নেটফ্লিক্সের নতুন সিনেমা 'রুমমেটস' (Roommates) মুক্তি পেয়েছে মাত্র কয়েক দিন আগে, গত ১৭ই এপ্রিল।
এটি একটি আমেরিকান কলেজের পটভূমিতে নির্মিত 'জটিল বন্ধুত্ব' কেন্দ্রিক কিশোর কমেডি। সিনেমার মূল গল্প আবর্তিত হয়েছে দুই নবাগত ছাত্রীকে ঘিরে: নম্র ও লাজুক ডেভন (স্যাডি স্যান্ডলার) এবং তার ঠিক বিপরীত স্বভাবের আত্মবিশ্বাসী ও আকর্ষণীয় সেলেস্তা (ক্লোই ইস্ট)। সেরা বন্ধু আর রুমমেটদের এই আদর্শ সম্পর্কটি খুব দ্রুতই পরোক্ষ আক্রমণ, ছোটখাটো ষড়যন্ত্র আর ক্যাম্পাসে সামাজিক মর্যাদা দখলের লড়াইয়ে এক রীতিমতো 'শীতল যুদ্ধে' রূপ নেয়।
সিনেমাটি তার শক্তিশালী অভিনয়শিল্পী এবং হাস্যরসের কারণে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন অ্যাডাম স্যান্ডলারের মেয়ে স্যাডি স্যান্ডলার, আর পার্শ্ব চরিত্রে দেখা গেছে স্টিভ বুসেমি ও নাতাশা লিওনের মতো তারকাদের। পুরো কাহিনীটি বেশ বিদ্রূপাত্মকভাবে তুলে ধরা হয়েছে—যেখানে অনুষদের ডিন বছরের পর বছর পর সেই মহাকাব্যিক সংঘাতের স্মৃতিচারণ করেন। এটি অনেকটা 'মিন গার্লস'-এর আধুনিক রূপান্তর, যেখানে কেবল স্কুলজীবনের চক্রান্ত নয়, বরং নারী বন্ধুত্বের জটিলতা এবং প্রাপ্তবয়স্কদের নতুন জগতে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
একটি অলস সন্ধ্যার জন্য এটি দারুণ বুদ্ধিদীপ্ত ও হালকা মেজাজের সিনেমা, যা বর্তমান সময়ের শিক্ষার্থীদের প্রথাগত ধারণাগুলোকে নিয়ে চমৎকার রসিকতা করে। অপরিচিত কারো সাথে থাকার অভিজ্ঞতা আছে এমন যে কেউ সিনেমার প্রতিটি ঘটনার সাথে নিজের জীবনের মিল খুঁজে পাবেন—তা হোক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে ঝগড়া কিংবা পারস্পরিক পরিচিতদের প্রতি ঈর্ষা। সিনেমাটি একাধারে প্রাণবন্ত ও ঝাঁঝালো, যেখানে অস্বস্তিকর সব মজার মুহূর্তের পাশাপাশি ভুল বোঝাবুঝির কারণে গভীর সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার এক হূদয়স্পর্শী নাটকীয়তা ফুটে উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই যুগে যখন সব সম্পর্কই ভার্চুয়াল, তখন এই সিনেমাটি বাস্তব জীবনের ঘাত-প্রতিঘাতের এক পরম তৃপ্তি দেয়। ভবিষ্যতে যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে স্পেশাল ইফেক্ট তৈরি হবে আর বাসস্থানের খরচ আকাশচুম্বী হবে, তখন এই ধরনের সফল সিনেমাগুলো বিনোদনের পাশাপাশি এক ধরণের মানসিক থেরাপি হিসেবে কাজ করবে। শেয়ার্ড বাথরুম বা কমন রুম নিয়ে এই বিশ্বজনীন হাসি কেবল সাময়িক কোনো ট্রেন্ড নয়, বরং এটি এক নতুন যুগের ইশতেহার যেখানে পর্দার গল্প সরাসরি আপনার দরজায় কড়া নাড়ে।



