জুলাইয়ের মতো মার্চ: যুক্তরাষ্ট্রের ওপর 'হিট ডোম' ভেঙেছে শত বছরের রেকর্ড

লেখক: Svetlana Velhush

জুলাইয়ের মতো মার্চ: যুক্তরাষ্ট্রের ওপর 'হিট ডোম' ভেঙেছে শত বছরের রেকর্ড-1

স্নোড্রপ

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল বর্তমানে এক নজিরবিহীন এবং চরম তাপপ্রবাহের মোকাবিলা করছে, যা মার্চের শেষভাগকে জুলাইয়ের মতো উত্তপ্ত করে তুলেছে। অ্যারিজোনা এবং ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যগুলোতে তাপমাত্রা জলবায়ু স্বাভাবিকের চেয়ে ১১ থেকে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস (২০-৩০ ডিগ্রি ফারেনহাইট) বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা এই ঘটনাকে একটি "ঐতিহাসিক ঋতু পরিবর্তন" হিসেবে অভিহিত করেছেন, কারণ এই ধরনের তাপমাত্রা সাধারণত মে মাসের শেষ বা জুন মাসের দিকে দেখা যায়।

এই চরম আবহাওয়া পরিস্থিতির মধ্যে অ্যারিজোনার মার্টিনেজ লেকে তাপমাত্রা ৪৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১১২ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পর্যন্ত পৌঁছেছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে মার্চের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েছে। ১৬ থেকে ২৩ মার্চের মধ্যে সারা দেশে ১৫০০টিরও বেশি দৈনিক তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে গেছে, যা এই তাপপ্রবাহের ভয়াবহতা এবং বিস্তৃতি স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে।

  • ফিনিক্স: এখানে তাপমাত্রা ৪১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পর্যন্ত উঠেছিল।
  • লস অ্যাঞ্জেলেস: এই শহরে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট) তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
  • লাস ভেগাস: এখানে পারদ ৩৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৯৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পর্যন্ত পৌঁছেছে।

এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মূল কারণ হিসেবে একটি শক্তিশালী 'হিট ডোম' বা উচ্চচাপ বলয়কে চিহ্নিত করা হয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ এবং অস্বাভাবিক শুষ্ক বাতাস এই তাপ বলয়কে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে। এই স্থির অ্যান্টিসাইক্লোন বা উচ্চচাপ অঞ্চলটি ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি গরম বাতাসকে আটকে রেখেছে, যা বাতাসকে শীতল হতে বাধা দিচ্ছে এবং ক্রমাগত তাপমাত্রা বাড়িয়ে চলেছে।

'ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন'-এর বিজ্ঞানীরা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, মানুষের সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়া মার্চ মাসে এই ধরনের তীব্র তাপপ্রবাহ "কার্যত অসম্ভব" ছিল। তাদের গবেষণা অনুযায়ী, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে প্রকৃত তাপমাত্রার সাথে অতিরিক্ত ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস যোগ হয়েছে। এটি স্পষ্ট করে দেয় যে পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা কীভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা ও পৌনঃপুনিকতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে একটি বিশেষ ঘটনা, যাকে আবহাওয়াবিদরা 'স্নো ড্রাউট' বা তুষার খরা বলে অভিহিত করছেন। পাহাড়ে পর্যাপ্ত তুষার আবরণের অভাবের কারণে মাটি অনেক দ্রুত উত্তপ্ত হচ্ছে। এই প্রক্রিয়াটি একটি ফিডব্যাক লুপ বা চক্রাকার প্রভাব তৈরি করছে, যা বায়ুমণ্ডলকে আরও বেশি উত্তপ্ত করে তুলছে। এর ফলে বসন্তকালেই গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহ অনুভূত হচ্ছে, যা এই অঞ্চলের বাস্তুসংস্থানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

17 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • The Guardian

  • World Weather Attribution

এই বিষয়ে আরও নিবন্ধ পড়ুন:

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।