২০২৫ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে অভিবাসন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাসের পরিসংখ্যান

সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich

ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর মাইগ্রেশন পলিসি ডেভেলপমেন্ট (ICMPD) ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ভিয়েনায় তাদের বার্ষিক 'মাইগ্রেশন আউটলুক' প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। এই প্রতিবেদনে ২০২৫ সালে ইউরোপীয় অভিবাসন পরিস্থিতির এক নাটকীয় পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনটি নিশ্চিত করেছে যে, অভিবাসনের প্রধান সূচকগুলোতে একটি বড় ধরনের হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে, যা ২০২৬ সালের জুন মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন ও আশ্রয় সংক্রান্ত চুক্তি (EU Pact on Migration and Asylum) পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হওয়ার প্রস্তুতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ICMPD-এর সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলোতে অনিয়মিতভাবে প্রবেশের হার ২৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। একই সাথে আশ্রয়ের জন্য আবেদনের সংখ্যাও ২১ শতাংশ কমেছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন এই পরিসংখ্যানের গুরুত্ব তুলে ধরে জানান যে, ২০২৪ সালে প্রধান অভিবাসন রুটগুলোতে ৩৭ শতাংশ হ্রাসের পর এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে, যাদের আশ্রয়ের আবেদন নাকচ করা হয়েছে, তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর হার ২০২৫ সালে ২৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ফ্রন্টেক্সের (Frontex) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসে ইউরোপে অবৈধ প্রবেশের মোট সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লক্ষ ৬৬ হাজার জন।

এই ইতিবাচক পরিবর্তনের পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক ছিল ২০২৪ সালের শেষের দিকে সিরিয়ার স্বৈরাচারী শাসনের পতন। এর ফলে সিরীয় নাগরিকদের পক্ষ থেকে আশ্রয়ের আবেদনের সংখ্যায় নাটকীয় হ্রাস দেখা গেছে। ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ICMPD-এর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণকারী সুজান রাব মন্তব্য করেছেন যে, বর্তমান পরিসংখ্যান আশাব্যঞ্জক হলেও অভিবাসনের মূল কারণগুলো এখনও বেশ অস্থিতিশীল। বর্তমানে বিশ্বের ৮৭টিরও বেশি দেশে সংঘাতের মাত্রা ঐতিহাসিক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা নির্দেশ করে যে ২০২৫ সালের এই নিম্নমুখী প্রবণতা হয়তো সাময়িক হতে পারে।

২০২৬ সালের জন্য অভিবাসন সংক্রান্ত দশটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিশ্লেষণ করে ICMPD জানিয়েছে যে, বর্তমানের এই স্থিতিশীলতা অভিবাসন ও আশ্রয় চুক্তিটি বাস্তবায়নের জন্য একটি সুবর্ণ সুযোগ। সুজান রাব জোর দিয়ে বলেছেন যে, ইউরোপের উচিত এই 'স্বস্তির সময়কে' কাজে লাগিয়ে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং দক্ষ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা। ২০২৪ সালে গৃহীত এই চুক্তির সফল বাস্তবায়ন ২০২৬ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেবে, যা অভিবাসীদের গ্রহণ, নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন নীতিমালা প্রতিষ্ঠা করবে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিবাসন নীতিতে এখন একটি 'বাস্তবসম্মত মোড়' লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যেখানে ভূ-রাজনীতিতে শ্রম অভিবাসন এবং দক্ষতা-ভিত্তিক পদ্ধতির গুরুত্ব বাড়ছে। তবে মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় রুটে, বিশেষ করে লিবিয়া থেকে আসা অভিবাসীদের ক্ষেত্রে অনিয়মিত পারাপারের সংখ্যা ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সিরিয়ার পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যায়, ৮ ডিসেম্বর ২০২৪-এ আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে ওই বছরের শেষ পর্যন্ত প্রায় ৫৮,৪০০ শরণার্থী দেশে ফিরেছেন বলে ইউএনএইচসিআর (UNHCR) জানিয়েছে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে সংঘাত অব্যাহত থাকায় দীর্ঘমেয়াদী প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি এখনও অনিশ্চিত।

সামগ্রিকভাবে, ২০২৬ সাল ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য একটি রূপান্তরমূলক বছর হতে যাচ্ছে। অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি টেকসই কাঠামো তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণ এবং মানবিক দায়বদ্ধতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই হবে ইউরোপীয় নীতিনির্ধারকদের প্রধান লক্ষ্য।

4 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Weekly Voice

  • ICMPD Migration Outlook: EU Pact as a major milestone, but 'EU must not rest'

  • Director General Susanne Raab takes office; sets priorities for safe borders, labour migration, sustainable return and reintegration, EU Pact - ICMPD

  • Director General - Susanne Raab - ICMPD

  • A decade on from crisis, Europe claims control of migration — at a human cost

  • ICMPD

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।