xAI-এর সাথে ১.২৫ ট্রিলিয়ন ডলারের একীভূতকরণের পর মঙ্গলের চেয়ে চন্দ্রাভিযানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে স্পেসএক্স

সম্পাদনা করেছেন: Svetlana Velgush

ইলোন মাস্কের দূরদর্শী নেতৃত্বে পরিচালিত মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্স (SpaceX) তাদের ভবিষ্যৎ মিশনগুলোর অগ্রাধিকার তালিকায় এক বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ মঙ্গল গ্রহে একটি মানবহীন মহাকাশযান পাঠানোর যে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য ছিল, তা থেকে সাময়িকভাবে সরে এসে কোম্পানিটি এখন মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার (NASA) চন্দ্র কর্মসূচির প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছে। ২০২৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি বিনিয়োগকারীদের জন্য আয়োজিত এক বিশেষ সভায় এই কৌশলগত পরিবর্তনের কথা জানানো হয়। এই ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এলো যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান xAI-এর সাথে স্পেসএক্সের ১.২৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল একীভূতকরণ প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

স্পেসএক্সের বর্তমান এবং তাৎক্ষণিক লক্ষ্য হলো ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে তাদের শক্তিশালী স্টারশিপ (Starship) মহাকাশযানের একটি সফল ও নিরাপদ অবতরণ চাঁদের পৃষ্ঠে নিশ্চিত করা। এই মিশনটি সরাসরি নাসার আর্টেমিস (Artemis) প্রকল্পের হিউম্যান ল্যান্ডিং সিস্টেম বা এইচএলএস (HLS) উন্নয়নের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, স্টারশিপের কারিগরি উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় কিছু জটিলতা এবং নাসার সাথে স্বাক্ষরিত চুক্তির কঠোর সময়সীমা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ২০২৬ সালের জন্য নির্ধারিত মঙ্গলাভিযানের সময়সীমাটি মূলত পৃথিবী ও মঙ্গলের মধ্যকার বিশেষ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছিল, যা প্রতি দুই বছর অন্তর অনুকূল থাকে।

এই ঐতিহাসিক একীভূতকরণের আগে xAI-এর বাজার মূল্যায়ন ছিল প্রায় ২৩০ বিলিয়ন ডলার এবং স্পেসএক্সের একক মূল্য ছিল প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলার। এই দুই জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানের একত্রীকরণের ফলে স্টারলিঙ্ক (Starlink) স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক এবং গ্রোক (Grok) এআই অবকাঠামো এখন একটি সমন্বিত কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হবে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিশাল একত্রীকরণ মূলত ২০২৬ সালের জুন মাসে পরিকল্পিত একটি প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও (IPO) আনার প্রস্তুতি মাত্র। এই আইপিও-র মাধ্যমে বাজার থেকে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের নতুন পুঁজি সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে মাস্কের এই নতুন সম্মিলিত প্রতিষ্ঠানটি।

মিশনের অগ্রাধিকার পরিবর্তনের পাশাপাশি স্পেসএক্স তাদের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও নিয়ন্ত্রক অনুমোদন লাভের পথেও অনেকটা এগিয়েছে। মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) জানিয়েছে যে, ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের (KSC) ঐতিহাসিক লঞ্চ কমপ্লেক্স ৩৯এ (LC-39A) থেকে স্টারশিপ-সুপার হেভি রকেট উৎক্ষেপণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশগত সমীক্ষার কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। বর্তমানে এই কমপ্লেক্সটি ফ্যালকন ৯ এবং ফ্যালকন হেভি রকেট উৎক্ষেপণের জন্য ব্যবহৃত হলেও, আর্টেমিস চন্দ্র অভিযানের জন্য এর ভৌগোলিক ও কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। এফএএ (FAA) বর্তমানে তাদের চূড়ান্ত পরিবেশগত প্রভাব প্রতিবেদন বা ইআইএস (EIS) প্রকাশের শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

চন্দ্রাভিযানে এই বাড়তি মনোযোগ দেওয়ার পেছনে নাসার নিরাপত্তা পরামর্শক প্যানেলের পক্ষ থেকে আসা কিছু উদ্বেগের বিষয়ও কাজ করছে। স্টারশিপ এইচএলএস ল্যান্ডার তৈরির কাজে বিলম্ব হওয়ার কারণে আর্টেমিস ৩ (Artemis III) মিশনের মাধ্যমে চাঁদে নভোচারী পাঠানোর পরিকল্পনাটি ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। এর আগে, তরল হাইড্রোজেন লিক হওয়ার মতো কারিগরি ত্রুটির কারণে আর্টেমিস ২ (Artemis II) মিশনটি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। নতুন সময়সূচী অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চের শুরুতে নভোচারীদের নিয়ে চাঁদের চারপাশ দিয়ে একটি সফল পরিভ্রমণ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০০২ সালে যখন ইলোন মাস্ক স্পেসএক্স প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তখন তার মূল স্বপ্ন ছিল মঙ্গল গ্রহে মানুষের বসতি স্থাপন করা। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে তিনি মহাকাশ-ভিত্তিক ডেটা সেন্টার এবং স্টারলিঙ্ক স্যাটেলাইটের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা প্রদানকে আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে দেখছেন। xAI-এর সাথে একীভূত হওয়ার ফলে এই লক্ষ্যটি আরও শক্তিশালী হয়েছে। বর্তমান এই কৌশলটি একটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও প্রাগম্যাটিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে: প্রথমে নাসার মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করা এবং আইপিও-র মাধ্যমে আর্থিক ভিত্তি সুদৃঢ় করার পর পুনরায় মঙ্গলাভিযানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ঝাঁপিয়ে পড়া।

এই বিশাল পরিবর্তনের ফলে মহাকাশ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে স্পেসএক্সের আধিপত্য আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মহাকাশ প্রযুক্তির এই মেলবন্ধন কেবল নতুন নতুন উদ্ভাবনের পথই প্রশস্ত করবে না, বরং মহাকাশ গবেষণার খরচ কমিয়ে একে সাধারণ মানুষের আরও নাগালের মধ্যে নিয়ে আসবে। ২০২৬ সালটি স্পেসএক্সের জন্য কেবল একটি পরিবর্তনের বছর নয়, বরং এটি তাদের দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের এক নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

7 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Reuters

  • MarketScreener

  • NewsBytes

  • Forbes

  • CHOSUNBIZ

  • Forbes

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।