একটি রুদ্ধদ্বার আদালতের মামলার ফাঁস হওয়া নথি থেকে জানা গেছে যে, ওপেনএআই-এর সাবেক টেকনিক্যাল ডিরেক্টর দাবি করেছেন, স্যাম অল্টম্যান বছরের পর বছর ধরে অভ্যন্তরীণ সতর্কতা উপেক্ষা করেছেন এবং তথ্য ম্যানিপুলেট করার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ কর্মীদের আস্থা নষ্ট করেছেন। রয়টার্স এবং বিজনেস ইনসাইডারের হাতে আসা এই তথ্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন কোম্পানিটি বড় ধরনের বিনিয়োগ এবং শেয়ার বাজারে আসার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে।
এখানে শুধু অল্টম্যানের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিই নয়, বরং গুগল এবং অ্যানথ্রোপিকের মতো প্রবল প্রতিযোগিতার মুখে দক্ষ কর্মীদের ধরে রাখা এবং নতুন প্রতিভা আকর্ষণের সক্ষমতাও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। নেতৃত্বের সততা নিয়ে জনসমক্ষে কোনো প্রশ্ন উঠলে তা বিনিয়োগকারীদের পিছিয়ে দিতে পারে এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ক্লান্ত বিশেষজ্ঞদের চলে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে।
জানা গেছে যে, এসব অভিযোগ মূলত এআই মডেলের ঝুঁকি সংক্রান্ত তথ্য পদ্ধতিগতভাবে গোপন করা এবং যারা সতর্কতার পক্ষে ছিলেন সেই কর্মীদের ওপর চাপের সাথে সম্পর্কিত। আদালতের নথির মাধ্যমে এই তথ্য ফাঁস হয়েছে যার প্রকৃত উৎস এখনো প্রকাশ করা হয়নি, আর সংবাদমাধ্যমগুলো কোম্পানির অভ্যন্তরীণ বেনামী সূত্রের বরাত দিয়েছে। প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় পর্যন্ত অল্টম্যান বা ওপেনএআই-এর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ধরনের ঘটনা সাধারণত কাকতালীয়ভাবে ঘটে না; বরং এমন সময়েই সামনে আসে যখন অংশীদার এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে নেতার ভাবমূর্তি স্থিতিশীল থাকা অত্যন্ত জরুরি। এখানে বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা এবং প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তার মধ্যে যে দীর্ঘস্থায়ী দ্বন্দ্ব রয়েছে তা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে, যা আগেও ওপেনএআই-এর বড় বড় ছাঁটাই ও পুনর্গঠনের কারণ হয়েছে।
অল্টম্যানকে এখন একই সাথে বাইরের আলোচনা নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে এবং নিজের অভ্যন্তরীণ দলের আস্থা ধরে রাখতে হচ্ছে, যাদের অনেকেই আগের সংকটগুলোর কথা ভোলেননি। অন্যদিকে, সাবেক টেকনিক্যাল ডিরেক্টর নিজের অবস্থান প্রকাশ্যে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন, সম্ভবত তাদের সমর্থন পাওয়ার আশায় যারা প্রযুক্তির বিকাশের গতি নিয়ে একই রকম উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন।
এই পরিস্থিতি প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সেই পরিচিত ধারারই পুনরাবৃত্তি করছে যেখানে প্রতিষ্ঠাতার ক্যারিশমা কর্মীদের পুঞ্জীভূত অসন্তোষের মুখে পড়ে, তবে এবার ঝুঁকির মাত্রা অনেক বেশি কারণ এটি এমন এক প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যা গোটা বিশ্বকে বদলে দিতে সক্ষম। এখন দেখার বিষয়, উভয় পক্ষ এই দ্বন্দ্ব নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে পারে কি না নাকি জনসমক্ষে আরও নতুন নথিপত্র ফাঁস হতে থাকে।



