প্রশান্ত মহাসাগরের ৬০০০ মিটার গভীর থেকে বিরল খনিজ আহরণে জাপানের ঐতিহাসিক সাফল্য
সম্পাদনা করেছেন: Svetlana Velgush
২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি জাপান সরকার প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশের ৬০০০ মিটার গভীরতা থেকে বিরল মৃত্তিকা উপাদান (REE) সমৃদ্ধ পলি সফলভাবে উত্তোলনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিশ্বের ইতিহাসে এই প্রথম এত গভীরতা থেকে খনিজ পদার্থ আহরণ করা সম্ভব হলো, যা জাপানের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা জোরদার এবং চীনের ওপর আমদানিনির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই অপারেশনটি সফলভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যমে জাপান গভীর সমুদ্রের সম্পদ আহরণে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
এই পরীক্ষামূলক অভিযানটি ২০২৬ সালের ১১ জানুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জাপানের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত মিনামি-তোরিশিমা দ্বীপের চারপাশের জলসীমায় পরিচালিত হয়। এই কৌশলগত অভিযানে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে জাপান এজেন্সি ফর মেরিন-আর্থ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (JAMSTEC) দ্বারা পরিচালিত বৈজ্ঞানিক ড্রিলিং জাহাজ 'চিকিউ'। সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে ৭০০০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত খনন করতে সক্ষম এই জাহাজটি ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে নির্দিষ্ট অঞ্চলে তার কার্যক্রম শুরু করার জন্য নোঙর ফেলেছিল।
মিনামি-তোরিশিমা অঞ্চলের খনিজ ভাণ্ডার সম্পর্কে প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা গেছে যে এখানে প্রায় ১৬ মিলিয়ন টনেরও বেশি বিরল মৃত্তিকা উপাদানের মজুদ রয়েছে। এই বিশাল পরিমাণ মজুদ জাপানকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ খনিজ ভাণ্ডারের অধিকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। নিওডিয়ামিয়াম এবং ডিসপ্রোসিয়ামের মতো এই উপাদানগুলো বৈদ্যুতিক যান, আধুনিক ইলেকট্রনিক্স এবং উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য অপরিহার্য শক্তিশালী চুম্বক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়, যার চাহিদা বিশ্ববাজারে ক্রমাগত বাড়ছে।
বর্তমানে চীন বিশ্বজুড়ে এই বিরল খনিজ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ করে, তাই টোকিও এখন তার উৎসের বৈচিত্র্যকরণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। জাপানের ডেপুটি চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি ওজাকি মাসানাও সমমনা দেশগুলোর সাথে যৌথ উন্নয়নের মাধ্যমে স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে তাইওয়ান ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মন্তব্যের পর বেইজিং জাপানে দ্বৈত-ব্যবহারের পণ্য রপ্তানি সীমিত করলে এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়, যা জাপানকে নিজস্ব উৎসের সন্ধানে আরও তৎপর করে তোলে।
ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষক তাকাহিরো কামিসুনা মনে করেন, এই খনিজ আহরণ অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত করবে এবং চীনের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করবে। তবে বৈজ্ঞানিক মহলে এটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হলেও পরিবেশবাদীরা গভীর সমুদ্রে খনির প্রভাব এবং সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জাপান ২০২৭ সালে আরও বড় পরিসরে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা করছে, যেখানে প্রতিদিন ৩৫০ টন পলি উত্তোলনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা এই প্রকল্পের বাণিজ্যিকীকরণের পথ প্রশস্ত করবে।
৬০০০ মিটার গভীরতায় যেখানে খনিজের ঘনত্ব অনেক বেশি, সেখান থেকে সফলভাবে এই উপাদানগুলো আহরণ জাপানের সম্পদ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এই প্রযুক্তিগত সাফল্য দেশটিকে ভবিষ্যতে খনিজ সম্পদে স্বনির্ভর হতে এবং বৈশ্বিক বাজারে নিজেদের প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্ব ও অবস্থান সুসংহত করতে সাহায্য করবে।
44 দৃশ্য
উৎসসমূহ
TUOI TRE ONLINE
Nikkei Asia
News.az
Bangkok Post
Bangkok Post
The International Institute for Strategic Studies
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।