মৌমাছির গুঞ্জনে সাড়া দিয়ে মধুতে চিনি ও পরিমাণ বাড়ায় স্ন্যাপড্রাগন ফুল

সম্পাদনা করেছেন: An goldy

উদ্ভিদ জগৎ যে কেবল নিষ্ক্রিয়ভাবে পরিবেশ গ্রহণ করে, এই ধারণাটি নতুন গবেষণার ফলে পরিবর্তিত হচ্ছে। কিছু উদ্ভিদ প্রজাতি শব্দ উদ্দীপনার প্রতি সক্রিয় প্রতিক্রিয়া দেখাতে সক্ষম, যা বিজ্ঞানের প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। এই বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করেছেন তুরিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফ্রান্সেস্কা বারেবেরো। তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণাটি, যা ২০২৫ সালে প্রকাশিত হয়, বিশেষত স্ন্যাপড্রাগন (*Antirrhinum*) ফুলের উপর আলোকপাত করে। বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন যে এই ফুলগুলি মৌমাছির গুঞ্জনের অনুকরণমূলক শব্দ শোনার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাদের মধুতে শর্করার ঘনত্ব বৃদ্ধি করতে পারে।

এই অভিযোজনমূলক সাড়া ফুলের উপর যান্ত্রিক কম্পন অনুভূত হওয়ার মাধ্যমে শুরু হয়, যখন তারা নির্দিষ্ট শব্দ তরঙ্গ শনাক্ত করে। শর্করার পরিবহণের জন্য দায়ী জিনগুলির দ্রুত পরিবর্তন এই প্রক্রিয়াটিকে সক্রিয় করে তোলে। এর আগে, ইভিনিং প্রাইম রোজ (*Oenothera drummondii*) নিয়ে করা গবেষণাতেও শব্দ উপলব্ধির ভূমিকা ইঙ্গিত করা হয়েছিল, কিন্তু এই সাম্প্রতিক গবেষণাটি আরও প্রত্যক্ষ ও দ্রুত শারীরিক পরিবর্তনের প্রমাণ দিয়েছে। এটি স্পষ্ট করে যে উদ্ভিদরা কেবল রাসায়নিক বা স্পর্শের প্রতি নয়, বরং শ্রুতিগত উদ্দীপনার প্রতিও সাড়া দিতে পারে।

আণবিক স্তরে, গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন যে মৌমাছিদের (*Rhodanthidium sticticum*) শব্দ শোনার প্রতিক্রিয়ায় চিনি সংশ্লেষণ ও পরিবহণ নিয়ন্ত্রণকারী জিনগুলির প্রকাশ পরিবর্তিত হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে শুধু শর্করার পরিমাণই বাড়েনি, নিঃসৃত মধুর মোট পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে। অধ্যাপক বারেবেরো মন্তব্য করেছেন যে উপকারী পরাগায়নকারী এবং মধু চোরদের থেকে আসা কম্পন-শব্দ সংকেত আলাদাভাবে চিনতে পারার এই ক্ষমতা উদ্ভিদের জন্য একটি বিবর্তনীয় কৌশল হতে পারে, যা সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে।

উদ্ভিদ কীভাবে শব্দ গ্রহণ করে, সেই প্রক্রিয়াটি এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই প্রক্রিয়ায় মেকানোরেসেপ্টর—অর্থাৎ, কোষ যা যান্ত্রিক আঘাতের প্রতি সাড়া দেয়—গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফুলগুলি কার্যত শ্রবণ অঙ্গের মতো কাজ করতে পারে, যা মৌমাছির স্বাভাবিক গুঞ্জন পরিসরের শব্দ তরঙ্গের প্রতি সাড়া দিয়ে কম্পিত হয়। স্পেন এবং অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত গবেষণা দলটি মৌমাছিদের দ্বারা নির্গত সূক্ষ্ম কম্পন সংকেত রেকর্ড করার জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেছিল।

পরীক্ষামূলক উপাত্ত দেখায় যে পরাগায়নকারী মৌমাছির শব্দের প্রতি প্রতিক্রিয়াটি নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কের উপর নির্ভরশীল; এটি সাধারণ পটভূমির শব্দ বা অপ্রয়োজনীয় পোকামাকড়ের শব্দের প্রতি সাড়া দেয় না। এই আবিষ্কার কৃষি শিল্পের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। ভবিষ্যতে, মৌমাছির গুঞ্জন অনুকরণ করা পরিবেশবান্ধব উপায়ে ফসলের পরাগায়ন দক্ষতা বাড়ানোর একটি কৌশল হতে পারে। এই ফলাফলগুলি উদ্ভিদের পরিবেশ উপলব্ধির গভীরতা সম্পর্কে আমাদের বোঝাপড়াকে প্রসারিত করে, যেখানে তাপমাত্রা ও বাতাসের মতো জৈব ও অজৈব উভয় উপাদানই গুরুত্বপূর্ণ।

প্রজনন সাফল্যের সঙ্গে যুক্ত এমন দ্রুত এবং লক্ষ্যভিত্তিক শারীরিক পরিবর্তনের এই প্রদর্শন উদ্ভিদের ধ্বনি-বাস্তুবিদ্যা বা অ্যাকোস্টিক ইকলজির জটিলতাকে তুলে ধরে। বিজ্ঞানীরা এখন বিশ্লেষণ করছেন যে মধুর এই পরিবর্তন কি কেবল *Rhodanthidium sticticum*-এর মতো কার্যকর পরাগায়নকারীদের আকর্ষণ করবে, নাকি এটি মধু চোরদের আগ্রহও বাড়িয়ে তুলবে। যদি এই প্রতিক্রিয়ার নির্বাচনমূলকতা প্রমাণিত হয়, তবে এটি পরাগায়নকারীদের সঙ্গে উদ্ভিদের সহ-বিবর্তনের ধারণাকে আরও শক্তিশালী করবে।

9 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Olhar Digital - O futuro passa primeiro aqui

  • ScienceDaily

  • EcoWatch

  • Boing Boing

  • The Guardian

  • U.S. Geological Survey

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?

আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।