ভারতীয় বিজ্ঞানীরা Antarctica-এ গবেষণা করছেন।
সাত হাজার বছরের পুরনো কৃষ্ণ কার্বনের সন্ধান অ্যান্টার্কটিকায়: ভারতীয় বিজ্ঞানীদের জলবায়ু মডেলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান
সম্পাদনা করেছেন: Uliana S.
গোয়ার ন্যাশনাল সেন্টার ফর পোলার অ্যান্ড ওশানিক রিসার্চ (NCPOR)-এর ভারতীয় বিজ্ঞানীরা পূর্ব অ্যান্টার্কটিকার প্রাচীন জলবায়ু সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের কথা ঘোষণা করেছেন। গবেষকরা লারসম্যান হিলস-এর পাপস ল্যাগুন লেক (Pup Lagoon Lake) থেকে সংগৃহীত তলানি পরীক্ষা করে প্রায় ৭,০০০ বছর পুরোনো কৃষ্ণ কার্বনের (Black Carbon) চিহ্ন শনাক্ত করেছেন। লারসম্যান হিলস হলো প্রুডস উপসাগর অঞ্চলের প্রায় ৪০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এক বিরল বরফমুক্ত উপকূলীয় মরূদ্যান, যা এর অনন্য ভূ-তত্ত্বের কারণে গবেষণার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ স্থান।
भारतीय বিজ্ঞানীরা Antarctica-এ গবেষণা করছেন
কৃষ্ণ কার্বন, যা সাধারণত কালি বা ঝুল নামে পরিচিত, এটি কার্বন ডাই অক্সাইডের পরে দ্বিতীয় শক্তিশালী উষ্ণায়নকারী উপাদান হিসেবে বিবেচিত। বৈজ্ঞানিক তথ্য অনুসারে, এই পদার্থ বরফের তুলনায় শতগুণ বেশি কার্যকরভাবে সৌর বিকিরণ শোষণ করতে পারে, যার ফলে বরফ গলার প্রক্রিয়া (অ্যাবলেশন) দ্রুততর হয়। এনসিপিওআর-এর এই গবেষণা মূলত নির্ধারণ করতে চাইছে যে অতীতে এই দূষণকারীর মাত্রা কীভাবে বরফ গলাকে প্রভাবিত করেছিল, যা বর্তমান জলবায়ু সংকটের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। সাত হাজার বছরের পুরোনো কৃষ্ণ কার্বনের এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে প্রাচীনকালে বনভূমিতে লাগা দাবানল থেকে নির্গত কালি আন্তঃমহাদেশীয়ভাবে বাহিত হয়েছিল, যা এই দূষণকারীর দীর্ঘমেয়াদী বিশ্বব্যাপী বিস্তারের ক্ষমতাকে তুলে ধরে।
Goa-এ The National Centre for Polar and Ocean Research অ্যান্টার্কটিকা গবেষণা করে
বরফ দ্রুত গলে যাওয়ার সম্ভাব্য পরিণতিগুলি গভীর উদ্বেগের কারণ, কারণ উষ্ণায়নের বর্তমান ধারা বজায় থাকলে আগামী ৫০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় ৫০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেতে পারে। এই পরিস্থিতি ভারতের মতো ঘনবসতিপূর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য সরাসরি হুমকি সৃষ্টি করে, যা চলমান গবেষণার প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তোলে। অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলার এই অধ্যয়ন মেরু অঞ্চলের ভঙ্গুর বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্ব এবং ভবিষ্যতের পরিবর্তনের সঠিক পূর্বাভাস দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাকে আরও একবার স্পষ্ট করে তুলেছে।
ভারত 1981 সালে আন্তার্কটিকা অধ্যয়ন শুরু করেছে।
লারসম্যান হিলস, যেখানে ভারতের 'ভারতী' গবেষণা কেন্দ্রটি অবস্থিত, সেটি পরিবেশগত সুরক্ষার জন্য ২০০৭ সালে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, চীন, রোমানিয়া এবং রাশিয়ান ফেডারেশন যৌথভাবে এটিকে অ্যান্টার্কটিকার বিশেষ ব্যবস্থাপনা অঞ্চল (ASMA) হিসেবে মনোনীত করেছিল। এই অঞ্চলে বৈজ্ঞানিক কার্যকলাপ বহু দেশের দ্বারা পরিচালিত হয়, যার মধ্যে রয়েছে রাশিয়া (প্রোগ্রেস স্টেশন), চীন (ঝংশান স্টেশন) এবং রোমানিয়া (লোউ-রাকোভিটসা স্টেশন), যা এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক কেন্দ্র করে তুলেছে। এই সাত হাজার বছরের পুরোনো কৃষ্ণ কার্বনের মতো প্রাচীন দূষণকারীগুলির অধ্যয়ন বিজ্ঞানীদের জলবায়ু মডেলগুলিকে সঠিকভাবে ক্রমাঙ্কিত করতে এবং ভবিষ্যতের পূর্বাভাসগুলির নির্ভুলতা বাড়াতে সাহায্য করে।
বৈশ্বিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে, বিজ্ঞানীরা আরও লক্ষ্য করেছেন যে অ্যান্টার্কটিকার শেল্ফ হিমবাহগুলির পৃষ্ঠতলের গলন সম্ভবত দ্বিগুণ পরিমাণে কম করে দেখানো হয়েছে। এর কারণ হলো বরফের গলনের ফলে সৃষ্ট বরফ-জল মিশ্রণ (ফার্ন) ম্যাপ করা কঠিন, যা গলিত জলের প্রায় ৫৭% এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এই কারণে, পাপস ল্যাগুন লেকের মতো স্থান থেকে প্রাপ্ত ঐতিহাসিক তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই হ্রদটি লারসম্যান হিলসের ১৫০টিরও বেশি হ্রদের মধ্যে অবস্থিত। ফলস্বরূপ, ভারতীয় গবেষকদের এই আবিষ্কার জলবায়ু চালকগুলির দীর্ঘমেয়াদী গতিশীলতা বোঝার ক্ষেত্রে এক উল্লেখযোগ্য অবদান রাখল।
উৎসসমূহ
The New Indian Express
ETV Bharat News
ETV Bharat
ETV Bharat
NCPOR
ResearchGate
Times of India
GS TIMES
ETV Bharat
Business Standard
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?
আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
