বারমুডার নিচে বিশাল ভূ-তাত্ত্বিক কাঠামোর আবিষ্কার: দ্বীপের উচ্চতা ধরে রাখার নতুন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
সম্পাদনা করেছেন: gaya ❤️ one
উত্তর আটলান্টিকের বারমুডা দ্বীপপুঞ্জের নিচে একটি বিশাল এবং অভূতপূর্ব ভূ-তাত্ত্বিক কাঠামোর অস্তিত্ব সম্প্রতি নিশ্চিত করা হয়েছে, যা দ্বীপটির দীর্ঘস্থায়ী উচ্চতার জন্য একটি নতুন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রদান করেছে। এই আবিষ্কারটি পৃথিবীর স্তরগুলির প্রচলিত জ্ঞানকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে এবং দ্বীপপুঞ্জের ভূতাত্ত্বিক রহস্যের সমাধান দিতে পারে। এই সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক গবেষণাটি ২০২৫ সালের ২৮শে নভেম্বর বিখ্যাত জার্নাল জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটার্স-এ প্রকাশিত হয়।
গবেষকরা দূরবর্তী স্থানে সংঘটিত বড় ভূমিকম্পগুলির সিসমিক তরঙ্গ বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে মহাসাগরীয় ভূত্বকের ঠিক নিচে একটি অতিরিক্ত, কম ঘনত্বের পাথরের স্তর বিদ্যমান। এই স্তরটি একটি ভূ-তাত্ত্বিক 'ভেলা' হিসেবে কাজ করে, যা বারমুডাকে প্রায় ৫০০ মিটার সমুদ্রপৃষ্ঠের উপরে ভাসিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় প্লবতা বা উত্থান প্রদান করে। এই অস্বাভাবিক ভিত্তির উৎপত্তি সম্পর্কে ধারণা করা হচ্ছে যে বারমুডার শেষ আগ্নেয়গিরির পর্যায়ে ম্যান্টলের শিলা ভূত্বকের নিচে প্রবেশ করে জমাট বেঁধে এই কাঠামো তৈরি করেছিল।
এই গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন ওয়াশিংটন ডি.সি.-এর কার্নেগি সায়েন্সের সিসমোলজিস্ট উইলিয়াম ফ্রেজার, যিনি এই কাঠামোর পুরুত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার বা ১২.৪ মাইল বলে নিশ্চিত করেছেন, যা বিশ্বের অন্য কোনো অনুরূপ স্তরে দেখা যায়নি। তার সহ-লেখক ছিলেন ইয়েল ইউনিভার্সিটির জেফরি পার্ক, যিনি বারমুডার সিসমিক স্টেশন থেকে প্রাপ্ত তথ্য ব্যবহার করে পৃথিবীর প্রায় ৩১ মাইল (৫০ কিলোমিটার) গভীরতা পর্যন্ত চিত্র ধারণ করেন। সাধারণত, মহাসাগরীয় দ্বীপগুলি আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ বন্ধ হয়ে গেলে ধীরে ধীরে ডুবে যায়, যেমনটি হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের ক্ষেত্রে ঘটে; কিন্তু বারমুডা প্রায় ৩১ মিলিয়ন বছর আগে শেষবার অগ্ন্যুৎপাতের পরেও তার উচ্চতা বজায় রেখেছে, যা একটি দীর্ঘস্থায়ী ভূতাত্ত্বিক ধাঁধা ছিল। এই নতুন আবিষ্কৃত স্তরটি সেই রহস্যের সমাধান দিচ্ছে, কারণ এর কম ঘনত্ব এটিকে দীর্ঘ সময় ধরে উত্থান বজায় রাখতে সাহায্য করছে।
ম্যাসাচুসেটসের স্মিথ কলেজের ভূতত্ত্ববিদ সারা মাজ্জা, যিনি এই গবেষণার অংশ ছিলেন না, তিনি বারমুডার অনন্যতার জন্য প্রাচীন সুপারমহাদেশ প্যাঙ্গিয়ার অবস্থানকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। মাজ্জার নিজস্ব গবেষণা অনুসারে, বারমুডার লাভা সিলিকা খনিজে কম এবং কার্বনে সমৃদ্ধ, যা নির্দেশ করে যে এই উপাদানটি পৃথিবীর গভীর ম্যান্টল থেকে পুনর্ব্যবহৃত হয়েছে, যা সম্ভবত প্যাঙ্গিয়া ভাঙার সময় সৃষ্টি হয়েছিল। ফ্রেজার এবং তার দল এখন বিশ্বজুড়ে অন্যান্য দ্বীপপুঞ্জ পরীক্ষা করার পরিকল্পনা করছেন, যাতে বারমুডার এই ভূ-তাত্ত্বিক ভিত্তিটি সত্যিই অনন্য কিনা বা অনুরূপ ঘটনা অন্য কোথাও ঘটছে কিনা তা নির্ধারণ করা যায়। এই আবিষ্কারটি সমুদ্রের দ্বীপগুলির উত্থান এবং সমর্থন সংক্রান্ত প্রচলিত ভূ-ভৌত মডেলগুলির পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য করছে। এই ২০ কিলোমিটার পুরু পাথরের স্তরটি ভূত্বক এবং ম্যান্টলের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত, যা দ্বীপের নিচে একটি অস্বাভাবিক কাঠামো তৈরি করেছে, যা সক্রিয় তাপ বা ম্যান্টল প্লুমের উপর নির্ভর না করেই দ্বীপের উচ্চতাকে দীর্ঘমেয়াদে ধরে রেখেছে।
6 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Estadão
CPG Click Petróleo e Gás
Aventuras na História
ZAP Notícias
LiveScience
ApplyKite
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?
আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
