ভারতের তেলেঙ্গানায় নতুন প্রজাতির উদ্ভিদ 'ডিক্লিপ্টেরা পাখালিকা' শনাক্ত: উদ্ভিদবিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত
সম্পাদনা করেছেন: An goldy
বোটানিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (BSI)-এর একদল বিজ্ঞানী সম্প্রতি ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে একটি সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতির সপুষ্পক উদ্ভিদ শনাক্ত করেছেন। এই নতুন আবিষ্কৃত উদ্ভিদটির বৈজ্ঞানিক নামকরণ করা হয়েছে 'ডিক্লিপ্টেরা পাখালিকা' (Dicliptera pakhalica)। এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভিদতাত্ত্বিক আবিষ্কারটি সম্পন্ন হয়েছে তেলেঙ্গানা রাজ্যের মাহাবুবাবাদ জেলায় অবস্থিত বিখ্যাত পাখাল বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে। গত ২৯ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন উদ্ভিদবিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকী 'ব্রিটোনিয়া'-তে (Brittonia) এই নতুন ট্যাক্সন বা প্রজাতির আনুষ্ঠানিক বৈজ্ঞানিক বিবরণ এবং তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, যা উদ্ভিদবিজ্ঞানী মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
এই বিশেষ আবিষ্কারের নেপথ্যে কাজ করেছেন একদল নিবেদিতপ্রাণ গবেষক। এই দলে ছিলেন বিএসআই (BSI) বিজ্ঞানী এল. রাসিংগাম, উদ্ভিদবিদ পি. হরিকৃষ্ণ, গবেষক এ. পার্থিবান এবং বন কর্মকর্তা ভি. চন্দ্র শেখরা রাও। অভয়ারণ্যের ভেতরে প্রাকৃতিক ঝরনার পাশের পাথুরে ভূমি এবং ছোট ছোট পাহাড়ি স্রোতধারার তীরে এই উদ্ভিদটি জন্মাতে দেখা গেছে। 'ডিক্লিপ্টেরা' গণটি মূলত অ্যাকান্থাসি (Acanthaceae) পরিবারের অন্তর্ভুক্ত এবং বিশ্বজুড়ে এর ২২০টিরও বেশি প্রজাতি রয়েছে, যা মূলত গ্রীষ্মমন্ডলীয় ও উপ-গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলে বিস্তৃত। বর্তমানে ভারতে এই গণের ২৯টি ট্যাক্সা নথিভুক্ত রয়েছে এবং 'ডিক্লিপ্টেরা পাখালিকা' যুক্ত হওয়ার ফলে ভারতের উদ্ভিদ বৈচিত্র্যের তালিকা আরও সমৃদ্ধ হলো।
শারীরবৃত্তীয় বা গঠনগত দিক থেকে 'ডিক্লিপ্টেরা পাখালিকা' প্রজাতিটি অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার পূর্বঘাট পর্বতমালায় পাওয়া 'ডিক্লিপ্টেরা পারভিব্র্যাক্টিয়াটা' (Dicliptera parvibracteata) প্রজাতির সাথে বেশ সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে বিজ্ঞানীদের সূক্ষ্ম ও বিস্তারিত পর্যবেক্ষণে বেশ কিছু মৌলিক পার্থক্য ধরা পড়েছে, যা একে একটি স্বতন্ত্র প্রজাতির মর্যাদা দিয়েছে। এই নতুন প্রজাতির কাণ্ডে বিশেষ ধরনের নিবিড় রোমশ আবরণ লক্ষ্য করা যায় এবং এর পুষ্পমঞ্জরিপত্র বা ব্র্যাক্টগুলো কিউরেটেড বা নৌকার মতো বাঁকানো নয়। এছাড়া এর ফুল বা ফলের অংশে কোনো গ্রন্থিময় লোম নেই এবং এর বীজগুলো কাঁটাযুক্ত বা একিনেট প্রকৃতির। অন্যদিকে, 'ডিক্লিপ্টেরা পারভিব্র্যাক্টিয়াটা'-র ক্ষেত্রে পুষ্পমঞ্জরিপত্রগুলো স্পষ্টভাবে কিউরেটেড এবং এতে গ্রন্থিময় লোম থাকে, আর বীজগুলো হয় গুটিযুক্ত বা টিউবারকুলেট।
পাখাল বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, যেখানে এই বিরল আবিষ্কারটি ঘটেছে, সেটি ডেকান পেনিনসুলার জৈব-ভৌগোলিক অঞ্চলে অবস্থিত এবং এর মনোরম জলাধারের জন্য পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। উল্লেখ্য যে, তেলেঙ্গানার এই অঞ্চলটি কিন্নরাসানি এবং রামাপ্পা হ্রদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন রামসার সাইট হিসেবে স্বীকৃতির জন্য বিবেচনাধীন ছিল। এই নতুন প্রজাতির আবিষ্কার আবারও প্রমাণ করল যে, ভারতের এই অঞ্চলে উদ্ভিদতাত্ত্বিক গবেষণার আরও অনেক সুযোগ রয়েছে। উচ্চমাত্রার এন্ডেমিজম বা স্থানীয় বৈশিষ্ট্য এবং প্রজাতির প্রাচুর্য রক্ষায় এই ধরনের গবেষণা ভারতের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অপরিহার্য বলে বিবেচিত হচ্ছে।
4 দৃশ্য
উৎসসমূহ
The New Indian Express
Botany
Express
The Times of India
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।