ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের কূটনীতি: ২০২৫ সালে নাটকীয় দৃশ্যপট এবং বৈশ্বিক সম্পর্কের আমূল পরিবর্তন
সম্পাদনা করেছেন: Svetlana Velgush
২০২৪ সালের নির্বাচনে কমলা হ্যারিসকে পরাজিত করার পর, ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শাসনকাল আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক অপ্রথাগত অধ্যায়ের সূচনা করেছে। ২০২৫ সাল জুড়ে ওভাল অফিসে ৪০টিরও বেশি বিদেশি নেতার সাথে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যার অনেকগুলোই ছিল গণমাধ্যমের সামনে উন্মুক্ত এবং দীর্ঘস্থায়ী। এই বিশেষ কূটনৈতিক শৈলীটি ছিল তার পূর্বসূরিদের তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা, যেখানে কঠোর সংঘাত, কূটনৈতিক তোষামোদ এবং মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির প্রচলিত মতবাদগুলোর আমূল পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়েছে। জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির স্কুল অফ অ্যাডভান্সড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের অধ্যাপক লিজেল হিন্টজ ট্রাম্পকে একজন জনতাবাদী নেতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যিনি একই সাথে একজন দক্ষ আলোচক এবং টেলিভিশন প্রযোজকের ভূমিকা পালন করে রাজনীতির এই 'দৃশ্যপট' তৈরি করেন।
২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মুহূর্ত তৈরি হয়, যখন ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির কঠোর সমালোচনা করেন এবং রাশিয়ার সাথে যুদ্ধবিরতির ওপর জোর দেন। এই সমালোচনার ফলে সাময়িকভাবে মার্কিন সহায়তা এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান স্থগিত করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ফ্লোরিডার পাম বিচে জেলেনস্কি শান্তি আলোচনায় অংশ নেন। 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতির অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প সাধারণ শরণার্থী গ্রহণ কর্মসূচি স্থগিত করেন। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ আফ্রিকানদের জন্য একটি বিশেষ ব্যতিক্রম রাখা হয়েছিল, যদিও দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার তাদের ওপর কোনো ধরনের নিপীড়নের কথা অস্বীকার করেছিল।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন প্রকাশ্যেই বিভিন্ন দেশের কর্তৃত্ববাদী নেতাদের প্রতি সমর্থন প্রদর্শন করেছে। বিশেষ করে, ২০১৮ সালে সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার পর সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের পক্ষে ট্রাম্পের অবস্থান ছিল অত্যন্ত জোরালো। এটি প্রেসিডেন্ট জোসেফ আর. বাইডেন জুনিয়রের আগের অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত ছিল, যিনি সৌদি আরবকে একটি 'একঘরে রাষ্ট্র' করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অধিকন্তু, ২০২৫ সালের নভেম্বরে গাজা উপত্যকার পুনর্গঠন এবং ফিলিস্তিনি জনসংখ্যা স্থানান্তরের বিষয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন লাভ করে, যেখানে রাশিয়া এবং চীন ভোটদান থেকে বিরত ছিল।
ট্রাম্পের এই মেয়াদে বিভিন্ন কর্তৃত্ববাদী অংশীদারিত্বের নতুন সমীকরণও দেখা গেছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নাইব বুকেলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত ২৫২ জন ভেনেজুয়েলানকে তাদের দেশের 'রাজনৈতিক বন্দিদের' সাথে বিনিময়ের প্রস্তাব দেন। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ৪৬ জন বিদেশি নেতার সাথে মোট ৪৫টি বৈঠক সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পাঁচবার সফর করেন এবং ২০২৫ সালের জুলাই মাসে তিনি ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেন। এছাড়াও ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে চারবার ট্রাম্পের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন।
কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস-এর মাইকেল ফ্রোম্যান উল্লেখ করেছেন যে, এই ধরনের ব্যক্তিগত কূটনীতি কঠোর নীতিগত প্রক্রিয়াগুলোকে এড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে, যা মূলত পেশিশক্তি এবং লেনদেনমূলক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে চলে। এই একতরফা পদ্ধতির চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় হামলা চালায়। ৩ জানুয়ারি ২০২৬-এ ডেল্টা ফোর্সের একটি বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে দেশটির নেতা নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করা হয়, যার নাম ছিল 'অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ'। সামগ্রিকভাবে, ২০২৫ সালটি ইরাক, নাইজেরিয়া, সোমালিয়া, সিরিয়া এবং ইয়েমেনে সামরিক হামলার জন্য চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তবে ওভাল অফিসের সেই নাটকীয় কূটনীতিই ছিল ট্রাম্পের ক্ষমতার প্রথম বছরের মূল বৈশিষ্ট্য। অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে তিনি ব্যাপক আমদানি শুল্ক আরোপ এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় অর্থায়ন হ্রাস করেন। পাশাপাশি ২০২৫ সালে তার প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় সশস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের সাথে সরাসরি অংশ নেয়।
13 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Digi24
2025 Donald Trump Gaza Strip takeover proposal - Wikipedia
Trump's 2025 Executive Orders | Holland & Knight
El Salvador's Bukele suggests prisoner swap for Venezuelans deported by US - Al Jazeera
Refugee Admissions Program for South Africans
A Look Back at 2025: The Year in Foreign Policy
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
