গ্রিনল্যান্ড নিয়ে মার্কিন শুল্ক হুমকি: ন্যাটোর সংহতি ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা
সম্পাদনা করেছেন: Svetlana Velgush
২০২৬ সালের শুরুর দিকে স্বায়ত্তশাসিত ডেনিশ অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এক চরম শিখরে পৌঁছায়। মার্কিন প্রশাসন এই কৌশলগত দ্বীপটির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য জোরালো প্রচেষ্টা শুরু করলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ২০২৬ সালের ১৭ জানুয়ারি, শনিবার, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর এই উদ্যোগের বিরোধিতা করা বেশ কয়েকজন ইউরোপীয় ন্যাটো মিত্রের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক আমদানি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন সংকটের জন্ম দিয়েছে।
ঘোষিত এই শুল্ক নীতি অনুযায়ী, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস এবং ফিনল্যান্ড—এই আটটি ইউরোপীয় দেশ থেকে আমদানির ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়েছে, যা ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, গ্রিনল্যান্ডের ওপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় বাধা দেওয়া এবং দ্বীপে ডেনিশ সামরিক মহড়া 'অপারেশন আর্কটিক এন্ডুরেন্স' (Arctic Endurance)-এ অংশগ্রহণের প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই শুল্কের হার ২০২৬ সালের ১ জুন নাগাদ ২৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা দ্বীপটি ক্রয়ের বিষয়ে কোনো চুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত বহাল থাকবে। হোয়াইট হাউস এই পদক্ষেপকে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় বলে দাবি করেছে, কারণ তাদের মতে রাশিয়া ও চীন এই কৌশলগত অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারে অত্যন্ত আগ্রহী।
ইউরোপীয় নেতারা এই শুল্কের হুমকিকে সরাসরি অর্থনৈতিক জবরদস্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর প্রতিক্রিয়ায়, ২০২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতরা একটি জরুরি বৈঠক করেন যাতে পরবর্তী পদক্ষেপগুলো সমন্বয় করা যায়। ক্ষতিগ্রস্ত আটটি দেশ একটি যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, এই ধরনের শুল্ক ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্ককে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং এটি একটি বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ২০২৩ সালে গৃহীত ইইউ-এর 'অ্যান্টি-কোয়ার্সন ইনস্ট্রুমেন্ট' (ACI) বা 'ট্রেড বাজুকা' ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছেন, যার মাধ্যমে ৯৩ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের মার্কিন আমদানির ওপর পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। বর্তমানে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন এবং ন্যাটো প্রধান মার্ক রুটে একটি সমন্বিত ও শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করতে কাজ করছেন।
সামরিক উপস্থিতির কারণে এই অঞ্চলের পরিস্থিতি আরও জটিল ও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। ১৫ জানুয়ারি থেকে গ্রিনল্যান্ডে 'আর্কটিক এন্ডুরেন্স' মহড়া শুরু হয়েছে, যেখানে ডেনমার্ক, ফ্রান্স এবং অন্যান্য ন্যাটো দেশের সৈন্যরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। ১৭ জানুয়ারি ১৩ জন জার্মান সেনার সেখানে পৌঁছানোর কথা ছিল। ডেনিশ আর্কটিক কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল সোরেন অ্যান্ডারসেন জানিয়েছেন যে, তাদের মূল লক্ষ্য রাশিয়ার হুমকির দিকে নিবদ্ধ, আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এই সংঘাতটি এখনও একটি 'কাল্পনিক' বিষয় হিসেবেই রয়ে গেছে। অন্যদিকে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি আগামী সপ্তাহে চীন সফরের কথা থাকলেও, দেশটি আর্কটিক অঞ্চলে বন্দর ও বরফ ভাঙার জাহাজ তৈরির মাধ্যমে নিজেদের সামরিক ও কৌশলগত উপস্থিতি ক্রমাগত জোরদার করছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এই ইস্যুতে গভীর বিভাজন ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ২০২৬ সালের ১৬ জানুয়ারি পরিচালিত সিএনএন-এর একটি জনমত জরিপে দেখা গেছে যে, ৭৫ শতাংশ আমেরিকান নাগরিক গ্রিনল্যান্ডের ওপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। কংগ্রেসেও এই বিষয়ে একটি শক্তিশালী দ্বিপক্ষীয় বিরোধিতা তৈরি হচ্ছে; রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল এই বিষয়টির জরুরি অবস্থাকে 'হাস্যকর' বলে অভিহিত করেছেন এবং ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর চাক শুমার শুল্ক আরোপের প্রক্রিয়া বন্ধ করতে একটি নতুন বিল আনার পরিকল্পনা করছেন। এছাড়া রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস সতর্ক করেছেন যে, এই ধরনের শুল্ক আরোপের ফলে পুতিন এবং শি জিনপিংয়ের মতো প্রতিপক্ষ রাষ্ট্রপ্রধানরা কৌশলগতভাবে লাভবান হতে পারেন।
গ্রিনল্যান্ডের স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও অভিজাত শ্রেণি এই সংকটের মধ্যে নিজেদের স্বকীয়তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে। দ্বীপের প্রধান বিরোধী দল 'নালেরাক'-এর প্রধান পেলে ব্রোবার্গ জোর দিয়ে বলেছেন যে, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে ডেনমার্কের অংশগ্রহণ ছাড়াই সরাসরি ওয়াশিংটনের সাথে আলোচনা করা উচিত। বাণিজ্য, সামরিক এবং কূটনৈতিক—এই বহুমুখী উত্তেজনা ২০২৬ সালের শুরুতে উত্তর আটলান্টিক জোট বা ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও সংহতির জন্য একটি অত্যন্ত কঠিন পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা বিশ্ব রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
31 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Antara News Yogyakarta
english
Courrier international
polsatnews.pl
Rzeczpospolita
Sözcü Gazetesi
The Hindu
The Vindicator
protothemanews.com
Sydsvenskan
El Español
Antara News
iNews
suaramerdeka.com
Dawn
RBC-Ukraine
Vietnam.vn
Greenland crisis - Wikipedia
Thousands march in Greenland against Trump's threats to take over the Arctic island - Al Jazeera
Thousands march in Greenland against Trump's threats to take over the Arctic island - PBS
Through 'Operation Arctic Endurance,' NATO Allies Signal a United Front Against Trump
Trump announces new tariffs over Greenland: How have EU allies responded? - Al Jazeera
Foreign Policy
The Times of Israel
CBC News
Reuters
Associated Press
Reuters
Table.Briefings
People's Daily
Business Insider Finanse
Gazeta Wyborcza
WP Wiadomości
RMF24
Polska Agencja Prasowa SA
Habertürk
Hisse.net
Gazete Oksijen
Bloomberg HT
Bigpara Haber - Hürriyet
RNZ News
Wikipedia
CNN
Al Jazeera
The Guardian
Al Jazeera
The Guardian
The Washington Post
Euractiv
ING Think
Everything but Territory: Europe's Response to Trump's Greenland Threats
EU to consider €93bn counter tariffs at emergency summit over Trump Greenland ambitions
Trump says 8 European nations face tariffs rising to 25% if Greenland isn't sold to the U.S.
Greenland: António Costa convenes extraordinary EU summit
Europe Promises United Response to Trump's 'Dangerous' Greenland Tariffs
Dagens.se
Al Jazeera
The Hindu
Kvartal
Europaportalen
570 News
EFN.se
Omni
The Guardian
Euractiv
Xpert.Digital
People's Daily
TIME
CBS News
Estonian World
Wikipedia
ANTARA News
CBC News
iNews.id
Suara Merdeka
The Defense Watch
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
