডেরার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এই তীব্র ফাউন্টিং ইভেন্টগুলির সময় পেলেইস হেয়ার (Pele's hair) এবং টেফরা (tephরা) জমা হওয়ার বিপদ ছিল, যদিও বেশিরভাগ পদার্থই জ্বালামুখের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে অবস্থিত পার্কের বন্ধ এলাকায় পতিত হয়েছিল। ইউএকাহুনা টিল্টমিটার (UWD) এই পর্বে প্রায় ২৬.৩ মাইক্রোর্যাডিয়ানের অবনমনজনিত ঢাল রেকর্ড করেছিল, যা ভূগর্ভস্থ ম্যাগমার গতিবিধি পর্যবেক্ষণকারী HVO বিজ্ঞানীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিমাপক ছিল।
ডিসেম্বর ২০২৩-এর ২৩ তারিখ থেকে ডিসেম্বর ২০২৫-এর ২৪ তারিখ পর্যন্ত বিস্তৃত এই সম্পূর্ণ ধারাবাহিক পর্বটি চূড়ার ভূদৃশ্যকে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে ৪২ মিটার উচ্চতার একটি নতুন পুউ (পাহাড়) সৃষ্টি এবং ক্যালডেরার তলদেশ মোট ২২৩ ফুট (৬৮ মিটার) উপরে উঠে যাওয়া। যদিও অগ্ন্যুৎপাত আপাতত থেমেছে, HVO উল্লেখ করেছে যে জ্বালামুখের মেঝেতে জমে থাকা অবশিষ্ট লাভা শীতল ও কঠিন হওয়ার প্রক্রিয়ায় পরবর্তী দিনগুলিতে ধীর গতিতে নড়াচড়া বা আভাযুক্ত থাকতে পারে। এই আগ্নেয়গিরির ধারাবাহিক সক্রিয়তা হাওয়াই-সম্রাট সিমাউন্ট শৃঙ্খলে অবস্থিত কিলৌয়েয়াকে বিশ্বের অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি হিসেবে তার অবস্থানকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে।