দক্ষিণ কোরিয়ার নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত নুরি রকেট (কেএসএলভি-II) তার চতুর্থ উৎক্ষেপণে সফল হয়েছে, যা দেশটির মহাকাশ কর্মসূচির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই উৎক্ষেপণটি নতুন প্রতিষ্ঠিত কোরিয়া অ্যারোস্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (KASA)-এর তত্ত্বাবধানে প্রথম পরিচালনা এবং প্রথমবারের মতো একটি সিস্টেম-ইন্টিগ্রেশন কোম্পানি দ্বারা পরিচালিত হওয়ায় এর তাৎপর্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ঐতিহাসিক এই ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৫ সালের ২৬শে নভেম্বর, দক্ষিণ চোল্লা প্রদেশের গোহেউং-এর নরো স্পেস সেন্টার থেকে।
কোরিয়ান স্ট্যান্ডার্ড টাইম (KST) অনুযায়ী ভোর ১টা ১৩ মিনিটের কাছাকাছি সময়ে রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়, যা নুরি রকেটের ইতিহাসে প্রথম রাত্রিকালীন উৎক্ষেপণ ছিল, যদিও একটি সেন্সর সমস্যার কারণে সামান্য বিলম্ব ঘটেছিল। এই ৪৭ মিটার লম্বা রকেটটি মোট ১৩টি স্যাটেলাইট বহন করেছিল, যার মধ্যে প্রধান পেলোড ছিল কোরিয়া অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ দ্বারা বিকশিত ৫১২ কিলোগ্রামের সিএএস৫০০-৩ পৃথিবী পর্যবেক্ষণ স্যাটেলাইট। সিএএস৫০০-৩ স্যাটেলাইটের মূল লক্ষ্য হলো মহাকাশ প্রযুক্তি যাচাই করা এবং পৃথিবীর অরোরা, এয়ারগ্লো পর্যবেক্ষণ এবং চৌম্বক ক্ষেত্র ও প্লাজমা পরিমাপের মতো মহাকাশ বিজ্ঞান গবেষণা পরিচালনা করা।
South Korea’s Nuri (KSLV-II F4)b🇰🇷🚀#1 of 2025 @kari2030's Nuri 🚀launch will place CAS500-3 into a 550–600 km SSO, supported by a 12-CubeSat rideshare spanning Earth observation, space weather, IoT comms, and in-orbit tech validation. #NuriF4 #Seoul #Korea #Kslv2 @with_KASA
এই সফল উড্ডয়নের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ার মহাকাশ কর্মসূচির ব্যবস্থাপনার বেসরকারিকরণ এবং নতুন KASA-এর কাছে কার্যক্রম হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। হানওয়া অ্যারোস্পেস প্রথমবারের মতো রকেটের উৎপাদন, সংযোজন এবং যৌথ উৎক্ষেপণ কার্যক্রমের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, যা সরকারি কৌশল অনুযায়ী মহাকাশ প্রযুক্তি খাতকে বাণিজ্যিকীকরণের দিকে চালিত করছে। পূর্বে, এই প্রযুক্তির বিকাশে কোরিয়া অ্যারোস্পেস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (KARI) মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিল। হানওয়া অ্যারোস্পেস রাষ্ট্রীয় সংস্থা KARI থেকে নুরি স্পেস রকেটের সাথে সম্পর্কিত প্রযুক্তি অধিগ্রহণের জন্য প্রায় ১৭.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা বেসরকারী খাতের ক্রমবর্ধমান ভূমিকাকে নির্দেশ করে।
এই চতুর্থ ফ্লাইটটি পূর্ববর্তী সাফল্যের ধারা বজায় রেখেছে, কারণ নুরি রকেটটি প্রথম ব্যর্থতার পর জুন ২০২২ এবং মে ২০২৩-এর উড্ডয়নগুলিতে সফলতা অর্জন করেছিল। সিএএস৫০০ প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে, দ্বিতীয় স্যাটেলাইট সিএএস৫০০-২ ২০২৬ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে উৎক্ষেপণের জন্য নির্ধারিত রয়েছে। ১৩টি স্যাটেলাইট এবং একটি জটিল জাতীয় পর্যবেক্ষণ স্যাটেলাইট বহন করে প্রথম রাত্রিকালীন উৎক্ষেপণ সফলভাবে সম্পন্ন করা, নুরি কর্মসূচির ক্রমবর্ধমান নির্ভরযোগ্যতা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার প্রমাণ দেয়। সিএএস৫০০ স্যাটেলাইটগুলি মূলত কোরিয়ান ভূমি সম্পদ পর্যবেক্ষণ এবং ত্রিমাত্রিক স্টেরিও ইমেজিংয়ের জন্য ব্যবহৃত হবে, যেখানে মূল উপাদানগুলির প্রায় ৯৮.৬% দেশীয়ভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা বিদেশী প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা হ্রাস করেছে।


