ইউরোপীয় ইউনিয়ন গৃহপালিত প্রাণীর কল্যাণে নতুন আইন অনুমোদন করল
সম্পাদনা করেছেন: Katerina S.
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) সম্প্রতি একটি যুগান্তকারী আইন অনুমোদন করেছে, যার মাধ্যমে সমগ্র ব্লকে কুকুর ও বিড়ালের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য অভিন্ন মানদণ্ড স্থাপন করা হয়েছে। এই নতুন বিধিমালার মূল লক্ষ্য হলো পোষা প্রাণীর যত্নের মান বৃদ্ধি করা এবং অবৈধ ব্যবসা ও প্রজনন পদ্ধতির লাগাম টানা, যা প্রাণীদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ কাউন্সিলের আলোচকদের মধ্যে ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, যা ইউরোপীয় পার্লামেন্টের পূর্বে ঘোষিত নীতিকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করে: 'পোষা প্রাণী কেবল পণ্য নয়, তারা পরিবারের সদস্য'
এই সংস্কারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাধ্যতামূলক শনাক্তকরণ ব্যবস্থা চালু করা। এখন থেকে প্রতিটি কুকুর বা বিড়ালকে অবশ্যই একটি মাইক্রোচিপ দ্বারা চিহ্নিত করতে হবে এবং জাতীয় ডেটাবেসে নথিভুক্ত করতে হবে। এই জাতীয় ডেটাবেসগুলো একটি একক ইউরোপীয় ব্যবস্থার সাথে সংযুক্ত হবে, যা প্রাণীদের সম্পূর্ণভাবে ট্র্যাক করার সুযোগ দেবে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অনুমান অনুযায়ী, বছরে প্রায় ১.৩ বিলিয়ন ইউরোর অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের জন্য এই পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি, যেখানে প্রায়শই জাল টিকা সনদ ব্যবহার করা হয়। সিডিইউ দলের ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য পিটার লিজে এটিকে 'কুকুর মাফিয়া নির্মূলের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ' হিসেবে অভিহিত করেছেন।
চিপিং সংক্রান্ত প্রয়োজনীয়তা কার্যকর করার জন্য ধাপে ধাপে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। পেশাদার বাজার অংশগ্রহণকারী, যেমন প্রজননকারী এবং বিক্রেতাদের চার বছরের মধ্যে এই চিপিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। ব্যক্তিগত মালিকদের জন্য অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ রূপান্তর সময় বরাদ্দ করা হয়েছে: আইন কার্যকর হওয়ার দশ বছরের মধ্যে কুকুর এবং পনেরো বছরের মধ্যে বিড়ালদের চিপ করা বাধ্যতামূলক হবে। বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে ইইউতে প্রবেশকারী প্রাণীদের অবশ্যই প্রবেশের কমপক্ষে পাঁচ দিন আগে চিপ করা এবং জাতীয় ডেটাবেসে নিবন্ধিত হতে হবে।
নতুন আইনে প্রজননজনিত ত্রুটি ও রোগ প্রতিরোধের জন্য প্রজনন পদ্ধতির ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নিকটাত্মীয়দের মধ্যে প্রজনন, যেমন পিতামাতা-সন্তান বা সম্পূর্ণ ভাইবোনদের মধ্যে প্রজনন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও, এমন প্রজনন কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে যা প্রাণীর কল্যাণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এমন চরম শারীরিক বৈশিষ্ট্য বিকাশের দিকে পরিচালিত করে। এর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত চ্যাপ্টা মুখমণ্ডল (ব্র্যাকিওসেফালি) বা মারাত্মকভাবে খাটো অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। এই ধরনের বিকৃত বৈশিষ্ট্যযুক্ত প্রাণীদের প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে। লাভজনকতার লোভে প্রাণীদের শোষণ বন্ধ করার লক্ষ্যেই এই বিধানগুলো আনা হয়েছে, যার সাথে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক বারের বেশি একটি স্ত্রী প্রাণীর প্রজনন না ঘটানোর সীমা এবং বাধ্যতামূলক বিশ্রামের সময়ও অন্তর্ভুক্ত।
সুরক্ষার জন্য আরও কিছু অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অঙ্গহানিজনিত কসমেটিক পদ্ধতির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা, যেমন চিকিৎসার প্রয়োজন ছাড়া কান বা লেজ কাটা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সর্বত্র কাঁটাযুক্ত কলার বা বৈদ্যুতিক কলার ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই ব্যাপক আইন প্রণয়নের পক্ষে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ৪৭৫টি ভোট পড়ে, যেখানে মাত্র ১৭টি ভোট এর বিপক্ষে পড়েছিল।
উৎসসমূহ
RTBF
europa press
Site-LeVif-FR
AmericaMalls & Retail
Public now
Mon gustave Comparateur Assurances
Parlement européen
Le Vif
Fondation 30 Millions d'Amis
The European Sting
EFE
Public now
EU Reporter
LEOH
UEVP
The Animal Reader
Mon gustave Comparateur Assurances
Animalweb
The European Sting
EUnewsletter.eu
Europa Press EsEuropa
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?
আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
