ওয়াল স্ট্রিটের একটি সাধারণ সকালের লেনদেনের সময় হঠাৎ করেই গেমস্টপের (GameStop) শেয়ার কেনাবেচার পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যায়, কারণ তখন ট্রেডারদের চ্যাট গ্রুপ এবং রেডিট (Reddit) জুড়ে ৫৬ বিলিয়ন ডলারে ইবে (eBay) কিনে নেওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ে। যদিও কোনো কোম্পানির পক্ষ থেকেই আলোচনার কোনো আনুষ্ঠানিক ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি, তবুও মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে শেয়ারের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়ে যায়। মার্কেটওয়াচ (MarketWatch) এবং বেনজিঙ্গা (Benzinga) জানিয়েছে যে, এই খবরটি প্রথমে মেমে-স্টক সম্পর্কিত বিভিন্ন বন্ধ টেলিগ্রাম চ্যানেল ও ফোরামে দেখা যায় এবং পরবর্তীতে তা মূলধারার সংবাদ মাধ্যমে পৌঁছায়।
এই ঘটনায় শুধু এই দুই পাবলিক কোম্পানির সুনামই সংকটে পড়েনি, বরং গত তিন বছর ধরে গেমস্টপকে ঘিরে খুচরা বিনিয়োগকারীদের ভঙ্গুর প্রত্যাশাও ধাক্কা খেয়েছে। এই গুজব যদি সত্যি হয়, তবে ধুঁকতে থাকা একটি ভিডিও গেম বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান রাতারাতি ই-কমার্সের একটি বড় শক্তিতে পরিণত হবে; আর যদি এটি মিথ্যা হয়, তবে রায়ান কোহেন ও তার দলের প্রতিটি প্রাতিষ্ঠানিক বক্তব্যের ওপর মানুষের আস্থা নতুন করে হোঁচট খাবে। উভয় ক্ষেত্রেই শেয়ারের অস্থিরতা নিশ্চিত, যার ফলে বাস্তব কৌশলগত সিদ্ধান্তগুলো আড়ালে চলে যাচ্ছে।
বেনজিঙ্গার তথ্য অনুসারে, সম্ভাব্য চুক্তি সম্পর্কিত প্রথম খবরটি নিউ ইয়র্ক সময় সকাল ৮:৪৭ মিনিটে এমন একটি অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত হয় যা আগেও গেমস্টপের অংশীদারিত্ব নিয়ে অপ্রমাণিত তথ্য ছড়িয়েছিল। এর প্রায় চল্লিশ মিনিট পর মার্কেটওয়াচ 'অযাচাইকৃত' (unverified) ট্যাগ দিয়ে একটি ছোট প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে তারা 'ট্রেডিং জগতের ঘনিষ্ঠ সূত্র' উল্লেখ করে। কোনো কোম্পানিই এসইসি (SEC) ওয়েবসাইটে এর কোনো প্রতিবাদ বা খণ্ডন লিপি প্রকাশ করেনি, যা নতুন করে জল্পনা-কল্পনার জ্বালানি হিসেবে কাজ করেছে; অর্থাৎ কোনো মন্তব্য না থাকাকেই অনেকে 'হয়তো কিছু একটা ঘটছে' হিসেবে ধরে নিয়েছেন।
এই ঘটনাটি স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে যে, লোকসানের মুখে থাকা বিনিয়োগ বজায় রাখার যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে খুচরা বিনিয়োগকারীরা কতটা মরিয়া হয়ে একটি বড় গল্পের অপেক্ষা করেন। এত বড় মাপের চুক্তির জন্য বিশাল ঋণের প্রয়োজন হবে অথবা শেয়ারের মূল্য কমে যাবে, কিন্তু 'আর/ওয়ালস্ট্রিটবেটস' (r/wallstreetbets) সম্প্রদায়ের একাংশের কাছে গেমস্টপকে 'নতুন আমাজন' হিসেবে দেখার স্বপ্ন আর্থিক যুক্তির চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই গুজবটি আসলে একটি আয়নার মতো কাজ করছে: এটি কোম্পানিগুলোর পরিকল্পনার চেয়েও বড় মেমে-স্টক থেকে একটি বাস্তব শিল্পদানবে পরিণত হওয়ার সমষ্টিগত আকাঙ্ক্ষাকেই বেশি প্রতিফলিত করে।
পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রায়ান কোহেনের জন্য এ ধরনের সাময়িক উত্থান মানেই হলো এক ধরণের নিরন্তর চাপ। প্রতিদিন যখন ব্যবসায়িক ফলাফলের বদলে কেবল গুজবের ওপর ভিত্তি করে শেয়ারের দাম বাড়ে, তখন তাকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শান্ত রাখা এবং কোম্পানির প্রকৃত মুনাফা বৃদ্ধির কাজের মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে হয়। যখন কোনো মৌলিক কারণ ছাড়াই শেয়ারের দাম আকাশচুম্বী হয়, তখন তার প্রকাশ্য বক্তব্য হয় সমর্থন হিসেবে অথবা প্রত্যাশা ভঙ্গের বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে গণ্য হওয়ার ঝুঁকি থাকে—তৃতীয় কোনো পথ এখন আর তাদের সামনে খোলা নেই।
প্রথাগত ব্যাংকগুলোর বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমানে ইবে-র বাজার মূলধন প্রায় ২৮ থেকে ৩০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে উঠানামা করছে, যেখানে গেমস্টপের হাতে নগদ অর্থ আছে মাত্র ১.২ বিলিয়ন ডলার। অর্থায়নের সবচেয়ে অনুকূল পরিস্থিতিতেও এই চুক্তির জন্য কয়েকশ কোটি ডলারের ঋণের প্রয়োজন হবে, যা উভয় পক্ষের জন্যই ঝুঁকির ভারসাম্য বদলে দেবে। তবে এখন পর্যন্ত একমাত্র নিশ্চিত তথ্য হলো ট্রেডিং ভলিউমের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নথিপত্রে কোনো ধরনের দলিলের অনুপস্থিতি।
এখন প্রশ্ন হলো, খুচরা বিনিয়োগকারীরা মুনাফা ও আয়ের প্রকৃত পরিসংখ্যান দাবি করার আগে এ ধরণের গুজবের ওপর ভিত্তি করে বাজারের বিশ্বাসযোগ্যতা আর কতদিন টিকে থাকবে।



