চল্লিশোর্ধ্ব মহিলাদের সুস্থতার জন্য নেতিবাচক আবেগ গ্রহণের ইতিবাচক মনোবিজ্ঞান

সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova

২০২৬ সালে চল্লিশ বছর অতিক্রমকারী মহিলাদের মনস্তাত্ত্বিক সুস্থতার ক্ষেত্রে রাগ, হতাশা এবং দুঃখের মতো নেতিবাচক অনুভূতিগুলিকে মেনে নেওয়া অপরিহার্য। এটি ইতিবাচক মনোবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, যা মানসিক স্থিতিস্থাপকতা এবং ব্যক্তিগত বিকাশের ভিত্তি স্থাপন করে। মনোবিজ্ঞানী শার্কা কুচেরোভা-এর মতে, এই ধরনের অনুভূতিগুলিকে দমন করা হলে তা প্রকৃত আত্ম-স্বীকৃতি এবং সামগ্রিক উন্নতির পথে বাধা সৃষ্টি করে। নেতিবাচক আবেগগুলি জীবনের কোন কোন ক্ষেত্রে পরিবর্তনের প্রয়োজন, সেই বিষয়ে সংকেত প্রদানকারী একটি অপরিহার্য অভ্যন্তরীণ নির্দেশক হিসেবে কাজ করে।

আত্ম-উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি সামগ্রিক পদ্ধতি গ্রহণ করা প্রয়োজন, যেখানে মনস্তত্ত্বের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী নারী চিকিৎসাবিজ্ঞানের সমন্বয় ঘটে। এই সমন্বিত প্রক্রিয়াটি একজন মহিলার সম্পূর্ণ জীবন ইতিহাস, তাঁর প্রত্যাশা এবং শৈশবের বদ্ধমূল প্যাটার্নগুলিকে বিবেচনা করে। বিশেষত মেনোপজের সময়কালে, অনেক নারী এক নতুন জীবন দৃষ্টিকোণ লাভ করেন, যা তাঁদের মধ্যে 'অভ্যন্তরীণ সত্য' এবং চাপা পড়ে থাকা অনুভূতিগুলির উত্থানের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ শক্তির আবিষ্কার ঘটায়। এই পথে অগ্রসর হওয়ার জন্য সাইকোথেরাপি, মননশীলতা বা মাইন্ডফুলনেস এবং আত্ম-আবিষ্কারের কৌশলগুলি অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিজেদের নেতিবাচক আবেগগুলিকে বিচার না করে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে, তারা মানসিক অবস্থার ওঠানামা বা মুড সুইং কম অনুভব করে। আত্ম-করুণার চর্চা এই প্রক্রিয়ায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এর একটি প্রস্তাবিত পদ্ধতি হলো 'নিজের প্রতি সপ্তাহের দয়া' অনুশীলন, যা আন্তরিক অভ্যন্তরীণ কথোপকথন এবং ছোট ছোট সহানুভূতিমূলক কাজের ওপর জোর দেয়। এই প্রক্রিয়ার সহায়ক হিসেবে প্রতিদিন আত্ম-জিজ্ঞাসা করা উচিত—বর্তমান অনুভূতি, প্রয়োজন এবং করণীয় পদক্ষেপগুলি কী কী। মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, নিজের দুর্বলতা স্বীকার করা এবং তাকে ভালোবাসা উচ্চমানের চরিত্রের একটি অংশ, যা নিজেকে 'অপূর্ণ' না ভেবে 'মানবিক' হিসেবে দেখতে শেখায়।

এই সময়ে নারীরা প্রায়শই সামাজিক দায়িত্ব, কর্মজীবন এবং শারীরিক পরিবর্তনের চাপে থাকেন, যা মানসিক চাপ বৃদ্ধি করে, যেমন পেরিমেনোপজ বা মেনোপজের সময় হরমোনের ওঠানামা মেজাজে প্রভাব ফেলে। মানসিক দৃঢ়তা বা স্থিতিস্থাপকতা গড়ে তোলা এই সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি প্রতিকূলতার মুখে ইতিবাচকভাবে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। স্থিতিস্থাপকতা কেবল কষ্ট সহ্য করা নয়, বরং তার মধ্যেও উন্নতি করার ক্ষমতা। চল্লিশ বছর বয়সের পরে মহিলাদের হৃদরোগ, অস্টিওপোরোসিস এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে, তাই শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি মনোযোগ দেওয়া জরুরি।

সাইকোথেরাপি বা কাউন্সেলিং সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে, যার লক্ষ্য হলো সমস্যার কারণ ও প্রভাব বোঝা এবং ব্যক্তিগত লক্ষ্য অর্জন করা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞা অনুযায়ী, স্বাস্থ্য হলো শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিক অবস্থার একটি সুস্থ সমন্বয়, যেখানে ভয়, হতাশা ও মানসিক চাপ থেকে মুক্তিও অন্তর্ভুক্ত। এই সময়ে নারীদের জন্য নিজেদের প্রতি যত্নশীল হওয়া অপরিহার্য, যা আত্মকেন্দ্রিকতা নয়, বরং শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় সময় বের করা। নিজের প্রতি সৎ থাকা, আত্ম-সচেতন হওয়া এবং স্পষ্ট ব্যক্তিগত সীমানা নির্ধারণ করা—যেমন প্রয়োজন অনুসারে 'না' বলতে পারা—মানসিক সুস্থতা বজায় রাখার জন্য জরুরি। এই সমস্ত অভ্যাসগুলি মহিলাদের জীবনের কঠিন সময়েও স্থির থাকতে এবং প্রতিকূলতাকে শক্তিতে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করে, যা তাঁদের সামগ্রিক জীবন উপভোগ্য করে তোলে।

11 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • prozeny.cz

  • České podcasty

  • O mně :: sarkakucerova - Mgr. Šárka Kučerová

  • Jak nás vidí svět - Stream

  • Můj čas po čtyřicítce aneb Dneska budu mít hezkej den! Podcast Restart 40+ se známým psychologem | Stream

  • Deep Calm Therapy Bc. Šárka Kučerová, Dis. (Čachrov, Jesení) - Firmy.cz

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।