প্রকৃতির ইলেকট্রোস্ট্যাটিক্স: সজিনা বীজ কীভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিককে 'চৌম্বকের মতো' আকর্ষণ করে

লেখক: Svetlana Velhush

প্রকৃতির ইলেকট্রোস্ট্যাটিক্স: সজিনা বীজ কীভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিককে 'চৌম্বকের মতো' আকর্ষণ করে-1

বর্তমানে আর্কটিকের বরফ থেকে শুরু করে মানুষের রক্ত—সবখানেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যাচ্ছে। জল শোধনাগারের প্রচলিত পদ্ধতিগুলো এই দূষণ মোকাবিলায় আংশিক সফল হলেও অ্যালুমিনিয়াম সল্টের মতো কৃত্রিম জমাট বাঁধানোর উপাদানগুলো পেছনে রাসায়নিক রেশ রেখে যায়। এমতাবস্থায়, হাজার বছর ধরে লোকজ চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি উদ্ভিদের ওপর কি আমরা জল বিশুদ্ধকরণের দায়িত্ব অর্পণ করতে পারি?

উষ্ণমন্ডলীয় অঞ্চলে জন্মানো সজিনা গাছ বা Moringa oleifera এই অদৃশ্য দূষণের বিরুদ্ধে এক কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। এর মূল রহস্য লুকিয়ে আছে বীজের ভেতরে। এই বীজে রয়েছে অনন্য ক্যাটায়নিক প্রোটিন। এই অণুগুলো ধনাত্মক বৈদ্যুতিক আধানযুক্ত, অন্যদিকে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা ও ব্যাকটেরিয়াসহ জলের অধিকাংশ দূষক সাধারণত ঋণাত্মক আধানযুক্ত হয়।

যখন গুঁড়ো করা বীজ জলে মেশানো হয়, তখন এর প্রোটিনগুলো অনেকটা চুম্বকের মতো কাজ করে। এগুলো অণুজীব বা কণাগুলোকে আকর্ষণ করে তাদের আধান নিরপেক্ষ করে দেয় এবং বড় গুচ্ছে বা 'ফ্লকুল'-এ পরিণত করে। এই দলাগুলো নিজেদের ওজনেই তলায় থিতিয়ে পড়ে জলকে স্বচ্ছ করে তোলে। গবেষণা নিশ্চিত করেছে যে, এই পদ্ধতিতে প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক দূর করা সম্ভব।

এটি কেবল সাধারণ কোনো 'প্রাকৃতিক আঠা' নয় বরং এটি এক জটিল তড়িৎ-রাসায়নিক প্রক্রিয়া, যা ভবিষ্যতে ব্যয়বহুল কৃত্রিম রাসায়নিকের বিকল্প হতে পারে। এর বড় সুবিধা হলো সজিনা একটি নবায়নযোগ্য সম্পদ। এটি যে কোনো পরিবেশে দ্রুত বড় হয় এবং প্রক্রিয়াকরণের জন্য জটিল কোনো ব্যবস্থার প্রয়োজন হয় না। ফলে যেসব দেশে উচ্চ প্রযুক্তির শোধনাগার তৈরির বাজেট নেই, তাদের জন্য এই প্রযুক্তি অত্যন্ত সহজলভ্য।

তবে বড় পরিসরে ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। জলের নিজস্ব জৈব দূষণ না বাড়িয়ে কীভাবে এই উদ্ভিজ্জ প্রোটিনকে শিল্প ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা যায়, তা নিয়ে কাজ চলছে। বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যেই হাইব্রিড ফিল্টার তৈরির কাজ শুরু করেছেন, যেখানে বালু বা সিলিকার স্তরে সজিনা প্রোটিন যুক্ত থাকবে।

এটি হয়তো রাতারাতি মহাসাগরগুলোকে বাঁচাতে পারবে না, তবে আমাদের কলের জলের মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করতে পারে। প্রকৃতি যে ইতিমধ্যেই এমন ইঞ্জিনিয়ারিং সমাধান তৈরি করে রেখেছে যা আমরা এখন বুঝতে শুরু করছি, তা কি আমরা স্বীকার করতে প্রস্তুত?

এই ধরণের পদ্ধতির প্রয়োগ জল সরবরাহের একটি চক্রাকার ব্যবস্থা বা 'ক্লোজড-লুপ' সিস্টেম তৈরিতে সহায়ক হবে। ভবিষ্যতে এটি বাস্তুতন্ত্রের ওপর চাপ কমিয়ে জল শোধন প্রক্রিয়াকে একটি জটিল রাসায়নিক ধাপ থেকে নিরাপদ জৈবিক অ্যালগরিদমে রূপান্তর করতে সাহায্য করবে।

20 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • ScienceDaily — Ведущий портал научных новостей

  • Nature Communications — Публикация о механизмах связывания белков моринги

এই বিষয়ে আরও নিবন্ধ পড়ুন:

😍 "เปราะนพรัตน์ (Phro Nopparat)", a new species of Thai endemic plant, has been discovered. It belongs to the ginger family, genus *Kaempferia galanga*. It is found exclusively in Doi Saket and San Kamphaeng districts, Chiang Mai province, Thailand. It blooms at night. 💮

Image
3
Reply
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।