২০২৬ সালে বাস্তবায়নের আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন অভিবাসন চুক্তি মানবাধিকার কর্মীদের তীব্র সমালোচনার মুখে

সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাম্প্রতিক অভিবাসন নীতি, যা 'অভিবাসন ও আশ্রয় চুক্তি' (Pact on Migration and Asylum) হিসেবে পরিচিত, ২০২৬ সালের জুনে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হওয়ার আগেই মানবাধিকার কর্মীদের ব্যাপক বিরোধিতার মুখে পড়েছে। ২০২৪ সালের এপ্রিলে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের মধ্যপন্থী ও কট্টর ডানপন্থী সদস্যদের সমর্থনে এই আইনি পরিবর্তনগুলো চূড়ান্ত করা হয়, যা পরবর্তীতে ৭০টিরও বেশি মানবাধিকার সংস্থার তীব্র নিন্দার শিকার হয়েছে। এই চুক্তিটি ২০২৪ সালের ১০ এপ্রিল ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এবং ১৪ মে ২০২৪ তারিখে ইইউ কাউন্সিল কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়েছিল। সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে এই নতুন আইনি কাঠামোটি সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে, যা ইউরোপের অভিবাসন ইতিহাসে একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই চুক্তির সবচেয়ে বিতর্কিত দিক হলো ইইউ-এর সীমানার বাইরে তথাকথিত 'প্রত্যাবর্তন কেন্দ্র' (return centers) স্থাপন করার পরিকল্পনা। যেসব আবেদনকারীর আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে, তাদের এই কেন্দ্রগুলোতে রাখা হবে। 'ফ্রিডম ফর ইউরেশিয়া' (Freedom for Eurasia) সহ বিভিন্ন মানবাধিকার গোষ্ঠী জোরালোভাবে দাবি করছে যে, আবেদনকারীর সাথে কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও তাদের বাংলাদেশ বা ভারতের মতো 'নিরাপদ তৃতীয় দেশে' পাঠানোর এই প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। এটি বিশেষ করে 'নন-রিফউলমেন্ট' (non-refoulement) বা জোরপূর্বক ফেরত না পাঠানোর নীতির সরাসরি লঙ্ঘন বলে তারা মনে করছেন। আইন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই নীতি বাস্তবায়নের ফলে প্রমাণের ভার অসহায় আবেদনকারীদের ওপর বর্তাবে, যার ফলে সঠিক বিচার বিশ্লেষণ ছাড়াই দ্রুত আবেদন নাকচ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

এই চুক্তির অধীনে একটি বার্ষিক 'সংহতি তহবিল' (Solidarity Fund) গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। ২০২৬ সালে এই তহবিলের পরিমাণ হবে ৪২০ মিলিয়ন ইউরো অথবা ২১,০০০ পুনর্বাসন বা অন্যান্য সংহতিমূলক পদক্ষেপের সমতুল্য। এই তহবিলের মূল লক্ষ্য হলো সাইপ্রাস, গ্রিস, ইতালি এবং স্পেনের মতো দেশগুলোকে সহায়তা করা, যারা ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে অভিবাসনের চাপে সবচেয়ে বেশি জর্জরিত। ইইউ কাউন্সিল কর্তৃক অনুমোদিত এই তহবিলে অবদান রাখা হবে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছামূলক, যা পুনর্বাসন, আর্থিক অনুদান বা বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে হতে পারে। তবে সমালোচকরা একে এক ধরনের ভণ্ডামি হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন একদিকে মৌলিক অধিকার রক্ষার কথা বলছে, অন্যদিকে এমন সব পদক্ষেপ নিচ্ছে যা তারা অন্য দেশের ক্ষেত্রে প্রায়ই সমালোচনা করে থাকে।

নতুন এই আইনি প্যাকেজের মূল লক্ষ্য হলো সীমান্ত ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও নমনীয় করে তোলা। সেই সাথে একটি কঠোর প্রত্যাবর্তন নীতি প্রতিষ্ঠা করাও এর অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। বর্তমানে মূল বিতর্কটি একটি মৌলিক প্রশ্নকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে: ইউরোপীয় ইউনিয়ন কি তার আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা এবং শরণার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে একটি কঠোর বহিঃসীমান্ত নীতি বজায় রাখতে পারবে? সদস্য দেশগুলোর কাছে এই চুক্তিটি সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়নের জন্য ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দুই বছর সময় রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ইইউ-এর অভিবাসন ব্যবস্থার এক আমূল পরিবর্তন ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা ইউরোপীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

2 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • emakedonia.gr

  • The Guardian

  • The Guardian

  • Atalayar

  • УНН

  • Balkanweb.com

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।