ভারতের সৌর বিদ্যুতের দাম ২.৫০ টাকা/ইউনিটের নিচে নামার পূর্বাভাস দিল MNRE সচিব
সম্পাদনা করেছেন: Svetlana Velgush
ভারতের নবায়নযোগ্য শক্তি মন্ত্রকের (MNRE) সচিব সন্তোষ কুমার সারঙ্গি আশাবাদী যে দেশের সৌর বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ শীঘ্রই প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা (kWh) ২.৫০ ভারতীয় টাকার নিচে নেমে আসতে পারে। এই পূর্বাভাস দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করতে পারে।
এই আশাবাদের মূল ভিত্তি হলো প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আসা অভাবনীয় অগ্রগতি, বিশেষত সৌর কোষগুলির কার্যকারিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে। MNRE-এর অর্থায়নে (যা গত ১৫ বছরে ২০০ কোটিরও বেশি টাকা) আইআইটি বোম্বে-এর মতো প্রতিষ্ঠানে যে ট্যান্ডেম সেলগুলি নিয়ে গবেষণা চলছে, সেগুলির পরীক্ষাগার দক্ষতা ৩০% অতিক্রম করেছে। এর বিপরীতে, প্রচলিত একক-সংযোজক কোষগুলি বর্তমানে ২৭% দক্ষতা অর্জন করতে সক্ষম। এই প্রযুক্তিগত উন্নতি সরাসরি বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ কমাতে সাহায্য করবে।
ভারতের সৌর বিদ্যুতের শুল্কের ইতিহাসে ইতিমধ্যেই ব্যাপক পতন দেখা গেছে। ২০১৭ সালে ভাদলা সৌর পার্কে প্রতি kWh ২.৪৪ টাকা দামে রেকর্ড সর্বনিম্ন দর নথিভুক্ত হয়েছিল। সেই সময় কয়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সর্বনিম্ন খরচ ছিল ৩.২০ টাকা প্রতি kWh। যদিও বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপর প্রায় ৪০% সম্মিলিত শুল্কের কারণে রপ্তানি সংক্রান্ত কিছু বাধা সৃষ্টি হয়েছে (যা সম্ভবত ২০২৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি শেষ হতে পারে), তবুও অভ্যন্তরীণ চাহিদা শক্তিশালী থাকার কারণে বৃদ্ধির ধারা বজায় রয়েছে।
সচিব সারঙ্গি উল্লেখ করেছেন যে অভ্যন্তরীণ চাহিদা শক্তিশালী হওয়ায় রপ্তানি হ্রাস আংশিকভাবে পুষিয়ে যাচ্ছে। এপ্রিল থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত রপ্তানি গত আর্থিক বছরের তুলনায় ৩১-৩২% বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করার জন্য গৃহীত আগ্রাসী নীতি, যেমন পিএলআই (PLI) প্রকল্প, উল্লেখযোগ্য ফল দিয়েছে। এর ফলস্বরূপ, ২০২৫ সালের জুলাই মাসের মধ্যে সৌর মডিউল উৎপাদনের ক্ষমতা বার্ষিক প্রায় ১৪৪ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে এবং ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে তা ১৫০ গিগাওয়াটে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। সৌর কোষ উৎপাদনের ক্ষমতাও বর্তমানের ২৭ গিগাওয়াট থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি নাগাদ আনুমানিক ৬৫ গিগাওয়াটে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তুলনামূলকভাবে, সরকারি অনুমোদিত ALMM তালিকায় থাকা মডিউলের মোট ক্ষমতা ২০২৫ সালের মাঝামাঝি ১০৯.৫ গিগাওয়াট ছিল।
তবে, এই দ্রুত নবায়নযোগ্য শক্তির বিস্তার অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে। একটি প্রধান সমস্যা হলো প্রকল্পের সময়কালের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য। যেখানে সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলি সাধারণত ১.৫ থেকে ২ বছরের মধ্যে সম্পন্ন হয়, সেখানে প্রয়োজনীয় সঞ্চালন পরিকাঠামো নির্মাণে প্রায় ৫ থেকে ৭ বছর সময় লেগে যায়। এই অসামঞ্জস্য উৎপাদিত বিদ্যুৎ সময়মতো গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানোয় বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়াও, সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের মতো পরিবর্তনশীল উৎসগুলিকে কার্যকরভাবে সমন্বয় করতে এবং সন্ধ্যায় সর্বোচ্চ চাহিদার সময় (রাত ৭টা থেকে রাত ১১টা) বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (BESS) স্থাপন করা অপরিহার্য।
সৌর বিদ্যুতের পাশাপাশি, ভারত সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০ গিগাওয়াট জীবাশ্ম-মুক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য পূরণের জন্য সমুদ্র তীরবর্তী বায়ুবিদ্যুৎ (অফশোর উইন্ড এনার্জি) উন্নয়নেও নতুন করে মনোযোগ দিচ্ছে। পূর্ববর্তী দরপত্রে আগ্রহ কম থাকায়, MNRE পুনরায় দরপত্র আহ্বান করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, বিশেষত তামিলনাড়ুতে যেখানে পূর্বে ৪ গিগাওয়াটের জন্য দরপত্র ডাকা হয়েছিল। এই খাতকে উৎসাহিত করতে প্রায় ৮৯১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ভায়াবিলিটি গ্যাপ ফান্ডিং (VGF) প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে, যা তামিলনাড়ু ও গুজরাটে ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রাথমিক প্রকল্পগুলিকে সমর্থন করবে। এই পদক্ষেপগুলি সৌর প্রযুক্তিতে উদ্ভাবনের পাশাপাশি অন্যান্য পরিচ্ছন্ন শক্তির উৎসগুলির বিকাশের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি বহুমুখী কৌশলকে প্রতিফলিত করে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসের শেষ নাগাদ দেশে মোট সৌর বিদ্যুতের স্থাপিত ক্ষমতা ছিল ৭৫.৩৭ গিগাওয়াট।
35 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Economic Times
PIB
Newsonair
The Economic Times
Reuters
ETEnergyworld
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?
আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
