গবেষকরা একটি নতুন ধরনের রোবটিক বাতি প্রোটোটাইপ তৈরি করেছেন, যা অভ্যন্তরীণভাবে 'ওঙ্গো' (Ongo) নামে পরিচিত। এই উদ্ভাবনটি সাধারণ অটোমেশনের সীমা ছাড়িয়ে মানুষের মতো অভিব্যক্তিপূর্ণ অঙ্গভঙ্গি যুক্ত করেছে, যা পিক্সার অ্যানিমেশনের বিখ্যাত চরিত্র 'লাক্সো জুনিয়র'-এর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। অ্যাপলের মেশিন লার্নিং রিসার্চ বিভাগ থেকে উদ্ভূত এই প্রকল্পটি 'ELEGNT' (এক্সপ্রেসিভ অ্যান্ড ফাংশনাল মুভমেন্ট ডিজাইন ফর নন-অ্যানথ্রোপোমর্ফিক রোবট) শিরোনামের একটি গবেষণাপত্রে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এটি রোবটিক্সের ক্ষেত্রে উপযোগিতার পাশাপাশি আবেগগত সংযোগ স্থাপনের ওপর গবেষণার গুরুত্বকে নির্দেশ করে।

এই বাতি প্রোটোটাইপটি দুটি ভিন্ন মোডে কাজ করে: একটি হলো 'ফাংশনাল' বা কার্যকরী মোড, যা নির্দেশের কার্যকর সম্পাদনের জন্য ব্যবহৃত হয়, এবং অন্যটি হলো 'এক্সপ্রেসিভ' বা অভিব্যক্তিপূর্ণ মোড, যা এর নড়াচড়ায় ব্যক্তিত্ব এবং সামাজিক সংকেত যোগ করে। উদাহরণস্বরূপ, আবহাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, এই অভিব্যক্তিপূর্ণ বাতিটি উত্তর দেওয়ার আগে বাহ্যিক পরিস্থিতি যাচাই করার ভান করে শারীরিকভাবে তার অবস্থান পরিবর্তন করে। এটি একটি স্থির, নিছক কার্যকরী প্রতিক্রিয়ার থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি শৈলী। এই নকশার দর্শনটি অ্যাপলের ঐতিহাসিকভাবে সহজলভ্য ডিজাইনের ওপর জোর দেওয়ার নীতির সঙ্গে সংযুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে, যা পিক্সারের গল্প বলার মূল ভিত্তিও বটে।
ছয়টি ভিন্ন কাজের পরিস্থিতিতে তুলনামূলক পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, অভিব্যক্তিপূর্ণ নড়াচড়া ব্যবহারকারীর সম্পৃক্ততা এবং মিথস্ক্রিয়ার অনুভূত গুণমান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। ডিভাইসটি এমন আচরণ প্রদর্শন করে যেমন—সঙ্গীতের তালে এর শেড দুলানো, মনোযোগ দেওয়ার সংকেত দিতে ব্যবহারকারীর দিকে তার 'দৃষ্টি' নিবদ্ধ করা, এবং একটি কাল্পনিক কার্যকলাপ থেকে বাদ পড়লে হতাশা প্রকাশের ভান করা। বাতির মাথা এবং বাহুর কাঠামোতে এই সূক্ষ্ম মানবসদৃশ উপাদানগুলি যুক্ত করা হয়েছে, যা একটি ঘাড় ও মাথার অনুকরণ করে। এর লক্ষ্য হলো সাধারণ, অনমনীয় রোবটিক নকশার তুলনায় মিথস্ক্রিয়াগুলিকে আরও স্বাভাবিক করে তোলা।
যদিও এই ডিভাইসটি বর্তমানে কেবল একটি গবেষণামূলক প্রোটোটাইপ এবং এর বাণিজ্যিক মুক্তির কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নেই, এটি সামাজিক রোবটিক্সের বৃহত্তর শিল্প প্রবণতাকে প্রতিফলিত করে, যেখানে মানব-রোবট মিথস্ক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এই অগ্রগতি অ্যাপলের হোম রোবট নিয়ে চলমান কাজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে একটি নমনীয় বাহু যুক্ত থাকার কথা রয়েছে এবং যা সম্ভবত ২০২৬ বা ২০২৭ সালের মধ্যে বাজারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো এমন প্রযুক্তি তৈরি করা যা কেবল কাজ সম্পন্ন করার চেয়েও ব্যবহারকারীর মধ্যে এক ধরনের অনুভূতি জাগাতে সক্ষম।
তবে, অনুকরণ করা আবেগের এই সংযোজন একটি নকশাগত চ্যালেঞ্জও তৈরি করেছে। যদিও অল্পবয়সী ব্যবহারকারীরা প্রায়শই অভিব্যক্তিপূর্ণ রোবটটিকে সম্পৃক্ততার দিক থেকে উচ্চ রেটিং দিয়েছে, কিছু অংশগ্রহণকারী কঠোরভাবে কাজ-ভিত্তিক পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত অভিব্যক্তিকে অদক্ষ বলে মনে করেছেন। এটি ইঙ্গিত দেয় যে ব্যবহারিক কার্যকারিতার সঙ্গে আবেগগত প্রতিক্রিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন, সম্ভবত অভিব্যক্তির মাত্রা কাস্টমাইজ করার সুযোগ দিয়ে। এই গবেষণাটি পরিষেবা রোবট বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে, যেখানে সাধারণ স্থির ডিভাইসগুলি কীভাবে গভীর সামাজিক সংযোগ অর্জন করতে পারে তা অন্বেষণ করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে সাধারণ-উদ্দেশ্যের এআই রোবটগুলির নকশাকে প্রভাবিত করতে পারে।

