আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ১৯৭৫ সালের সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নিলেন গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী
সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich
২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি, সোমবার, গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোতাকিস আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৭৫ সালের সংবিধানের একটি ব্যাপক সংশোধনী প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দেন। জাতির উদ্দেশে দেওয়া একটি টেলিভিশন ভাষণে তিনি এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই সঙ্গে ক্ষমতাসীন দল 'নিউ ডেমোক্রেসি' (এনডি)-র সদস্যদের কাছে পাঠানো একটি বিশেষ চিঠির মাধ্যমেও তিনি এই সংস্কার প্রক্রিয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য হলো ১৯৭৫ সালে গৃহীত মৌলিক দলিলটিকে আধুনিকায়ন করা, যাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) দ্রুত বিকাশ এবং জলবায়ু সংকটের মতো সমসাময়িক বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়। সরকার প্রধান ২০২৬ সালের বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে 'সাহসী সংস্কার' বাস্তবায়নের ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন। এছাড়া তথাকথিত 'ডিপ স্টেট' বা রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে থাকা প্রভাবশালী মহলের প্রভাব রুখতে এবং সরকারি খাতকে আরও গতিশীল করতে তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, সংবিধানের যেকোনো অনুচ্ছেদ পরিবর্তনের জন্য গ্রিসের সংসদে তিন-পঞ্চমাংশ বা অন্তত ১৮০ জন সংসদ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন।
সংবিধান সংস্কারের এই বিশাল কর্মযজ্ঞের সমন্বয় করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়র্গোস গেরাপেট্রিটিস। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক স্টেলিওস কুটনাটজিসের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন। সংসদীয় কমিটি গঠনের পর সেখানে এনডি দলের পক্ষ থেকে মুখপাত্র বা প্রতিবেদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সাবেক মন্ত্রী ইউরিপিডিস স্টিলিয়ানিডিস। এই সমন্বয় দলে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন রাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রী আকিস স্কার্টসোস, উপমন্ত্রী ইয়র্গোস মাইলোনাকিস এবং সরকারের মুখপাত্র পাভলোস মারিনাকিস, যিনি সংস্কারের প্রাথমিক সময়সূচী জনসমক্ষে উপস্থাপন করেছেন।
প্রস্তাবিত এই পরিবর্তনের আওতায় রাষ্ট্রের কাঠামোর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো সংবিধানের ৮৬ নম্বর অনুচ্ছেদের সংশোধন, যা মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। বিচারিক প্রক্রিয়ায় অধিকতর নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে সাধারণ বিচারকদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আরেকটি অগ্রাধিকারমূলক লক্ষ্য হলো উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বিদ্যমান 'পুরানো আমলের একচেটিয়া আধিপত্য' ভেঙে ফেলা। এর মাধ্যমে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইনি অনুমতি দেওয়া হবে, যার জন্য সংবিধানের ১৬ নম্বর অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। বর্তমানে এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী উচ্চশিক্ষা শুধুমাত্র সরকারি এবং অবৈতনিক হিসেবে সংরক্ষিত।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতির জন্য একক ছয় বছর মেয়াদী কার্যকাল নির্ধারণ এবং বিচার বিভাগের শীর্ষ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিচারিক স্বাধীনতা আরও সুসংহত করা। এই প্রস্তাবগুলো ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নিকোস ডেন্ডিয়াসের দেওয়া বক্তব্যের সাথে সংগতিপূর্ণ, যেখানে তিনি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, এনডি দলের সংসদ সদস্যরা ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ তাদের প্রস্তাব জমা দেবেন এবং মার্চের মধ্যে দলের পূর্ণাঙ্গ খসড়া পেশ করা হবে। এরপর এপ্রিল মাসে সংসদীয় প্রাক-রিভিশন কমিটিতে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।
১৯৭৫ সালের ১১ জুন থেকে কার্যকর হওয়া গ্রিসের সংবিধান এর আগে ১৯৮৬ এবং ২০০১ সালে সংশোধিত হয়েছে। মিতসোতাকিসের বর্তমান এই উদ্যোগটি সংসদীয় প্রজাতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক আধুনিকায়নের লক্ষ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এই উচ্চাভিলাষী সংস্কার সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য গ্রিসের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি ব্যাপক ভিত্তিক ঐকমত্যের প্রয়োজন হবে, যা দেশটির ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে।
5 দৃশ্য
উৎসসমূহ
protothemanews.com
ProtoThema English
tovima.com
tovima.com
Proto Thema English
State Department
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।