জাপানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নে পাঁচ বছরে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েনের বিশাল কর্মসূচি

সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich

জাপান সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) ক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা দ্রুত বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয়-বেসরকারি অংশীদারিত্বমূলক কর্মসূচি শুরু করেছে। এই পাঁচ বছর মেয়াদী উদ্যোগটি ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস থেকে কার্যকর হবে। এর জন্য সরকারি কোষাগার থেকে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বরাদ্দ করা হয়েছে, যা বর্তমান বিনিময় হারে প্রায় ৬.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমতুল্য। এই বিপুল অর্থায়নের মূল উদ্দেশ্য হলো একটি মজবুত প্রযুক্তিগত ভিত্তি তৈরি করা। কৌশলগতভাবে, জাপান চায় বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য বলে বিবেচিত হচ্ছে।

এই কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে একটি নতুন জাতীয় এআই সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যা ২০২৬ সালের বসন্ত নাগাদ কাজ শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই প্রচেষ্টার সমন্বয় সাধনের দায়িত্ব নিয়েছে সফটব্যাঙ্ক গ্রুপ (SoftBank Group), যারা প্রায় দশটি শীর্ষস্থানীয় জাপানি কর্পোরেশনকে একটি কনসোর্টিয়ামের আওতায় নিয়ে আসছে। এই কাঠামোর প্রধান লক্ষ্য হলো একটি বৃহৎ আকারের ভিত্তি মডেল (Large-scale foundational model) তৈরি করা। ধারণা করা হচ্ছে, এই মডেলটির প্যারামিটার সংখ্যা এক ট্রিলিয়ন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা বিশ্বজুড়ে বিদ্যমান অত্যাধুনিক মডেলগুলোর সমকক্ষ হবে। এই বিশাল প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সফটব্যাঙ্ক এবং প্রিফারড নেটওয়ার্কস, ইনকর্পোরেটেড (Preferred Networks, Inc.) সহ বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রায় ১০০ জন অত্যন্ত দক্ষ প্রকৌশলীকে নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পটির অর্থায়ন একটি বহুস্তরীয় কাঠামো অনুসরণ করছে। সরকারি ভর্তুকি ছাড়াও, সফটব্যাঙ্ক গ্রুপ নিজস্বভাবে আগামী ছয় বছরের মধ্যে ডেটা সেন্টার অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই বেসরকারি বিনিয়োগের অংশ হিসেবে হোক্কাইডোর তোমাকোমাই এবং ওসাকার সাকাইতে গুরুত্বপূর্ণ ডেটা সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা ২০২৬ আর্থিক বছরে চালু হওয়ার কথা। এছাড়াও, সরকারি সহায়তা উন্নত সেমিকন্ডাক্টর ক্রয়ের ব্যয় হ্রাস এবং প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ডেটা সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণে সহায়তা প্রদানের দিকে মনোনিবেশ করবে।

জাতীয় কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো 'ফিজিক্যাল এআই' ধারণার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া। এর অর্থ হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে রোবোটিক্সের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সংযুক্ত করা। রোবোটিক্স শিল্পে জাপানের যে শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে, তাকে কাজে লাগিয়ে ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ এর প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করতে চাইছে দেশটি। এই নতুন তৈরি হওয়া ভিত্তি এআই মডেলটি জাপানের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানকে সরবরাহ করা হবে, যাতে তারা উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থা এবং স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমে এটিকে নিজেদের প্রয়োজনমতো ব্যবহার করতে পারে।

এই সামগ্রিক মডেলটি—যা সরকারি অর্থায়ন, বেসরকারি বিনিয়োগ, মানবসম্পদ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের এক সুসমন্বিত রূপ—জাপানকে এআই-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা এনে দিতে সক্ষম হবে। যদিও বর্তমানে আমেরিকা এবং চীনের তুলনায় এই ক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে জাপান, তবুও এই নীতিগত পদক্ষেপগুলো প্রমাণ করে যে দেশটি এই গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত দৌড়ে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই পদক্ষেপগুলো জাপানের প্রযুক্তিগত ভবিষ্যতের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

32 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • see.news

  • Wilayah.com.my

  • MarketScreener

  • mreport

  • MEXC News

  • The Japan News

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?

আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।