জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে উন্নত কম্পিউটিং চিপের ওপর ট্রাম্পের ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ

সম্পাদনা করেছেন: Svetlana Velgush

২০২৬ সালের ১৪ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছেন, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট কিছু উন্নত মাইক্রোচিপ এবং সংশ্লিষ্ট পণ্যের আমদানির ওপর তাৎক্ষণিকভাবে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি ১৯৬২ সালের বাণিজ্য সম্প্রসারণ আইনের (Trade Expansion Act) ২৩২ ধারার অধীনে নেওয়া হয়েছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের জন্য রাষ্ট্রপ্রধানকে বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপটি মূলত দেশের প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বিদেশি নির্ভরতা কমানোর একটি দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিকের একটি বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এই শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে যে, লিথোগ্রাফি এবং এচিং টুলের মতো সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। হোয়াইট হাউসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী উৎপাদিত সেমিকন্ডাক্টরের প্রায় ২৫ শতাংশ ব্যবহার করলেও নিজেরা উৎপাদন করে মাত্র ১০ শতাংশ। এই বিশাল ব্যবধান এবং বিদেশি সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো খাতের জন্য একটি গুরুতর কৌশলগত ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই নতুন শুল্ক কাঠামোর আওতায় মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এনভিডিয়া এইচ২০০ (Nvidia H200) এবং এএমডি এমআই৩২৫এক্স (AMD MI325X)-এর মতো নির্দিষ্ট কিছু কম্পিউটিং চিপকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এই ক্ষেত্রে কিছু কৌশলগত ছাড়ের ব্যবস্থাও রেখেছে। যদি এই চিপগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে, মার্কিন ডেটা সেন্টারগুলোর কার্যক্রমে, নতুন স্টার্টআপগুলোর বিকাশে অথবা গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) প্রকল্পের জন্য আমদানি করা হয়, তবে সেগুলোর ক্ষেত্রে এই ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে না। এই ছাড়ের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং উৎপাদন খাতকে বাধাগ্রস্ত না করে বরং উৎসাহিত করা।

বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক বিদেশি কোম্পানিগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করতে একটি বিশেষ ক্ষতিপূরণ কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন। এটি মূলত মার্কিন উৎপাদন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার একটি দ্বিমুখী পরিকল্পনার অংশ। এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে, এনভিডিয়াকে তাইওয়ানের কারখানা থেকে চীনের মূল ভূখণ্ডে এইচ২০০ চিপ রপ্তানি করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে এই শর্তে যে, মার্কিন সরকার সেই বিক্রয়ের মোট আয়ের ২৫ শতাংশ রাজস্ব হিসেবে পাবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দৃঢ়তার সাথে জানিয়েছেন যে, এই উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন চিপগুলোর বৈশ্বিক বাজার থেকে যুক্তরাষ্ট্র তার ন্যায্য অংশ বুঝে নেবে।

১৯৬২ সালের বাণিজ্য সম্প্রসারণ আইনটি মার্কিন ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি দলিল, যা প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি স্বাক্ষর করেছিলেন। এর আগে ১৯৭৯ এবং ১৯৮২ সালে এই আইনের প্রয়োগ দেখা গিয়েছিল এবং পরবর্তীতে ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর শুল্ক আরোপের সময় এটি ব্যবহার করেছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বর্তমানে বাণিজ্য সচিব এবং বাণিজ্য প্রতিনিধিকে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে চলমান আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এই প্রতিবেদনের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর আরও কঠোর বা বিস্তৃত শুল্ক আরোপের পথ উন্মুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

35 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Intelligent CIO

  • The White House

  • TrendForce

  • Seeking Alpha

  • digitimes

  • The Standard (HK)

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।