আর্জেন্টিনার বিজ্ঞানীরা প্লাস্টিকের সিগারেটের ফিল্টার পচানোর জন্য ছত্রাক ব্যবহার করছেন

সম্পাদনা করেছেন: An goldy

আর্জেন্টিনার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ রোজারিও (UNR) এবং ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর সায়েন্টিফিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল রিসার্চ (CONICET)-এর গবেষকরা পরিবেশ রক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন। তারা সিগারেটের অবশিষ্টাংশ বা ফিল্টার বায়োটেকনোলজিক্যাল পদ্ধতিতে রিসাইকেল করার একটি নতুন পথ দেখাচ্ছেন। CONICET-এর কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত ইনস্টিটিউট অফ বায়োটেকনোলজিক্যাল অ্যান্ড কেমিক্যাল প্রসেস (IPROBYQ)-এর বিজ্ঞানীরা সেলুলোজ অ্যাসিটেট নামক এক প্রকার জেদি প্লাস্টিক ফিল্টারকে মূল্যবান বায়োমেটেরিয়ালে রূপান্তর করার কাজ করছেন। এই প্রকল্পটি মূলত একটি সার্কুলার ইকোনমি বা বৃত্তাকার অর্থনীতির মডেল হিসেবে কাজ করবে, যা বিশ্বের অন্যতম প্রধান দূষণকারী বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করার লক্ষ্য রাখে।

সিগারেটের ফিল্টার থেকে সৃষ্ট দূষণ বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এক ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয় ডেকে আনছে। এই ফিল্টারগুলো প্রকৃতিতে মিশে যেতে কয়েক দশক সময় নেয় এবং এই দীর্ঘ সময়ে এগুলো মাটি ও পানিতে নিকোটিন ও ভারী ধাতুর মতো মারাত্মক বিষাক্ত উপাদান নিঃসরণ করে। আর্জেন্টিনার এই গবেষণাটি যদিও নির্দিষ্টভাবে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, তবে এটি বৈশ্বিক পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখার বৃহত্তর প্রচেষ্টারই অংশ। বর্জ্য থেকে কার্যকর বায়োমেটেরিয়াল তৈরির এই উদ্যোগটি ল্যান্ডফিল বা আবর্জনার স্তূপের আয়তন কমানোর পাশাপাশি বিষাক্ত রাসায়নিকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে প্রকৃতিকে রক্ষা করার একটি বাস্তবসম্মত সমাধান।

বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত এই বায়োরিমিডিয়েশন বা জৈব প্রতিকার পদ্ধতিটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল। এটি মূলত নিয়ন্ত্রিত ল্যাবরেটরি পরিবেশে নির্দিষ্ট প্রজাতির ছত্রাক চাষ করার মাধ্যমে শুরু হয়, যা পরে সংগৃহীত সিগারেটের ফিল্টারের সাথে যুক্ত করা হয়। এই পচন প্রক্রিয়ায় বিজ্ঞানীরা এমনকি সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত ভোজ্য মাশরুম, যেমন Pleurotus বা অয়েস্টার মাশরুমের প্রজাতি ব্যবহার করছেন। গবেষণায় দেখা গেছে যে, সেলুলোজ অ্যাসিটেট অণুজীব এবং বিশেষ করে নির্দিষ্ট প্রজাতির ছত্রাকের প্রভাবে প্রাকৃতিকভাবেই ভেঙে যেতে বা পচে যেতে সক্ষম।

প্রাথমিক পর্যায়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় গবেষকরা অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন। দেখা গেছে যে, মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে ছত্রাকগুলো সিগারেটের ফিল্টারগুলোতে সফলভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং পচন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে। এই দ্রুত পচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০২৬ সালের শুরুর দিকেই এমন এক ধরনের শুষ্ক এবং নমনীয় বায়োমেটেরিয়াল উৎপাদন করা সম্ভব হবে, যা দিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজিং বক্স বা হালকা ওজনের নির্মাণ সামগ্রী তৈরি করা যাবে। ল্যাবরেটরিতে সেলুলোজ ভেঙে ফেলার ক্ষেত্রে সেলুলেজ নামক এনজাইমের কার্যকারিতা ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে, যা এই প্রকল্পের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আরও মজবুত করেছে।

CONICET-এর অন্যান্য উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের মতো এই বায়োটেকনোলজিক্যাল উদ্ভাবনটিও উচ্চ মূল্য সংযোজিত পণ্য তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করে। এর মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক গবেষণার সাথে শিল্প উৎপাদন খাতের একটি সেতুবন্ধন তৈরি হচ্ছে। রোজারিও শহরের এই প্রকল্পের সাফল্য বিশ্বজুড়ে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে যেসব দেশ প্লাস্টিক বর্জ্য এবং পরিবেশ দূষণের সমস্যায় জর্জরিত, তাদের জন্য এটি একটি টেকসই সমাধানের পথ দেখাবে। বিজ্ঞান ও প্রকৃতির এই মেলবন্ধন ভবিষ্যতে আমাদের পৃথিবীকে আরও বাসযোগ্য করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে। গবেষকরা বিশ্বাস করেন যে, এই প্রযুক্তিটি কেবল আর্জেন্টিনার জন্য নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে উঠবে।

5 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Noticias Ambientales

  • La Capital

  • Noticias Ambientales

  • La Capital

  • EcoInventos

  • YouTube

এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।