অভ্যন্তরীণ প্রেরণা ও ধারাবাহিকতা: দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের অপরিহার্য ভিত্তি

সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova

গবেষণায় দেখা গেছে যে, নতুন বছরের সংকল্প গ্রহণের প্রাথমিক উদ্দীপনা হ্রাস পায় যখন কেউ একই সময়ে অত্যধিক উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য নির্ধারণ করে। মনোবিজ্ঞানীরা এই প্রাথমিক ভারাক্রান্ত অবস্থাকে একটি বৃহৎ নির্মাণ প্রকল্পের শুরুর সাথে তুলনা করেন, যেখানে প্রাথমিক উৎসাহ দ্রুত ব্যবহারিক জটিলতা এবং মানসিক চাপের কাছে হার মানে। এই ধরনের অবাস্তব পরিকল্পনা পূরণে ব্যর্থতা প্রায়শই আত্মবিশ্বাসের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, কারণ ব্যক্তিরা ভুল পরিকল্পনা প্রণয়নকে ব্যক্তিগত শৃঙ্খলার ঘাটতি হিসেবে ভুলভাবে চিহ্নিত করে। ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি জার্নালে প্রকাশিত একটি সমীক্ষা অনুসারে, মাত্র ৪৬ শতাংশ লোক তাদের নতুন বছরের সংকল্প মেনে চলতে পারে, যা ইঙ্গিত করে যে অর্ধেকেরও বেশি মানুষ তাদের সংকল্প কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়।

টেকসই পরিবর্তন অর্জনের ভিত্তি দুটি মূল নীতির উপর নির্ভরশীল: একঘেয়ে, অবিচল পুনরাবৃত্তি এবং গভীর অভ্যন্তরীণ প্রেরণার সাথে সংযোগ স্থাপন। কার্যকর লক্ষ্য অর্জনের জন্য "আমি কেন এই পরিবর্তনটি চাই?" এই মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খোঁজা অপরিহার্য। উদাহরণস্বরূপ, পরিবারকে আরও শক্তি দিতে বা অভ্যন্তরীণ শান্তি লাভের মতো অভ্যন্তরীণ চালিকাশক্তিগুলি জীবনের অনিবার্য বাধাগুলির বিরুদ্ধে স্থিতিস্থাপকতা প্রদান করে। ভিয়েতনামের মতো উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে, যেখানে দ্রুত এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে, সেখানে ব্যক্তিগত পর্যায়েও এই ধারাবাহিকতার নীতি প্রয়োগ করা প্রয়োজন। টেকসই পরিবর্তনকে এখন একটি দ্রুত দৌড় না ভেবে একটি দীর্ঘ ম্যারাথন হিসেবে দেখা হয়, যা ছোট, স্থির পদক্ষেপ এবং আত্ম-সহানুভূতির উপর জোর দেয়।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, সরকার ২০৫০ সালের মধ্যে কৃষি খাতকে আরও টেকসই, জলবায়ু সহনশীল এবং উদ্ভাবনভিত্তিক করার জন্য ২৫ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। এই মহাপরিকল্পনা পুষ্টি নিরাপত্তা, জলবায়ু অভিযোজন এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নের সমন্বিত রূপরেখা তুলে ধরে, যা প্রমাণ করে যে বড় লক্ষ্য অর্জনের জন্য দীর্ঘমেয়াদী কৌশল অপরিহার্য। প্রস্তাবিত পদ্ধতিটি ২০২৬ সালের জন্য নমনীয়তা এবং ব্যর্থতাকে মেনে নেওয়াকে অগ্রাধিকার দেয়, যেখানে পরিবর্তনকে কঠোর আরোপের পরিবর্তে একটি সহযোগিতামূলক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হয়। কাঠ সংরক্ষণের মতো কৌশলগত সম্পদ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও এই দৃষ্টিভঙ্গি প্রযোজ্য; কাঠ সংরক্ষণ প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে কাঠের আয়ুষ্কাল বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব, যা বনজ সম্পদের উপর চাপ কমায় এবং এসডিজি-১৫ (ভূমির জীবন) অর্জনে সহায়তা করে। এই দীর্ঘমেয়াদী, ধীরগতির প্রক্রিয়াগুলি তাৎক্ষণিক ফলাফলের প্রত্যাশার বিপরীতে স্থিতিশীল অগ্রগতি নিশ্চিত করে।

দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যগুলির প্রতি মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হতে পারে কারণ সমাজ সবকিছুতেই তাৎক্ষণিক ফলাফল দেখতে অভ্যস্ত, যেমন মাইক্রোওয়েভ করা খাবার বা ছোট ক্লিপযুক্ত বিনোদন। এই কারণে, সফল পরিবর্তনকারীরা বড় লক্ষ্যগুলিকে ছোট, পরিমাপযোগ্য ভাগে ভাগ করে নেন—যেমন একটি হাতিকে ছোট ছোট টুকরা করে খাওয়ার দর্শন। এই কৌশলটি ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সাহায্য করে, কারণ ব্যক্তিরা ছোট লক্ষ্যগুলি অর্জন করে কাজের অগ্রগতি দেখতে পায়, যা অনুপ্রেরণা যোগায়। যেমন, ওজন কমানোর লক্ষ্যকে প্রতিদিন জিমে যাওয়া বা নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাস পালনের প্রক্রিয়ার দিকে মনোনিবেশ করে অর্জন করা যায়, ফলাফলের উপর নয়। অতএব, দীর্ঘস্থায়ী ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্য অর্জনের জন্য, কৌশলগত পরিকল্পনা, অভ্যন্তরীণ চালিকাশক্তির উপর নির্ভরতা এবং ছোট ছোট ধারাবাহিক পদক্ষেপের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়া অপরিহার্য। এটি কেবল ব্যক্তিগত সংকল্পের ব্যর্থতা নয়, বরং পরিকল্পনার ত্রুটি যা প্রায়শই উৎসাহের পতন ঘটায়। স্থিতিশীলতা এবং আত্ম-সহানুভূতি বজায় রেখে পরিবর্তনকে একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে গ্রহণ করাই হলো টেকসই লক্ষ্য অর্জনের মূল চাবিকাঠি।

15 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Republica

  • Psychology Today

  • Forbes

  • Harvard Business Review

  • National Center for Biotechnology Information

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।