ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বাইরে তরুণদের মধ্যে আধ্যাত্মিকতার উত্থান ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিক্রিয়া

সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova

সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে আঠারো থেকে ঊনত্রিশ বছর বয়সী তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে গত পাঁচ বছরে আধ্যাত্মিকতার এক উল্লেখযোগ্য উত্থান ঘটেছে। এই প্রবণতা সমাজের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে, যেখানে তরুণ প্রজন্ম প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মীয় কাঠামো থেকে সরে এসে নিজস্ব আধ্যাত্মিক তৃষ্ণা মেটাতে সচেষ্ট। আটটি দেশের উপর পরিচালিত একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে যে প্রায় ৫০ শতাংশ উত্তরদাতা আধ্যাত্মিকতার বৃদ্ধি অনুভব করেছেন। এই বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে তারা যুদ্ধ এবং দুর্নীতির মতো বৈশ্বিক সামাজিক সমস্যাগুলির প্রতি তীব্র সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গিকে চিহ্নিত করেছেন। এই তথ্য ইঙ্গিত করে যে, জাগতিক অস্থিরতা তরুণদের মধ্যে গভীরতর অর্থ এবং উদ্দেশ্যের সন্ধানকে উৎসাহিত করছে।

এই আধ্যাত্মিক অন্বেষণ প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের প্রতি অনীহার সমান্তরালে ঘটছে, তবে এটি নিছক ধর্মবিমুখতা নয়; বরং এটি অতিপ্রাকৃত বা উচ্চতর কিছুর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সক্রিয় প্রচেষ্টা। উদাহরণস্বরূপ, ভারতে জেড প্রজন্মের প্রায় ৭০ শতাংশ তরুণ প্রার্থনা করার পর অধিক আত্মবিশ্বাসী বোধ করে বলে একটি যুব চ্যানেলের সমীক্ষায় প্রকাশ পেয়েছে। এই পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের যোগাযোগের কৌশলগুলিতে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগাচ্ছে। তারা সমসাময়িক মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এবং সহজবোধ্য বার্তা ব্যবহারের মাধ্যমে এই আধ্যাত্মিক আকাঙ্ক্ষাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।

আধুনিক প্রতিষ্ঠানের জনসংযোগ বিভাগগুলো ডিজিটাল মাধ্যমকে কৌশলগত শক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও এই ডিজিটাল কৌশল গ্রহণ করছে, যেমন ফেসবুক, টুইটার এবং হোয়াটসঅ্যাপের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে সহনশীলতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধির বার্তা প্রচার করা হচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো সমসাময়িক সংস্কৃতি ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছে। এই প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ, আধুনিক পশ্টরাল পদ্ধতিতেও পরিবর্তন এসেছে, যেখানে ধর্মযাজকরা শাস্ত্রের বিষয়বস্তুকে দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সংযুক্ত করতে সহজ ভাষা ব্যবহার করছেন, যা বিবাহের মতো বিষয়গুলিতে বর্ধিত অংশগ্রহণের হার দ্বারাও প্রমাণিত।

এই নতুন আধ্যাত্মিকতার বিস্তার একটি জটিল সামাজিক চিত্র তুলে ধরে, যেখানে যারা নিজেদের অবিশ্বাসী হিসেবে চিহ্নিত করেন, তাদের মধ্যেও প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের বাইরে আধ্যাত্মিকতার চর্চা লক্ষ্য করা যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মারুফ উল্লেখ করেছেন যে তরুণ প্রজন্ম ইসলামের সঠিক জ্ঞান অর্জনে আগ্রহী হচ্ছে, যা পরিবার এবং সমাজের প্রাথমিক ধর্মীয় আবহ থেকে শুরু হয়। তবে, আধুনিক শিক্ষা ও বিজ্ঞানের সঙ্গে সংঘাত, এবং ধর্মের রাজনৈতিক অপব্যবহার অনেক ক্ষেত্রে তরুণদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে, আধ্যাত্মিক জ্ঞানসম্পন্ন মানুষ গড়ার জন্য ধর্মের সাথে বিজ্ঞানের সমন্বয় প্রয়োজন, কারণ বিজ্ঞান ভৌত জগতের উৎস অনুসন্ধানে সাহায্য করে, আর আধ্যাত্মিকতা অনুভূতির মাধ্যমে উৎস সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান প্রদান করে। এই সম্মিলিত দৃষ্টিভঙ্গি তরুণদের মধ্যে সৃষ্ট হতাশা ও উদ্বেগের মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে, যা মোবাইল আসক্তি বা অন্যান্য সামাজিক সমস্যা থেকে উদ্ভূত। প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত হবে এই নতুন আধ্যাত্মিক জাগরণকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের বার্তা ও পদ্ধতির মাধ্যমে এই অনুসন্ধিৎসু প্রজন্মকে আরও প্রাসঙ্গিক ও অর্থপূর্ণ উপায়ে যুক্ত করা, যা দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং ব্যক্তিগত সন্তুষ্টি বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে।

3 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Valencia Plaza

  • Valencia Plaza

  • Apple Podcasts

  • EL PAÍS

  • Omnes

  • Pontificia Università della Santa Croce - PUSC

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।