ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত 'শান্তি পরিষদ' থেকে সরে দাঁড়াল স্লোভাকিয়া
সম্পাদনা করেছেন: Svetlana Velgush
স্লোভাকিয়ার মন্ত্রিসভা ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত 'শান্তি পরিষদে' (Peace Council) যোগদানের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করার সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছে। এই সিদ্ধান্তটি প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো-র পূর্ববর্তী দিনের অর্থাৎ ২৭ জানুয়ারি ২০২৬-এর প্রকাশ্য সুপারিশের ভিত্তিতে গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা রবার্ট ফিকো আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই পরিষদে যোগদান করলে জাতিসংঘের কার্যাবলীর সমান্তরাল একটি কাঠামো তৈরি হবে যা মূলত মূল প্রতিষ্ঠানের কাজেরই পুনরাবৃত্তি ঘটাবে।
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সাইডলাইনে ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি এই শান্তি পরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি নমনীয় বিকল্প হিসেবে বিবেচিত এই উদ্যোগটি প্রাথমিকভাবে গাজা শান্তি পরিকল্পনার একটি কাঠামোর ওপর আলোকপাত করেছিল। তবে এই নতুন সংস্থার দীর্ঘমেয়াদী সদস্যপদ পেতে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আর্থিক অবদানের সম্ভাব্য দাবির খবরের পর থেকে এটি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সংশয় বাড়তে থাকে। প্রধানমন্ত্রী ফিকো স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, স্লোভাক প্রজাতন্ত্র এই ধরনের প্রতিষ্ঠানে যোগদানের জন্য কোনো সদস্য ফি প্রদান করবে না এবং সমান্তরাল কোনো কাঠামোতে অর্থায়নের কোনো ইচ্ছা তাদের নেই।
ব্রাতিস্লাভার এই পদক্ষেপটি মূলত প্রচলিত বহুপাক্ষিক নীতিমালার প্রতি স্লোভাকিয়ার অগ্রাধিকারকে প্রতিফলিত করে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউরাই ব্লানারও এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তিনি পরিষদের গঠন এবং ম্যান্ডেট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান যে, গাজা সংঘাতের বাইরে এর কোনো নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা নেই এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে সদস্যপদ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী ব্লানার ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন আজীবন সভাপতিত্বের ধারণাকে অগণতান্ত্রিক বলে সমালোচনা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, ব্রাতিস্লাভা জাতিসংঘের সমান্তরাল কোনো কাঠামোকে সমর্থন করতে পারে না।
স্লোভাক সরকারের এই সতর্ক অবস্থানের পেছনে তাদের বর্তমান কূটনৈতিক লক্ষ্যগুলোও কাজ করছে। রবার্ট ফিকো ২০২৮-২০২৯ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি অস্থায়ী আসনের জন্য স্লোভাকিয়ার প্রার্থিতার পক্ষে বর্তমানে সক্রিয়ভাবে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন। প্রধানমন্ত্রী বারবার এই আসনটি পাওয়ার বিষয়ে দেশটির "প্রচণ্ড আগ্রহের" কথা জোর দিয়ে বলেছেন। স্লোভাকিয়া মনে করে যে, জাতিসংঘের মতো বিদ্যমান আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিস্থাপন না করে বরং সেগুলোর প্রয়োজনীয় সংস্কার করা উচিত।
এই ঘটনার সমান্তরালে ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সিনেট ফরেন রিলেশনস কমিটির সামনে বক্তব্য রাখেন। সেখানে তিনি উত্তর আটলান্টিক জোট বা ন্যাটোর "পুনর্চিন্তার" পক্ষে সওয়াল করেন এবং ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান। রুবিও ৩ জানুয়ারি নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেনেজুয়েলা অভিযানের পক্ষে যুক্তি দেন এবং দাবি করেন যে এর ফলে আমেরিকা এখন আগের চেয়ে নিরাপদ। এছাড়া ডেনমার্কের সাথে আলোচনার পর গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে একটি "ইতিবাচক সমাধানের" আশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে গাজা পুনর্গঠন তদারকির জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে এই শান্তি পরিষদ অনুমোদিত হয়েছিল, যা পরবর্তীতে অন্যান্য সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলেও এর পরিধি বিস্তৃত করে। দাভোসে উদ্বোধনের পর ঘোষিত ২৬টি প্রতিষ্ঠাতা দেশের মধ্যে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য এবং জার্মানির মতো প্রধান ইউরোপীয় শক্তিগুলোর অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যা শুল্ক নীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র হাঙ্গেরি এবং বুলগেরিয়া এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছে।
সামগ্রিকভাবে স্লোভাকিয়ার এই অবস্থান দেশটির স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ফিকো এবং তার সরকার মনে করেন যে, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য বিদ্যমান বৈশ্বিক কাঠামোকে শক্তিশালী করাই এখন সময়ের দাবি। কোনো নতুন এবং বিতর্কিত সংস্থার অংশ হওয়ার চেয়ে স্লোভাকিয়া তাদের দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক লক্ষ্যগুলো অর্জনেই বেশি মনোযোগী হতে চায়, যা তাদের জাতীয় স্বার্থের অনুকূল।
25 দৃশ্য
উৎসসমূহ
voiceofvienna.org
gazetapl
Arab News
Devdiscourse
Reuters
The Washington Post
The Guardian
RBC-Ukraine
The Guardian
AP News
KSMU.org
Congress.gov
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
