‘দ্য ইন্টারপ্রিটার’ (অফিশিয়াল মুক্তিপ্রাপ্ত নাম— ‘ক্যান দিস লাভ বি ট্রান্সলেটেড?’) একটি অনন্য প্রজেক্ট। এর শেকড় কোরীয় হলেও এটি মূলত ইউরোপীয় বুদ্ধিবৃত্তিক থ্রিলারের ধাঁচে নির্মিত, যা অনেক সমালোচককেই দ্বিধায় ফেলে দিয়েছে।
সিনেমার গল্পটি মেধাবী ভাষাবিদ জু হো-জিনকে নিয়ে, যিনি অনেক ভাষায় কথা বলতে পারলেও মানুষের আবেগ বুঝতে একেবারেই অপটু। এক বৈশ্বিক সফরের সঙ্গী হিসেবে বিশ্বখ্যাত সুপারস্টার চা মু-হি তাকে নিয়োগ করেন। তবে এই সাধারণ চাকরিটি দ্রুতই স্পাই থ্রিলারের মোড় নেয়: চরিত্রগুলো একটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের জালে আটকা পড়ে, যেখানে হো-জিনকে বন্দুকের নলের মুখে গোপন আলাপচারিতার অনুবাদ করতে হয়। ছবির মূল আকর্ষণ হলো এর লড়াইটি শারীরিক পেশিশক্তির নয় বরং শব্দের— বেঁচে থাকার জন্য শত্রুর মিথ্যাকে সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করাই এখানে মুখ্য।
এই চলচ্চিত্রে প্রখ্যাত পশ্চিমা অভিনেতাদের উপস্থিতি একে বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা দিয়েছে এবং চিত্রায়ণে ‘ইউরোপীয়’ আভিজাত্য ফুটিয়ে তুলেছে।
এটি কেবল গৎবাঁধা অ্যাকশন বা মেলোড্রামা নয়। এটি আস্থার ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি মনস্তাত্ত্বিক সিনেমা: ভিন্ন ভাষায় কথা বলার পরেও একজন মানুষ মিথ্যা বলছে না, তা কীভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়? ন্যূনতম স্পেশাল ইফেক্ট, গভীর মনস্তত্ত্ব এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের নান্দনিক চিত্রায়ণের কারণেই এটি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হয়েছে এবং নেটফ্লিক্সের শীর্ষ তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।



