গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের বিল আনলেন কংগ্রেসম্যান ফাইন, আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি

সম্পাদনা করেছেন: gaya ❤️ one

২০২৬ সালের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলস্বরূপ মার্কিন কংগ্রেসে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান র‍্যান্ডি ফাইন ২০২৬ সালের ১৩ই জানুয়ারি হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভে ‘গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ ও রাজ্য আইন’ (Greenland Annexation and Statehood Act) পেশ করেন। এই বিলের উদ্দেশ্য হলো রাষ্ট্রপতিকে ডেনমার্কের সাথে আলোচনা করে গ্রিনল্যান্ডকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার আইনি ক্ষমতা প্রদান করা।

কংগ্রেসম্যান ফাইন, যিনি রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহযোগী হিসেবে পরিচিত, তিনি এই প্রস্তাবটিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য এবং আর্কটিক অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান রুশ ও চীনা প্রভাব মোকাবিলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। ফাইনের মতে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করা মানে মূল আর্কটিক শিপিং রুট এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ন্ত্রণ করা। এই আইনি পদক্ষেপটি এমন এক সময়ে এলো যখন রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প ১১ই জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে পুনরায় জোর দিয়েছিলেন যে প্রতিদ্বন্দ্বীদের হাতে এই অঞ্চলটি তুলে দেওয়ার পরিবর্তে এটি “অধিগ্রহণ” করা তার উদ্দেশ্য। ট্রাম্প পূর্বেও এই ভূখণ্ড অধিগ্রহণকে মার্কিন অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য “পরম প্রয়োজনীয়” বলে উল্লেখ করেছিলেন।

এই আইনটি রাষ্ট্রপতিকে অধিগ্রহণের জন্য “প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ” নেওয়ার অনুমোদন দেবে, যার মধ্যে ডেনমার্কের সাথে আলোচনাও অন্তর্ভুক্ত। এটি আলাস্কার অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া অনুসরণ করে রাজ্য হিসেবে দ্রুত ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় ফেডারেল আইনের পরিবর্তনগুলি বিশদভাবে জানাতে কংগ্রেসের কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এই আইনি পদক্ষেপটি ভেনিজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের পরপরই এলো, যেখানে রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশাসনের দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণের ইচ্ছার প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে, এই প্রস্তাবটি ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ড উভয় পক্ষ থেকেই তীব্র আন্তর্জাতিক বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছে, যারা এই ধারণাকে জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স-ফ্রেডরিক নিয়েলসেন স্পষ্ট করে বলেছেন যে এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ গ্রিনল্যান্ডের জনগণের দ্বারাই নির্ধারিত হবে, এবং তারা “গ্রিনল্যান্ডের মানুষ” হিসেবে থাকতে চায়। ন্যাটো মিত্র, যার মধ্যে ডেনমার্কও রয়েছে, তারা সতর্ক করেছে যে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ জোটের মধ্যে ফাটল সৃষ্টি করতে পারে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই সপ্তাহে ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে ডেনিশ এবং গ্রিনল্যান্ডিক কর্মকর্তাদের সাথে ওয়াশিংটন ডিসিতে বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ডেনমার্কের মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেপার মোলার সোরেনসেন ১২ই জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে প্রতিনিধি ফাইন-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন গ্রিনল্যান্ডের মর্যাদা স্পষ্ট করার জন্য। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই ১৯৫১ সালের একটি চুক্তির অধীনে পিটুফিক স্পেস ফোর্স বেস পরিচালনা করে, কিন্তু ট্রাম্প কেবল ঘাঁটি অধিকারের পরিবর্তে সরাসরি “মালিকানা” চাইছেন।

এই ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, গ্রিনল্যান্ড কৌশলগত অবস্থানে থাকার কারণে আর্কটিক শিপিং রুট এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এটি কেবল সামরিক গুরুত্বই বহন করে না, বরং বিরল মৃত্তিকা খনিজসহ বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদেও সমৃদ্ধ, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে আধিপত্য বিস্তারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় বাসিন্দা ক্রিস্টা আন্তিসারি মার্কিন অধিগ্রহণের নীতিগত আলোচনায় রূপান্তর নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, আশঙ্কা করছেন যে আদিবাসী জনগোষ্ঠী, সামাজিক পরিষেবা এবং ভাষার ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন পূর্বে সতর্ক করেছিলেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গ্রিনল্যান্ড দখলের যেকোনো প্রচেষ্টা ন্যাটো জোটের সমাপ্তি ঘটাবে। এই উত্তেজনা প্রশমনে, ডেনিশ/গ্রিনল্যান্ডিক মন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওর মধ্যে ত্রিমুখী আলোচনা এই সপ্তাহে নির্ধারিত রয়েছে।

11 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • KOMPAS.com

  • UPI

  • mtvuutiset.fi

  • Florida Politics

  • India Today

  • The Guardian

  • UNN

  • Global News

  • Florida Politics

  • Congressman Randy Fine introduces bill to allow Greenland annexation and U.S. statehood

  • Congressman Fine Introduces Greenland Annexation and Statehood Act to Strengthen U.S. National Security and Put Our Adversaries on Notice

  • US Congressman introduces bill for "Annexation and Statehood" of Greenland amid Trump's threat to control the island - The Tribune

  • Meet the ambassador

  • Al Jazeera

  • Foreign Policy

  • Bruegel

  • CBS News

  • The Guardian

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।