'পাবলিক চার্জ' বিধিমালা পর্যালোচনার মধ্যে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা স্থগিত করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি বুধবার থেকে ব্রাজিলসহ বিশ্বের ৭৫টি রাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য নতুন অভিবাসী ভিসা প্রদানের ওপর একটি সাময়িক স্থগিতাদেশ বা মোরাটোরিয়াম জারি করেছে। ২০২৬ সালের ১৪ জানুয়ারি ঘোষিত এই সিদ্ধান্তটি মূলত দেশটির অভিবাসন নীতি কঠোর করার একটি সুপরিকল্পিত অংশ। এর মূল লক্ষ্য হলো 'পাবলিক চার্জ' বা জনস্বাস্থ্যের ওপর আর্থিক বোঝা সংক্রান্ত নীতিমালার ব্যাপক পুনর্মূল্যায়নের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আইনি পথগুলোকে সীমিত করা এবং নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা।
এই স্থগিতাদেশটি একচেটিয়াভাবে সেইসব অভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যা স্থায়ীভাবে বসবাসের মর্যাদা (গ্রিন কার্ড) বা দীর্ঘমেয়াদী কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়। ট্রাম্প প্রশাসন এই পদক্ষেপের সপক্ষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিশেষ নির্দেশনার কথা উল্লেখ করেছে। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী, অভিবাসীদের অবশ্যই আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে এবং তারা কোনোভাবেই মার্কিন নাগরিকদের ওপর আর্থিক বোঝা হয়ে উঠতে পারবে না। এই নীতিটি একটি আইনি ধারণা তৈরি করে যে, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকরা অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের ২১২(এ)(৪) ধারা অনুযায়ী ভবিষ্যতে সরকারি সম্পদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে।
যদিও এই ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য আবেদন জমা দেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট কনস্যুলেট বা দূতাবাসগুলোতে সাক্ষাৎকারের মতো প্রাথমিক ভিসা প্রক্রিয়াকরণ কার্যক্রম সচল থাকবে, তবে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রকৃত অভিবাসী ভিসা ইস্যু করা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। তবে এটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, অ-অভিবাসী ভিসা যেমন পর্যটন (B1/B2), ব্যবসায়িক (B1), শিক্ষার্থী (F1/M1) এবং বিনিময় কর্মসূচির (J1) ভিসাগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে এবং সেগুলো আগের মতোই স্বাভাবিক নিয়মে প্রক্রিয়া করা হবে। যাদের কাছে ইতিমধ্যে বৈধ অভিবাসী ভিসা রয়েছে, তাদের নথিপত্র বাতিল হবে না এবং তারা পয়েন্ট অফ এন্ট্রিতে ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS) এর অনুমতি সাপেক্ষে প্রবেশের অধিকার বজায় রাখবেন। এছাড়া দ্বৈত নাগরিকত্বের অধিকারীরা যদি এই ৭৫টি দেশের তালিকার বাইরে অন্য কোনো দেশের বৈধ পাসপোর্ট প্রদর্শন করতে পারেন, তবে তারা এই বিধিনিষেধের বাইরে থাকবেন।
ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর আমেরিকান পলিসি (NFAP)-এর একটি সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর নীতির ফলে আগামী চার বছরের মেয়াদে বৈধ অভিবাসীর মোট সংখ্যা ৩৩% থেকে ৫০% পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। সংখ্যাতাত্ত্বিক হিসেবে এটি প্রায় ১৫ লক্ষ থেকে ২৪ লক্ষ মানুষের সমান। সমালোচকরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে জানিয়েছেন যে, গত বছর ইস্যু করা পারিবারিক এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক গ্রিন কার্ডের প্রায় অর্ধেকই ছিল এই স্থগিতাদেশের তালিকায় থাকা দেশগুলোর নাগরিকদের। তারা আরও অভিযোগ করেছেন যে, 'পাবলিক চার্জ' সংক্রান্ত এই দাবির সপক্ষে কোনো বস্তুনিষ্ঠ তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, কনস্যুলার কর্মকর্তা এবং ইউএসসিআইএস (USCIS) কর্মীরা ভবিষ্যৎ আর্থিক স্বাবলম্বিতা নির্ধারণে বিশেষজ্ঞ না হওয়ায় এই নতুন নিয়মগুলো অত্যন্ত ব্যক্তিগত এবং বিষয়গত সিদ্ধান্তের দিকে ধাবিত হতে পারে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিবাসন পরিবর্তনের সমান্তরালে, ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা শিক্ষকদের ন্যূনতম বেতন কাঠামো পুনর্নির্ধারণ করে একটি 'অস্থায়ী ব্যবস্থা' (MP) স্বাক্ষর করেছেন। এই নতুন ডিক্রির ফলে সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের জাতীয় ন্যূনতম বেতন ৪,৮৬৭.৭৭ রিয়াল থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৫,১৩০.৬৩ রিয়ালে দাঁড়িয়েছে। এটি মূলত ৫.৪% শতাংশ বেতন বৃদ্ধি নিশ্চিত করে, যা ২০২৫ সালের মুদ্রাস্ফীতি (৩.৯%) থেকে ১.৫% শতাংশ বেশি। উল্লেখ্য যে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ব্রাজিলের সাধারণ ন্যূনতম মজুরি ১,৬২১ রিয়াল কার্যকর হয়েছে, যাকে প্রেসিডেন্ট লুলা এর আগে 'অত্যন্ত অপ্রতুল' বলে বর্ণনা করেছিলেন।
6 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Opinião e Notícia
Agência Brasil
G1
Panrotas
Forbes Brasil
BBC News
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
