ইউরোপীয় নিরাপত্তা: স্টার্ট-৩ চুক্তির মেয়াদ শেষে মিউনিখ সম্মেলনে পারমাণবিক প্রতিরোধের ওপর গুরুত্বারোপ

সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich

২০২৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন (MSC) ইউরোপীয় নিরাপত্তার কাঠামো পুনর্গঠনের এক জরুরি মঞ্চে পরিণত হয়েছে। এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইউরোপের নিজস্ব স্বায়ত্তশাসিত পারমাণবিক সক্ষমতা তৈরির সম্ভাবনা। মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা গ্যারান্টি নিয়ে ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তা এবং ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি কৌশলগত অস্ত্র হ্রাস চুক্তির (START-III) মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

জার্মানি, সুইডেন এবং পোল্যান্ডের মতো দেশগুলো, যারা ঐতিহাসিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্রের বিরোধিতা করে এসেছে, তারাও এখন তথাকথিত 'প্রতিরোধের ঘাটতি' মেটানোর উপায় নিয়ে সক্রিয়ভাবে আলোচনা করছে। উচ্চপর্যায়ের সামরিক বৈঠকগুলোতে এই জটিল বিকল্পগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ইউক্রেনের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘটনাটি ইউরোপীয় মিত্রদের মনে ওয়াশিংটনের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে গভীর প্রশ্ন জাগিয়ে তুলেছে, যা এই কৌশলগত পরিবর্তনের মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে।

বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্রের প্রায় ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণকারী রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একমাত্র কার্যকর চুক্তি ছিল স্টার্ট-৩ (START-III)। কোনো নবায়ন প্রক্রিয়া ছাড়াই এই চুক্তির বিলুপ্তি এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি করেছে। ঐতিহাসিকভাবে ইউরোপীয় পারমাণবিক প্রতিরোধের ধারণাটি রাজনৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হলেও, বর্তমান কৌশলগত শূন্যতায় মহাদেশটির প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে এটি এখন একটি অপরিহার্য প্রয়োজন হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই মাসের শেষের দিকে ইউরোপের পারমাণবিক প্রতিরোধের বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে, যা এই প্রক্রিয়ায় প্যারিসের কেন্দ্রীয় ভূমিকাকে তুলে ধরবে। ফ্রান্সের পারমাণবিক ছত্রছায়া সম্প্রসারণের মডেলগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে, যেখানে যুক্তরাজ্যের সাথে সমন্বয়ের সম্ভাবনাও রয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসের ঘোষণা অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য ইতিমধ্যে ফ্রান্সের সাথে তাদের স্বাধীন পারমাণবিক বাহিনীর সমন্বয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সিপ্রি (SIPRI)-র ২০২৫ সালের জানুয়ারির হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের কাছে সম্মিলিতভাবে ৫০০-এর বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে।

বিশেষজ্ঞ মহল এই পরিস্থিতির তাৎক্ষণিক মোকাবিলায় বিভিন্ন পদ্ধতির প্রস্তাব দিচ্ছে। ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে ট্রান্সঅটলান্টিক জোটের গুরুত্বের ওপর জোর দিলেও ন্যাটোর কাঠামোর মধ্যেই ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করার দিকে 'চিন্তাধারার প্রকৃত পরিবর্তন' স্বীকার করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, একটি পূর্ণাঙ্গ ইউরোপীয় পারমাণবিক সক্ষমতা তৈরি করতে অন্তত দশ বছর সময় লাগতে পারে, যা বর্তমান সময়ে প্রচলিত সামরিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নেতৃত্বে একটি বিশাল প্রতিনিধি দল এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইতিপূর্বে স্টার্ট-৩ চুক্তির পরে সম্ভবত চীনকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি 'আরও ভালো চুক্তি' করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল। মার্কিন নীতির এই পদ্ধতিগত পরিবর্তন ইউরোপের জন্য এক অস্থির অংশীদারিত্ব তৈরি করছে। কৌশলগত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের অনুপস্থিতিতে রাশিয়া ও আমেরিকার মধ্যে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতার ঝুঁকি বাড়ছে, যার ফলে ইউরোপকে নিজস্ব অবস্থান সুসংহত করতে হচ্ছে যাতে ভবিষ্যতে ওয়াশিংটন ও মস্কোর কোনো চুক্তিতে তাদের স্বার্থ উপেক্ষিত না হয়।

2 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Bloomberg Business

  • Bloomberg

  • Council on Foreign Relations

  • Hertie School

  • Anadolu Agency

  • Reuters

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।