THE TWELVE — সহযোগিতার জীবন্ত সুর, একসঙ্গে থাকার শক্তি ও আনন্দ। প্রথমবার — মঞ্চে। প্রথমবার — পুরো দলসহ।
‘দ্য টুয়েলভ’ অ্যালবাম: হেন হূসের ১২ কণ্ঠস্বর, ৬ দিনের নিবিড় সৃষ্টি, এক দ্বীপে আবদ্ধ সঙ্গীত পরীক্ষা
সম্পাদনা করেছেন: Inna Horoshkina One
তামারা শ্লেসিঙ্গার (MALKA) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত উদ্যোগ ‘হেন হূস’ (Hen Hoose) একটি নতুন সৃষ্টি উন্মোচন করেছে, যার নাম ‘দ্য টুয়েলভ’ (The Twelve)। এটি কেবল গানের একটি সংকলন নয়; এটি একটি গভীর সঙ্গীত পরীক্ষা, যেখানে চূড়ান্ত সুরের মতোই এর গঠন, সৃজন প্রক্রিয়া এবং অন্তর্নিহিত মূল্যবোধগুলি সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রকল্পটি সঙ্গীতের জগতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
THE TWELVE আসছে…
এই অ্যালবামে বিভিন্ন ঘরানা ও প্রজন্মের মোট বারোজন নারী ও নন-বাইনারি শিল্পীর অংশগ্রহণ রয়েছে। এই সম্পূর্ণ কাজটি সম্পন্ন হয়েছে ইউরোপের অন্যতম প্রত্যন্ত রেকর্ডিং স্থান, আউটার হিব্রিডসের লিউইস দ্বীপে অবস্থিত ‘ব্ল্যাক বে স্টুডিওতে’ (Black Bay Studio) এক সপ্তাহব্যাপী নিবিড় আবাসিক কর্মসূচির মাধ্যমে।
সঙ্গীতের জন্য দ্বীপ যেভাবে এক উপকরণ
স্থান নির্বাচন ছিল এই শৈল্পিক পরিকল্পনার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ২০১৭ সালে একটি পরিত্যক্ত মাছ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রকে রূপান্তরিত করে এই স্টুডিওটি তৈরি করা হয়। এটি কেবল একটি চমৎকার অ্যাকোস্টিক পরিবেশই দেয় না, বরং এক বিশেষ ধরনের বিচ্ছিন্নতার পরিবেশও সৃষ্টি করে। এখানে শহুরে ব্যস্ততা, অ্যালগরিদমের চাপ অথবা শিল্পজগতের কোনো প্রকার তাড়াহুড়ো নেই।
উপস্থিত রয়েছে কেবল মানুষ, শব্দ এবং সময়। দ্বীপের এই বিচ্ছিন্নতা এক প্রাকৃতিক ফিল্টারের মতো কাজ করে; এটি বাইরের কোলাহল থেকে সঙ্গীতকে মুক্ত করে এবং তাকে এক বিশুদ্ধ উপস্থিতির দিকে ফিরিয়ে আনে। এই পরিবেশে শিল্পীরা নিজেদের গভীরে প্রবেশ করতে বাধ্য হন, যা সঙ্গীতের গুণগত মানকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়।
গতিশীলতা মানেই সততা
সৃজন প্রক্রিয়াটি ইচ্ছাকৃতভাবে দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়েছিল। শিল্পীরা পালাক্রমে কাজ করে মাত্র তিন দিনের মধ্যে নয়টি গান রেকর্ড করতে সক্ষম হন, এবং পুরো প্রকল্পটি এক সপ্তাহের মধ্যে সমাপ্ত হয়। এই গতি কোনো প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দেয় না; বরং এটি মুহূর্তের ওপর গভীর আস্থা রাখার প্রতীক।
যখন অন্তহীন সংশোধনের জন্য সময় থাকে না, তখন ভেতরের সমালোচক বা সেন্সর আপনাআপনি অদৃশ্য হয়ে যায়। সঙ্গীত তখন ‘এই মুহূর্তে’র অবস্থাটিকে সরাসরি ধারণ করে, যা এক জীবন্ত অভিজ্ঞতার ছাপ রেখে যায়। ফলস্বরূপ, অ্যালবামটি কেবল একটি বাণিজ্যিক পণ্য না হয়ে, সম্মিলিত অনুভূতির এক জীবন্ত দলিল হয়ে ওঠে।
গোষ্ঠীগত সৃজনশীলতা, শ্রেণিবিন্যাস নয়
২০২০ সালে স্কটিশ সঙ্গীত শিল্পে লিঙ্গ বৈষম্যের প্রতিবাদ হিসেবে ‘হেন হূস’ যাত্রা শুরু করে। প্রাথমিকভাবে এটি একটি ছোট লকডাউন প্রকল্প হিসেবে পরিকল্পিত হলেও, দ্রুত এটি একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়। এখানে গানের লেখা থেকে শুরু করে মাস্টারিং পর্যন্ত উৎপাদনের প্রতিটি ধাপ নারী ও নন-বাইনারি শিল্পীদের দ্বারা পরিচালিত হয়।
হেন হূসের লক্ষ্য কেবল অ্যালবাম প্রকাশেই সীমাবদ্ধ নয়; তাদের কার্যক্রমের পরিধি আরও বিস্তৃত:
- শিল্পীদের জন্য মেন্টরশিপ প্রদান,
- অডিও প্রোডাকশন সংক্রান্ত কর্মশালার আয়োজন,
- কারিগরি পেশায় প্রতিভাধরদের সমর্থন,
- শিল্প জগতের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কিউরেশন।
এটি এক বিকল্প পরিকাঠামো, যেখানে ব্যক্তিগত অহংকারের পরিবর্তে সম্মিলিত মালিকানাকে কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। এখানে প্রত্যেকেই সমান অংশীদার।
‘দ্য টুয়েলভ’-এর কণ্ঠস্বরসমূহ
‘দ্য টুয়েলভ’ প্রকল্পে নিম্নলিখিত শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেছেন:
- সুসান বিয়ার (Susan Bear)
- ইঞ্জি থমসন (Inge Thomson)
- শিয়ার্স (SHEARS)
- ফ্রান্সিস ম্যাককি (Francis McKee)
- আমুনডা (AMUNDA)
- ঝানা গ্যাব্রিয়েল (Jhana Gabriel)
- জিল লোরিয়ান (Jill Lorean)
- কারিস ক্রসবি (Karis Crosbie)
- রে এগস (Rae Aggs)
- মালকা (MALKA)
- এমা পোলক (Emma Pollock)
- কার্লা জে. ইস্টন (Carla J. Easton)
এদের মধ্যে এমন স্রষ্টারা আছেন যাদের কাজ হলিউডের চলচ্চিত্র এবং নেটফ্লিক্স সিরিজের পর্দায় স্থান পেয়েছে, আবার অনেকে মর্যাদাপূর্ণ সঙ্গীত পুরস্কারের মনোনীত বা বিজয়ী। তবে এই প্রকল্পে তাদের পরিচিতি গৌণ। এখানে গুরুত্বপূর্ণ ‘কে’ নয়, বরং ‘একসঙ্গে কীভাবে’ কাজ করা হলো, সেটাই প্রধান বিবেচ্য বিষয়।
‘ইকুয়ালাইজার’ থেকে ‘দ্য টুয়েলভ’-এর অগ্রগতি
হেন হূসের প্রথম অ্যালবাম ‘ইকুয়ালাইজার’ (Equaliser) স্কটিশ অ্যালবাম অফ দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হয়েছিল এবং এটি ছিল এই গোষ্ঠীর দর্শনের ভিত্তিপ্রস্তর। ‘দ্য টুয়েলভ’ সেই ধারণাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যায়। এটি সম্মিলিত পরিবেশনার আনন্দের ধারণাটিকে গভীর করে এবং প্রমাণ করে যে সঙ্গীতে সমতা কেবল একটি স্লোগান নয়, বরং এক কার্যকর কর্মপদ্ধতি।
এই প্রকল্পটি সেল্টিক কানেকশনস (Celtic Connections) উৎসবে মঞ্চস্থ হয়েছিল, যেখানে এটিকে কেবল একটি অ্যালবাম হিসেবে নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক বক্তব্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
বিশ্বের ধ্বনিতে এর অবদান
‘দ্য টুয়েলভ’ বিশ্বের সামগ্রিক ধ্বনিতে এক সম্মিলিত সৃষ্টির অনুরণন যোগ করে। এটি এমন এক সঙ্গীত যেখানে ক্ষমতার কোনো কেন্দ্র নেই, কিন্তু মনোযোগের একটি কেন্দ্র রয়েছে। এখানে কোনো প্রতিযোগিতা নেই, আছে কেবল সুরে সুরে মিলে যাওয়ার প্রচেষ্টা।
এই অ্যালবামটি হয়তো খুব উচ্চকিত হওয়ার চেষ্টা করে না। বরং এর লক্ষ্য হলো সত্যনিষ্ঠ হওয়া। এবং সম্ভবত, আজকের দিনে ভবিষ্যতের সুর এমনই—যখন বহু কণ্ঠস্বর এক শ্বাসে পরিণত হয়।
উৎসসমূহ
The National
The National
Celtic Connections
Monorail Music
The List
Hen Hoose
