পাপুয়ায় বিলুপ্ত বলে ধারণা করা দুটি মারসুপিয়াল গণ পুনরায় আবিষ্কৃত: 'Tous' এবং 'Dactylonax'
সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova
ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়া অঞ্চলের প্রত্যন্ত রেইনফরেস্টে দুটি মারসুপিয়াল প্রজাতিকে জীবিত অবস্থায় শনাক্ত করা হয়েছে, যেগুলিকে পূর্বে জীবাশ্ম রেকর্ড অনুসারে প্রায় ৬,০০০ বছর আগে বিলুপ্ত বলে মনে করা হয়েছিল। এই আবিষ্কারের মাধ্যমে একটি নতুন গণের প্রতিষ্ঠা হয়েছে এবং এটি বৈজ্ঞানিক মহলে উল্লেখযোগ্য আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। অস্ট্রেলিয়ান মিউজিয়ামের ফেলো অধ্যাপক টিম ফ্ল্যানারি এবং বিশপ মিউজিয়ামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও অধ্যাপক ক্রিস্টোফার হেলজেন এই গবেষণার নেতৃত্ব দেন, যার ফলাফল ২৬শে মার্চ, ২০২৬ সালে রেকর্ডস অফ দ্য অস্ট্রেলিয়ান মিউজিয়াম জার্নালে প্রকাশিত হয়।
শনাক্ত হওয়া দুটি প্রজাতির মধ্যে একটি হলো রিং-টেইলড গ্লাইডার, যা এখন নতুন গণ **Tous** এবং প্রজাতি *Tous ayamaruensis* (রিং-টেইলড গ্লাইডার) হিসাবে চিহ্নিত। এই বংশধরটি বৃহত্তর গ্লাইডারের নিকটতম জীবিত আত্মীয়, তবে এটি আকারে ছোট, এর কান লোমহীন এবং একটি গ্রাসকক্ষম লেজ রয়েছে, যা এটিকে তার নিকটাত্মীয়দের থেকে পৃথক করে। অন্য প্রজাতিটি হলো পিগমি লং-ফিঙ্গারড পসাম (*Dactylonax kambuayai*), যা তার হাতের একটি আঙুল অন্যগুলোর তুলনায় দ্বিগুণ লম্বা হওয়ার জন্য পরিচিত। এই দুটি প্রাণীই 'লাজারাস ট্যাক্সন' হিসেবে বিবেচিত—অর্থাৎ যে প্রজাতিগুলি বিলুপ্ত বলে মনে করা হয়েছিল কিন্তু জীবিত বিশ্বে পুনরায় আবির্ভূত হয়েছে। এই প্রাণীগুলির প্রথম নথিভুক্ত প্রমাণ পাওয়া যায় ২০১৫ সালে একজন নাগরিক বিজ্ঞানীর তোলা ছবিতে।
এই আবিষ্কারটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ কারণ নিউ গিনিতে ১৯৩৭ সালের পর এটিই প্রথম নতুন স্তন্যপায়ী গণ, যা বর্ণনা করা হলো। গবেষকরা জীবাশ্ম রেকর্ডের সাথে অঙ্গসংস্থান, বিশেষত দাঁতের বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই গণের মর্যাদা নিশ্চিত করেন। এই শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াটি স্থানীয় জ্ঞান এবং সহযোগিতার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল; ভোজেলকপ উপদ্বীপের স্থানীয় তামব্রাউ এবং মায়ব্রাত গোষ্ঠীগুলির প্রবীণদের সাথে নিবিড় আলোচনার মাধ্যমে এই প্রাণীগুলির অস্তিত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে, যা ঐতিহ্যবাহী মালিকদের সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে।
রিং-টেইলড গ্লাইডারটি বছরে মাত্র একটি শাবক উৎপাদন করে, যা এর কম প্রজনন হারের ইঙ্গিত দেয় এবং এটিকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। এই গ্লাইডারটি যে স্থানে বাস করে, সেখানে বিশাল কউরি গাছ রয়েছে, যা স্থানীয়দের বিশ্বাস অনুসারে সমস্ত প্রাণী ও মানুষের জন্মস্থান। স্থানীয় কিছু গোষ্ঠী এই গ্লাইডারটিকে পবিত্র মনে করে এবং এটিকে পূর্বপুরুষদের আত্মার প্রকাশ হিসাবে বিবেচনা করে। এই প্রজাতির সীমিত বাসস্থান বর্তমানে বন উজাড় এবং পাম তেল সম্প্রসারণের কারণে হুমকির মুখে। গ্লোবাল ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড এবং মাইন্ডেরু ফাউন্ডেশনের সহায়তায় গবেষকরা ভোজেলকপ বনাঞ্চলের জরুরি সুরক্ষার জন্য স্থানীয় সম্প্রদায়ের সাথে কাজ করছেন, যা এই নতুন বর্ণিত প্রজাতির শেষ আশ্রয়স্থল হতে পারে।
এই ধরনের পুনঃআবির্ভাব প্রমাণ করে যে প্রকৃতির স্থিতিস্থাপকতা রয়েছে এবং আমাদের প্রাকৃতিক জগৎ সম্পর্কে জ্ঞান এখনও অসম্পূর্ণ। ভোজেলকপ অঞ্চলটি অস্ট্রেলিয়ান মহাদেশের একটি প্রাচীন অংশ যা নিউ গিনির সাথে সংযুক্ত হয়েছিল, এবং এর অরণ্য অতীতে হারিয়ে যাওয়া আরও অনেক প্রজাতির নিদর্শন ধারণ করতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন।
4 দৃশ্য
উৎসসমূহ
The Conversation
PULZO
Discover Magazine
The Guardian
Live Science
Smithsonian Magazine
EastMojo
Pulzo
El Espectador
Infobae
Ciencia1.com
Banrepcultural.org
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।



