ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের লক্ষ্যে সিআইএস থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে বেরিয়ে যাচ্ছে মলদোভা
সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich
মলদোভা প্রজাতন্ত্রের সরকার কমনওয়েলথ অফ ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্টেটস (সিআইএস) থেকে তাদের সদস্যপদ সম্পূর্ণভাবে ত্যাগের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপটি মূলত দেশটির ইউরোপীয় একীকরণের পথে দ্রুত অগ্রসর হওয়ার একটি সরাসরি প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি, মলদোভার উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিহাই পপশোই আনুষ্ঠানিকভাবে তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং মৌলিক দলিল বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করার কথা ঘোষণা করেন। এই দলিলগুলোর মধ্যে রয়েছে ২২ জানুয়ারি ১৯৯৩ সালের সিআইএস সনদ, ৮ ডিসেম্বর ১৯৯১ সালের সিআইএস প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত চুক্তি এবং ২২ ডিসেম্বর ১৯৯১ সালের সংশ্লিষ্ট প্রটোকল বা পরিশিষ্ট।
মিহাই পপশোইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, এই আইনি পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো সিআইএস-এ মলদোভার অংশগ্রহণের বর্তমান বাস্তবতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া। তিনি উল্লেখ করেন যে, ২০২৩ সাল থেকেই এই জোটে মলদোভার ভূমিকা কার্যত একটি "স্থবির অবস্থায়" ছিল। এই আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদের জন্য এখন মলদোভার জাতীয় সংসদে দলিলগুলো বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদিত হতে হবে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই এই সংসদীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে সিআইএস সনদের ৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী, জোটের নির্বাহী কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিক লিখিত নোটিশ প্রদানের ১২ মাস পরেই এই সদস্যপদ ত্যাগের প্রক্রিয়াটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হবে।
মলদোভা প্রজাতন্ত্র দীর্ঘ সময় ধরে সিআইএস-এর কাঠামোর অধীনে মোট ২৮৩টি বিভিন্ন ধরনের চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল। বর্তমানে দেশটির সরকার এই চুক্তিগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করছে, যার মধ্যে ইতিমধ্যে প্রায় ৭১টি দলিল বাতিল করা হয়েছে এবং আরও প্রায় ৬০টি দলিল বর্তমানে পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। চিশিনাউ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, তারা কেবল সেই অর্থনৈতিক এবং সামাজিক চুক্তিগুলোই বজায় রাখতে আগ্রহী যা সরাসরি সাধারণ নাগরিকদের উপকারে আসে এবং দেশটির ইউরোপীয় উন্নয়ন লক্ষ্যের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। এই সিদ্ধান্তের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ চিশিনাউ ২০২৮ সালের শুরুর দিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন করার একটি উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
সিআইএস থেকে মলদোভার এই বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি মস্কোর পক্ষ থেকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা মলদোভার বর্তমান আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতিকে "বিপর্যয়কর" বলে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, দেশটি বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক অনুদান ও সহায়তার ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। জাখারোভা আরও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্র রোমানিয়ার সাথে চিশিনাউয়ের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতা মলদোভার দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক নিরপেক্ষতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তার মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
মলদোভার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক চলছে। দেশটির সোশ্যালিস্ট পার্টির প্রভাবশালী নেতা ইগর দোদোন এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে দাবি করেছেন যে, বর্তমান সরকার "পাশ্চাত্য কিউরেটরদের" নির্দেশে এই পথে হাঁটছে। তিনি এই পরিস্থিতিকে প্রতিবেশী ইউক্রেনের সম্ভাব্য "ট্র্যাজেডির" সাথে তুলনা করে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। অন্যদিকে, নিরপেক্ষ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন যে, সিআইএস বর্তমানে একটি সহযোগিতামূলক জোটের পরিবর্তে রাশিয়ার রাজনৈতিক চাপের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা একই সাথে সতর্ক করেছেন যে, সিআইএস ত্যাগ করার ফলে মলদোভা পূর্ব দিকে পণ্য পরিবহনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক করিডোর হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে, যদিও দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে নাগরিকদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার সুযোগ থাকবে।
6 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Российская газета
Moldpres.md
RBC-Ukraine
EU
Briefing by Foreign Ministry Spokeswoman Maria Zakharova, Moscow, January 15, 2026
YouTube
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
