আর্টেমিস প্রকল্পের অধীনে কৃত্রিম চাঁদের মাটিতে সফলভাবে ছোলা চাষ

সম্পাদনা করেছেন: An goldy

টেক্সাস ইউনিভার্সিটি অ্যাট অস্টিন এবং টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটির একদল বিশেষজ্ঞ গবেষক মহাকাশে উদ্ভিদ চাষের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো ছোলার একটি ফসলকে সফলভাবে পরিপক্ক পর্যায়ে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন, যেখানে তারা চাঁদের মাটির রাসায়নিক ও কাঠামোগত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন একটি কৃত্রিম স্তর বা সিমুল্যান্ট ব্যবহার করেছেন। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এই অভাবনীয় সাফল্যের কথা জানানো হয়, যা দীর্ঘমেয়াদী মানববাহী মহাকাশ মিশন, বিশেষ করে 'আর্টেমিস' প্রকল্পের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি বিশাল অগ্রগতি।

এই গবেষণার প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল চাঁদের মাটির প্রতিকূল বৈশিষ্ট্যগুলো জয় করা। লুনার সিমুল্যান্ট বা কৃত্রিম চাঁদের মাটিতে কোনো জৈব অণুজীব থাকে না এবং এতে অ্যালুমিনিয়াম, তামা ও দস্তার মতো উদ্ভিদের জন্য বিষাক্ত ভারী ধাতু বিদ্যমান থাকে। এছাড়া এই মাটির পানি ধরে রাখার ক্ষমতাও অত্যন্ত কম। এই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য গবেষক দলটি একটি দ্বি-স্তরীয় 'বায়োরিমিডিয়েশন' পদ্ধতি প্রয়োগ করেন। তারা এক্সোলিথ ল্যাবস (Exolith Labs) দ্বারা তৈরি এবং অ্যাপোলো মিশনের নমুনার আদলে প্রস্তুত রেগোলিথের সাথে ভার্মিকম্পোস্ট মিশ্রিত করেন, যা মাটিকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও অণুজীব সরবরাহ করে। এই প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল 'মাইলস' (Miles) জাতের ছোলার বীজে আরবাসকুলার মাইকোরাইজাল ছত্রাক (AMF) যুক্ত করা।

এই বিশেষ ধরনের ছত্রাকগুলো একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক তৈরি করে যা উদ্ভিদের শিকড়কে অধিক পরিমাণে ফসফরাস ও পানি শোষণে সহায়তা করে। একই সাথে এটি একটি জৈবিক ছাঁকনি হিসেবে কাজ করে, যা ভারী ধাতুর আয়নগুলোকে আটকে দিয়ে উদ্ভিদের কোষে বিষাক্ত পদার্থ জমতে বাধা দেয়। এই প্রকল্পের প্রধান সারা সান্তোস উল্লেখ করেছেন যে, তাদের গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল চাঁদের ধূলিকণাকে কীভাবে একটি উর্বর ও জীবনধারণযোগ্য মাটিতে রূপান্তর করা সম্ভব তা যাচাই করা। পরীক্ষালব্ধ তথ্য অনুযায়ী, ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত লুনার সিমুল্যান্ট মিশ্রিত মাটিতে 'মাইলস' জাতের ছোলা সফলভাবে ফলন দিতে পেরেছে। তবে এই সীমার বেশি মাটি ব্যবহার করলে চারাগুলো তীব্র শারীরিক চাপের মুখে পড়ে মারা যায়। উল্লেখযোগ্য যে, ছত্রাকহীন নমুনাগুলো মাত্র দশ সপ্তাহের মধ্যেই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।

রাসায়নিক পরিবর্তনের পাশাপাশি বিজ্ঞানীরা মাটির জলবিদ্বেষী বা হাইড্রোফোবিক সমস্যা দূর করতে একটি বিশেষ তুলা-ভিত্তিক উইক ইরিগেশন পদ্ধতি ব্যবহার করেন। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে সরাসরি শিকড় অঞ্চলে পানি সরবরাহ করা নিশ্চিত করা হয়, যা রেগোলিথের পানি ধারণের অক্ষমতাকে কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে। পুরো চাষ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে ১২০ দিন সময় লেগেছে, যা পৃথিবীতে সাধারণ চাষের সময়ের তুলনায় কিছুটা দীর্ঘ। নাসা (NASA) এর FINESST গ্রান্ট প্রোগ্রামের অর্থায়নে এই গবেষণার পরবর্তী ধাপে উৎপাদিত ফসলের বিষক্রিয়া বিশ্লেষণ করা হবে। এর মাধ্যমে মহাকাশচারীদের জন্য এই ছোলার পুষ্টিগুণ এবং এতে থাকা ধাতব উপাদানের মাত্রা পরীক্ষা করা হবে।

এই গবেষণার সফল সমাপ্তি ভবিষ্যতে চাঁদের বুকে স্থায়ী মানব বসতি বা চন্দ্রঘাঁটি স্থাপনের জন্য একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পথ প্রশস্ত করবে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই পদ্ধতি কেবল মহাকাশেই নয়, বরং পৃথিবীর অনুর্বর ও বিষাক্ত মাটিতে চাষাবাদের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এই অর্জনটি একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে, যা প্রমাণ করে যে প্রতিকূল পরিবেশেও প্রাণের বিকাশ সম্ভব।

3 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • POSITIVR

  • כיכר השבת

  • l'OlivoNews

  • Moulin à huile Nicolas

  • PratiqueJardin

  • Chauffage Budget

  • Olivarbo

  • Universe Space Tech

  • Starlust.org

  • Science News

  • Space.com

এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।