২০২৬ সালের মধ্যে শিক্ষাব্যবস্থায় মানব উন্নয়নের উপর ক্রমবর্ধমান গুরুত্বারোপ
সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova
২০২৬ সাল নাগাদ, শিক্ষার মূল লক্ষ্য কেবল পাঠ্যপুস্তক ও পরীক্ষার মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান আহরণের গণ্ডি পেরিয়ে গভীর শিক্ষণের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে এই উপলব্ধি যে, বিদ্যালয়কে সর্বাগ্রে মানব গঠনের ক্ষেত্র হতে হবে, যেখানে ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটবে এবং মূল্যবোধের জন্ম হবে, যা শিশুর সহজাত কৌতূহল এবং অন্যের প্রতি মানবিকতাকে পুষ্ট করবে। শিক্ষাকে তথ্যের আদান-প্রদান হিসেবে না দেখে মানব সম্ভাবনার বাস্তবায়ন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা মন ও হৃদয় উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত প্রসারের এই বিশ্বে, জ্ঞানের ঘাটতি নয়, বরং আবেগজনিত বুদ্ধিমত্তা (Emotional Intelligence - EI) এবং সম্পর্ক ব্যবস্থাপনার দক্ষতা অর্জনই প্রধান আবশ্যকতা। সাম্প্রতিক গবেষণা, যেমনটি ২০২৩ সালের একটি মেটা-বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, দেখায় যে সামাজিক-আবেগিক শিক্ষা (SEL) কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পারফরম্যান্স গড়ে ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, এবং পূর্ণ শিক্ষাবর্ষের প্রোগ্রামে এই উন্নতি ৮ শতাংশে পৌঁছায়। এই তথ্য প্রমাণ করে যে আবেগ এবং জ্ঞানীয় প্রক্রিয়া মস্তিষ্কে অবিচ্ছেদ্যভাবে সংযুক্ত।
বিশ্বজুড়ে শিক্ষাব্যবস্থা, বিশেষত ২০২৫-২০২৬ সালের সাম্প্রতিক হালনাগাদ অনুযায়ী, আবেগিক ও সামাজিক দিকগুলিকে (SEL) পাঠ্যক্রমের একটি পূর্বশর্ত হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করেছে, যা দক্ষতা ও সক্ষমতা নির্মাণের জন্য একটি নিরাপদ আবেগিক ভিত্তি তৈরি করে। ইয়েল স্কুল অফ মেডিসিনের গবেষকরা ৪০টি গবেষণার বিশ্লেষণ করে দেখেছেন যে, প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা SEL প্রোগ্রামে অংশ নেয়, তাদের সাক্ষরতা অর্জনে ৬.৩ শতাংশ এবং গণিতে ৩.৮ শতাংশ উন্নতি দেখা যায়। এই পদ্ধতি সরাসরি বিদ্যালয়ের পরিবেশে প্রভাব ফেলে, যার ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎপীড়ন কমে এবং অন্যের প্রতি সহানুভূতি ও বোঝার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
দার্শনিক জন ডিউই, যিনি শিক্ষাকে জীবনের অংশ হিসেবে দেখেছিলেন, তাঁর ধারণা আজও প্রাসঙ্গিক। তিনি বলেছিলেন, "শিক্ষা জীবনের জন্য প্রস্তুতি নয়; শিক্ষা নিজেই জীবন," যা অভ্যন্তরীণ অনুভূতির সাথে জীবন যাপনের ওপর জোর দেয়। ডিউই-এর মতে, ব্যবহারিক সমস্যা সমাধান এবং তাত্ত্বিক শিক্ষাকে হাতে হাত রেখে চলতে হবে, এবং এই 'করে শেখা' (learning by doing) ধারণাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষকদের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। তাঁর প্রগতিশীল শিক্ষার ধারণাটি গত শতাব্দীর শেষভাগ থেকে শুরু হওয়া বৃহত্তর সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের অংশ ছিল।
২০২৬ সালের মধ্যে, শিক্ষা ব্যবস্থাগুলি তথ্যের নিছক সঞ্চার থেকে সরে এসে আবেগিক ও সামাজিক দক্ষতা বিকাশের দিকে মনোনিবেশ করছে, যা প্রকৃত প্রগতিশীল শিক্ষার ভিত্তি। বৈশ্বিক সোশ্যাল অ্যান্ড ইমোশনাল লার্নিং (SEL) বাজারের আকার ২০২৫ সালে ২.৮৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে এবং ২০২৬ সালে তা ৩.৪৩ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে, যা নির্দেশ করে যে এই পরিবর্তন একটি বিশ্বব্যাপী প্রবণতা। উচ্চ আবেগিক বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন শিক্ষার্থীরা সাধারণত ভালো গ্রেড পায়, উপস্থিতির হার বেশি থাকে এবং আচরণগত সমস্যা কম থাকে, যা প্রমাণ করে যে আবেগিক দক্ষতা কেবল সামাজিক নয়, একাডেমিক সাফল্যেরও পূর্বাভাসক। এই প্রবণতা ইঙ্গিত দেয় যে, আগামীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকা হবে কেবল তথ্য প্রদানকারী নয়, বরং সহানুভূতিশীল, স্থিতিস্থাপক এবং সম্পর্ক স্থাপনে সক্ষম মানুষ তৈরির কারিগর হিসেবে।
18 দৃশ্য
উৎসসমূহ
ZENIT - Arabic
BookTrib
Daniel Goleman
Hunter Adams
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
