অস্ট্রেলিয়ার জরুরি পশুচিকিৎসকরা গ্রীষ্মের প্রখর তাপদাহের সময় কুকুরের হিটস্ট্রোকের মারাত্মক ও প্রায়শই প্রাণঘাতী পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। পরিবেশের তাপমাত্রা এবং আপেক্ষিক আর্দ্রতা হঠাৎ বৃদ্ধি পেলে কুকুরের শরীরে তাপ জমে এই সংকট সৃষ্টি হতে পারে, যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে অভ্যন্তরীণ অঙ্গের ক্ষতিসাধন করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে, পোষ্য মালিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
সিডনির ভেটেরিনারি স্পেশালিস্টের বিশেষজ্ঞ পশুচিকিৎসক ডক্টর ক্যারিনা গ্রাহাম বেশ কিছু গুরুতর ঘটনা তুলে ধরেছেন। ডক্টর গ্রাহামের ক্লিনিকগুলিতে চরম তাপমাত্রার কারণে বেঁচে থাকার জন্য প্রতিদিন প্রায় পাঁচটি কুকুরকে ভেন্টিলেশনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। একটি মর্মান্তিক ঘটনায়, একটি ফ্রেঞ্চ বুলডগ মাত্র এক ঘণ্টা বাইরে থাকার পর তার দেহের তাপমাত্রা ৪২.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করায় মারা যায়, যা এই অবস্থার ভয়াবহতা প্রমাণ করে। সাধারণত, কুকুরের দেহের মূল তাপমাত্রা যখন ৪১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়, তখনই হিটস্ট্রোক শুরু হয় এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসা না পেলে অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
পশুচিকিৎসক ডক্টর স্যাম হেইন্স সিডনি অ্যানিমেল হসপিটাল থেকে সতর্ক করেছেন যে, ব্র্যাকিওসেফালিক বা চ্যাপ্টা মুখের প্রজাতির কুকুর এবং যাদের ঘন লোম রয়েছে, তারা এই তাপজনিত সংকটের জন্য বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। অতিরিক্ত লোম শীতকালে সুরক্ষার কাজ করলেও, গরমকালে তা শরীরের তাপ নির্গমনে বাধা সৃষ্টি করে, কারণ কুকুর মূলত পায়ের তালুর ঘর্মগ্রন্থি এবং দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাসের (panting) মাধ্যমে তাপ নিয়ন্ত্রণ করে, যা তীব্র গরমে অপ্রতুল হতে পারে।
পোষ্য মালিকদের অবশ্যই কিছু নির্দিষ্ট উপসর্গ সম্পর্কে অবগত থাকতে হবে, যার মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত দ্রুত শ্বাস নেওয়া, লালা ঘন হয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া। যদি কুকুরের শরীরের তাপমাত্রা ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি হয়ে যায়, তবে তা হাইপারথার্মিয়া নির্দেশ করে এবং ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটের উপরে তাপমাত্রা মাল্টি-অর্গান ফেইলিওর এবং মৃত্যুর কারণ হতে পারে। হিটস্ট্রোক একটি সময়-সংকটপূর্ণ জরুরি অবস্থা, এবং পশুচিকিৎসকের কাছে পৌঁছাতে দেরি হলে তা প্রাণঘাতী প্রমাণিত হতে পারে।
পশুচিকিৎসা সংস্থাগুলি উচ্চ তাপমাত্রার সময় পোষ্য মালিকদের জন্য কিছু অপরিহার্য প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের ওপর জোর দিয়েছে। এর মধ্যে প্রধান হলো, তাপমাত্রা যখন ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করে, তখন কুকুরকে হাঁটাতে না দেওয়া; পরিবর্তে, সকালের প্রথম দিকে অথবা সন্ধ্যার পরে হাঁটার সময় নির্ধারণ করা উচিত। একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হলো ফুটপাথের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা: যদি আপনার হাতের উল্টো দিক সাত সেকেন্ড ধরে গরম পৃষ্ঠে রাখা কঠিন হয়, তবে তা কুকুরের থাবার জন্য অতিরিক্ত গরম। সম্ভব হলে, তাপপ্রবাহের সময় কুকুরদের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্থানে রাখা বাঞ্ছনীয়। এছাড়াও, সর্বদা তাজা ও শীতল জলের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং বরফযুক্ত ট্রিটস বা পানীয়ের মাধ্যমে তাদের শরীরকে ভেতর থেকে শীতল রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত গরমে কুকুরকে ব্যক্তিগত গাড়িতে দীর্ঘ সময়ের জন্য রেখে যাওয়া বা রৌদ্রোজ্জ্বল স্থানে ফেলে রাখা মারাত্মক ভুলের মধ্যে গণ্য হয়।




