সমুদ্রের পানির স্তর বৃদ্ধি মোকাবিলায় কুড্ডালোরে তামিলনাড়ুর দুই কিলোমিটার দীর্ঘ ‘জৈব সুরক্ষা প্রাচীর’ নির্মাণ সম্পন্ন
সম্পাদনা করেছেন: An goldy
তামিলনাড়ু সরকার ২০২৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি কুড্ডালোর জেলায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ একটি উপকূলীয় জৈব-ঢাল বা 'বায়ো-শিল্ড' নির্মাণের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে। এই সময়োপযোগী উদ্যোগটি মূলত সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং উপকূলীয় ক্ষয়রোধের ক্রমবর্ধমান হুমকি থেকে এই অঞ্চলকে সুরক্ষিত রাখার জন্য গ্রহণ করা হয়েছে। প্রায় ৪৫ হেক্টর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই পরিবেশবান্ধব সুরক্ষা প্রাচীরটি আকরাইকোরি, সিঙ্গারথোপ এবং সোনান কুপ্পাম গ্রামগুলোকে মারাত্মক উপকূলীয় বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য বিশেষভাবে নকশা করা হয়েছে।
২০০৩ সাল থেকে উত্তর ভারত মহাসাগরের পানির স্তর বিশ্বব্যাপী গড়ের তুলনায় দ্বিগুণ দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা এই ধরনের প্রকৃতি-নির্ভর পদক্ষেপকে অত্যন্ত কৌশলগত গুরুত্ব প্রদান করেছে। প্রথাগত কংক্রিটের বাঁধের পরিবর্তে এই কাঠামোটিকে একটি 'সবুজ প্রহরী' হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে, যা রাজ্য সরকারের 'গ্রিন তামিলনাড়ু এবং জলবায়ু পরিবর্তন' মিশনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই বিশাল জৈব-ঢালে ৩০,০০০ তাল গাছ, শক্তিশালী বাতাস প্রতিরোধের জন্য ১,০০,০০০ ক্যাসুয়ারিনা বা ঝাউ গাছের চারা এবং ২৮,০০০ ম্যানগ্রোভ চারা রোপণ করা হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য স্থানীয় উপকূলীয় প্রজাতির গাছ সহ এখানে মোট ১,২৮,০০০-এরও বেশি চারা রোপণ করা হয়েছে যা এই অঞ্চলের বাস্তুসংস্থানকে শক্তিশালী করবে।
তামিলনাড়ুর পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পটি একটি টেকসই সুরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে। এটি মূলত ব্যয়বহুল এবং পরিবেশগতভাবে ক্ষতিকর প্রথাগত সমুদ্র বাঁধের একটি কার্যকর বিকল্প। ২০২৫-২০২৮ মেয়াদের জন্য নির্ধারিত ৪ কোটি টাকার প্রকল্পের অংশ হিসেবে কুড্ডালোরে এই সফল বাস্তবায়ন জলবায়ু সহনশীলতার প্রতি রাজ্য সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ। এই সাফল্যের পথ ধরে, তুতিকোরিনেও উপকূলীয় আবাসস্থল পুনরুদ্ধারের জন্য অনুরূপ একটি প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যে শুরু করা হয়েছে।
এর আগে তামিলনাড়ু সরকার তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেছিল যে, তারা ২০২৫-২০২৬ সালের মধ্যে 'টিএন-শোর' (TN-SHORE) প্রকল্পের আওতায় কুড্ডালোর এবং তুতিকোরিন জেলায় শক্তিশালী জৈব-ঢাল তৈরির লক্ষ্যে ৬ লক্ষ ম্যানগ্রোভ চারা রোপণ করবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞে মোট ২৫ কোটি টাকা বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উপকূলীয় বাস্তুসংস্থান, বিশেষ করে ম্যানগ্রোভ বন, সমুদ্রের ঢেউয়ের শক্তি হ্রাসে অত্যন্ত কার্যকর বলে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। বর্তমান জলবায়ু পরিস্থিতিতে এটি অত্যন্ত জরুরি, কারণ সামুদ্রিক তাপপ্রবাহের হার আগের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে এবং এক শতাব্দীতে একবার ঘটা জলোচ্ছ্বাস এখন প্রতি বছর ঘটার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রকৃতি-ভিত্তিক এই অনন্য পদ্ধতিটি প্রথাগত কংক্রিট বা সিমেন্টের বাঁধের সম্পূর্ণ বিপরীত, কারণ কৃত্রিম বাঁধগুলোর জন্য নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হয় এবং তা উপকূলীয় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। কুড্ডালোরের এই প্রকল্পটি একটি বৃহত্তর রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির অংশ, যার মধ্যে 'তামিলনাড়ু উপকূলীয় পুনরুদ্ধার মিশন' (TN-SHORE)-এর অধীনে ১৬০ হেক্টর অবক্ষয়িত ম্যানগ্রোভ বন পুনরুদ্ধার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই জীবন্ত প্রাচীর নির্মাণ বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি বিজ্ঞানসম্মত এবং বাস্তবসম্মত সাড়া। এটি কেবল বর্তমান জনবসতিকেই রক্ষা করবে না, বরং ভবিষ্যতে অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় এলাকায় এই মডেলের সফল সম্প্রসারণে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
4 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Economic Times
The Economic Times
The Economic Times
Devdiscourse
Mint
Green Tamil Nadu Mission
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
