ট্রাম্প-শি জিনপিং আলোচনা: ইরান সংকট, বাণিজ্য ও তাইওয়ান
সম্পাদনা করেছেন: gaya ❤️ one
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ২০২৬ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি এক বিস্তৃত টেলিফোন আলোচনা সম্পন্ন করেন। এই আলোচনায় তেহরানের অস্থির পরিস্থিতি, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সংক্রান্ত জটিলতা এবং তাইওয়ানের সার্বভৌমত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বিষয়গুলি প্রাধান্য পায়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আলোচনার পর জানান যে চীনের সাথে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক "অত্যন্ত ভালো" এবং উভয় নেতাই এই সম্পর্ক বজায় রাখার গুরুত্ব উপলব্ধি করেন।
আলোচনার একটি প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল ইরানের উপর চাপ সৃষ্টি করা, যেখানে মার্কিন প্রশাসন বেইজিংকে তেহরানকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য চাপ দিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে ইরানের সাথে ব্যবসা করা দেশগুলির উপর ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করা হবে, যা তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর একটি প্রচেষ্টা। এই প্রেক্ষাপটে, জানা যায় যে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকা সত্ত্বেও, ২০২৪ সালে চীনের সাথে তেহরানের প্রায় ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য হয়েছিল। তবে, সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে দেখা যায় যে আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাবে ২০২৫ সালে এই বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়ে ৯.৯৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই অর্থনৈতিক তথ্য ওয়াশিংটনের চাপ এবং বেইজিংয়ের অব্যাহত অর্থনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে বিদ্যমান জটিলতাকে স্পষ্ট করে তোলে।
এই আলোচনার পরপরই, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে ইরানের কর্মকর্তাদের সাথে কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নিযুক্ত করা হয়েছে, যা তাৎক্ষণিক কূটনৈতিক তৎপরতার ইঙ্গিত দেয়। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর ছাড় আদায়ের জন্য চাপ দিচ্ছে, যা গত বছর জুন মাসে ইসরায়েলের সাথে ইরানের ১২ দিনের যুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি ইরানি পারমাণবিক সাইটে বোমা হামলার মাধ্যমে কিছুটা পিছিয়ে গেছে বলে ওয়াশিংটন মনে করে। ট্রাম্পের আগ্রহ রয়েছে একটি বৃহত্তর পারমাণবিক চুক্তিতে চীনকে অন্তর্ভুক্ত করার, যদিও চীন তার নিজস্ব পারমাণবিক শক্তি সীমিত করার বিষয়ে কোনো আগ্রহ দেখায়নি।
উভয় নেতার বক্তব্যের মধ্যে কৌশলগত অস্পষ্টতাও লক্ষ্য করা গেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর এপ্রিল ২০২৬-এ বেইজিং সফরের পরিকল্পনা নিশ্চিত করলেও, চীনা সরকারের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই সফরের কোনো উল্লেখ ছিল না। চীনা পক্ষ তাদের বিবৃতিতে কেবল আগামী বছর অনুষ্ঠিতব্য প্রধান সম্মেলনগুলির কথা উল্লেখ করেছে, যা ভবিষ্যতের বৈঠকের সুযোগ দিতে পারে। অন্যদিকে, তাইওয়ান প্রসঙ্গে চীন তার দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছে যে তাইওয়ানের বিচ্ছিন্নতা চীন কখনোই মেনে নেবে না।
এই উচ্চ-পর্যায়ের আলোচনার সময়টি ছিল ভূ-রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার মধ্যে বিদ্যমান সর্বশেষ পারমাণবিক অস্ত্র চুক্তি, নিউ স্টার্ট (New START) চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক একদিন পরে ঘটেছে, যা ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে কার্যকরভাবে শেষ হয়। এই চুক্তির মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার ফলে অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে এই প্রথমবার বিশ্বের বৃহত্তম দুটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের কৌশলগত অস্ত্রের উপর কোনো আইনি সীমা থাকবে না। একই দিনে শি জিনপিং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথেও পৃথক আলোচনা করেন, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামোর বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্যে এই দুই নেতার সক্রিয়তাকে তুলে ধরে।
5 দৃশ্য
উৎসসমূহ
cnbctv18.com
SIPRI
News4JAX
CTV News
The Economic Times
Brasil de Fato
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।