কান্টো অঞ্চলে উষ্ণ আবহাওয়ায় চেরি ফুলের অকাল প্রস্ফুটন

সম্পাদনা করেছেন: Tetiana Martynovska

চেরি ফুলগুলো ফুটছে

২০২৬ সালের ১৯শে মার্চ টোকিওতে চেরি ফুলের মরসুমের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘোষিত হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদী গড়ের তুলনায় পাঁচ দিন এগিয়ে। জাপান আবহাওয়া সংস্থা কান্টো অঞ্চলে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে চলমান অস্বাভাবিক উষ্ণ আবহাওয়াকে এই দ্রুত প্রস্ফুটনের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই প্রাথমিক পুষ্পায়ন একটি বৃহত্তর জলবায়ু প্রবণতার ধারাবাহিকতা, যেখানে পশ্চিম জাপান জুড়েও চেরি ফুল দ্রুত উত্তর দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যা 'দ্রুতগামী চেরি ফুলের ফ্রন্ট' নামে পরিচিত।

Tokyo-এর চেরি ফুলগুলো আগে ফুটেছে, Yasukuni Shrine-এ উল্লাস ছড়ায়.

এই ঘটনাটি বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ চেরি ফুলের সময়কাল সরাসরি তাপমাত্রার প্রতি সংবেদনশীল। জাপান আবহাওয়া সংস্থার (জেএমএ) পূর্বাভাস পদ্ধতি মূলত অতীতের তাপমাত্রা এবং ফুলের তারিখের মধ্যেকার সম্পর্ককে কাজে লাগায়, যেখানে শরৎকাল থেকে পর্যবেক্ষণ করা তাপমাত্রা এবং পূর্বাভাসিত তাপমাত্রার উপর ভিত্তি করে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়। সাধারণত, বসন্তে তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পেলে ফুল তাড়াতাড়ি ফোটে, কিন্তু শরৎ ও শীতকালে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা থাকলে ফুল ফোটা বিলম্বিত হতে পারে। তবে, ২০০০ সালের পরে টোকিওতে নথিভুক্ত ইতিহাসের সাতটি দ্রুততম প্রস্ফুটনের মধ্যে পাঁচটিই ঘটেছে, যা সামগ্রিক উষ্ণায়ন প্রবণতার প্রভাবশালী দিকটি নির্দেশ করে। কিয়োটোর ক্ষেত্রে, যেখানে ১২০০ বছরেরও বেশি সময়ের ঐতিহাসিক নথি রয়েছে, সেখানেও উষ্ণ মার্চ মাসের কারণে ফুল ফোটার তারিখ দ্রুত এগিয়ে আসছে, যা মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন এবং নগর উষ্ণায়নের সম্মিলিত প্রভাবকে তুলে ধরে।

কান্টো অঞ্চলের এই প্রাথমিক সূচনা সমগ্র পশ্চিম জাপানেও প্রতিফলিত হয়েছে, যেখানে চেরি ফুলের আগমন বার্ষিক গড়ের কাছাকাছি বা তার আগেও ঘটছে। জেএমএ তাদের পূর্বাভাস ৫৮টি 'বেঞ্চমার্ক' চেরি গাছের উপর ভিত্তি করে তৈরি করে, যেখানে কুঁড়ি থেকে সম্পূর্ণ প্রস্ফুটন পর্যন্ত সময়কাল সাধারণত দুই সপ্তাহ স্থায়ী হয়। এই বছর কান্টো অঞ্চল থেকে পশ্চিম দিকে ফুলের তারিখগুলি সামান্য পিছিয়ে দেওয়া হলেও, উত্তর জাপান এবং কোচির মতো অঞ্চলে তা এগিয়ে আসার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা স্থানীয় আবহাওয়ার সূক্ষ্ম পার্থক্যের ইঙ্গিত দেয়।

চেরি ফুলের কুঁড়িগুলো সুপ্তাবস্থা থেকে বের হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ শীতলতা প্রয়োজন, যাকে 'ডরম্যান্সি ব্রেকিং' বলা হয়। এই শীতে বারবার শৈত্যপ্রবাহ এলেও তা দীর্ঘস্থায়ী না হওয়ায় কুঁড়িগুলোর সুপ্তাবস্থা দুর্বল হয়েছে এবং পরবর্তী উষ্ণতা দ্রুত বিকাশে সহায়তা করেছে। এই দ্রুত পরিবর্তন জাপানের সংস্কৃতি ও অর্থনীতির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ 'হানামি' বা ফুল দেখার উৎসব বসন্তের আগমন এবং নতুন আর্থিক বছর শুরুর প্রতীক। চেরি ফুলের এই ক্ষণস্থায়ী সৌন্দর্য জাপানি দর্শনের 'মনো নো আওয়ারে' বা অনিত্যতার প্রতি মৃদু বিষণ্ণতার ধারণাকে মূর্ত করে।

এই ধরনের দ্রুত পরিবর্তন গাছপালা, কীটপতঙ্গ এবং অন্যান্য প্রাণীর জীবনচক্রকেও প্রভাবিত করতে পারে, যা সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্রের জন্য উদ্বেগ সৃষ্টি করে। অধিকন্তু, পর্যটকদের বিপুল সমাগম স্থানীয় জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলছে, যার ফলস্বরূপ ফুজিইয়োশিদা শহরের মতো কিছু স্থানে পর্যটকদের অতিরিক্ত ভিড় সামলাতে উৎসব বাতিল করতে হয়েছে। চেরি ফুলের সময়কাল পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানীরা জলবায়ুর দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তনগুলি বোঝার চেষ্টা করেন, যা জাপানের পরিবেশ এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য গভীর তাৎপর্য বহন করে। এই পরিবর্তন কেবল বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফল নয়, বরং নগরায়ণের কারণে সৃষ্ট 'হিট আইল্যান্ড' প্রভাবেরও একটি অংশ, যেখানে শহরাঞ্চল পার্শ্ববর্তী গ্রামাঞ্চলের চেয়ে বেশি উষ্ণ থাকে।

28 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Travel And Tour World

  • The Japan Times

  • nippon.com

  • Time Out

  • Japan Guide

  • Japanspecialist

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।